২ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহী-৪ আসন

তৃণমূলে বিভক্তি, শঙ্কায় নৌকা-ধানের শীষ


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার
তৃণমূলে বিভক্তি, শঙ্কায় নৌকা-ধানের শীষ

রক্তাক্ত জনপদ বাগমারা। সর্বহারা নিধনের নামে সেখানকার মাটি এক সময় রক্তাক্ত হতে থাকে। তাতে তৎকালীন সরকারের দু’একজন মন্ত্রী আর নেতার ইন্ধনও কাজ করে। ২০০৮ সালে বাগমারা স্বতন্ত্র আসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে রক্তাক্ত এই জনপদের রাজনীতি অনেকটাই বদলে গেছে। বদলে গেছে অনেকের রাজনৈতিক পরিচয়ও। তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাড়া পড়েছে তৃণমূলে। তারাই নির্ধারণ করবে আগামীর সংসদ সদস্য। তবে নেতাদের টানা হেঁচড়ায় সেই তৃণমূলে দেখা যাচ্ছে বিভক্তি। তৃণমূলের এই বিভক্তি রেখা কে কীভাবে মুছে দিয়ে বিজয় পতাকা উড়াবেন- তাই-ই জানাচ্ছেন গোনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও রাজশাহী অফিসের প্রধান ইলিয়াস আরাফাত

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে নেতৃত্বের লড়াইয়ে প্রধান বাধা বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতির বিভক্তি। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এই বড় দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজের পক্ষে তৃণমূলের সমর্থন আদায়ের তৎপরতায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ তিনভাগে আর বিএনপি চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ বিভক্তি রেখা স্পষ্ট করে তুলেছে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বাগমারা আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু, তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

বিএনপির প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক আবদুল গফুর ও জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু।

বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আগাম সরব হয়ে উঠেছে ভোটের রাজনীতি। কে কোন দলের মনোনয়ন পেতে পারেন, কেন পাবেন, কার পাওয়া উচিত, কে কেমন এলাকার উন্নয়ন করেছেন এ সব তুলে দলে আলোচনা সমালচনায় এখন সরগরম গ্রামগঞ্জ ও পাড়া মহল্লা। এ দিক থেকে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে নেতাদের নেতৃত্বের লড়াইয়ে তৃণমূলের রাজনীতিতে বিভক্তি দেখা দিলেও ভোটের আগে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন বলে মনে করছেন নেতারা।

রাজশাহী-৪ আসনটি সৃষ্টি হয় ২০০৮ সাল থেকে। আগে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল রাজশাহী-৩ আসন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেবল বাগমারা নিয়েই একটি আসন করা হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হন।

সম্ভাব্য প্রার্থী

এবার এনামুল হক ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন চান বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। দলের মনোনয়নের আশায় নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ে মাঠে রয়েছেন তিনজনই। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তবে সে দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন এমপি এনামুল হক।

এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন বিএনপি নেতা আবু হেনা। তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ নিয়ে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য, সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে ভিড়ে যাওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন সাবেক এই এমপি। তবে আগামী নির্বাচনে আবারো ধানের শীষের জন্য কাজ শুরু করেছেন। এলাকায় না থাকলেও ফোন করে দলের তৃণমূলের নেতাদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ছাড়াও এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আমেরিকা প্রবাসী ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়া আবদুল গফুর মনোনয়ন চাইবেন এবার। তারাও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

চ্যালেঞ্জের মুখে ফারুক-ব্যারিস্টার আমিনুল
মিনুকে টপকে হ্যাট্রিক করতে যাচ্ছেন বাদশা!
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই বহিরাগত

গোনিউজ/এন