২ কার্তিক ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭ , ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহী-৩ আসন

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই বহিরাগত


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৭ বৃহস্পতিবার
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই বহিরাগত

পবা আর মোহনপুর এই দুই উপজেলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের লাগোয়া। হ্যাভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি এলাকা বলা যায়। সে কারণেই এ আসন ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাশাীদের দৌড়ঝাঁপ একটু বেশিই। তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে এখানে নৌকা আর ধানের শীষের জন্য নেতাদের সারি দীর্ঘতর হচ্ছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বহিরাগত। যাদের অনেকেই এ এলাকা মাড়াননি কখনও। তবে বহিরগাত যতই আসুক, স্থানীয়দের সঙ্গে তারা পাল্লা দিতে পারবেন কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন। আর তৃণমূলের সমর্থন পেয়ে আদৌ বিজয়ের হাসি হাসতে পারবেন কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের খবর জানাচ্ছেন গোনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ও রাজশাহী অফিসের প্রধান ইলিয়াস আরাফাত

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের নির্বাচনী এলাকার একটি বড় অংশ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চারপাশ ঘিরে থাকায় এ সংসদীয় আসনের গুরুত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অনেকটাই বেশি। গুরুত্বের দিক থেকে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে এর অবস্থান দ্বিতীয় বলে মনে করা হয়।

এসব কারণে রাজশাহীর এক ঝাঁক নেতার দৃষ্টি এখন পবা-মোহনপুর আসনটির দিকে। যাদের অধিকাংশই বহিরাগত। যারা ওই এলাকার তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না। বাকি পাঁচ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সবাই স্থানীয় হলেও শুধু এ আসনের সবাই বহিরাগত।

পবা-মোহনপুর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) আয়েন উদ্দিন, সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল প্রমুখ।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন আগ্রহীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির হোসেন ও কামরুল মনির, দলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চাঙা হয়ে উঠেছে রাজশাহী-৩ সংসদীয় আসনের তৃণমূলের রাজনীতি। বিশেষ করে বড় দুই দলের এক ঝাঁক মনোনয়ন প্রত্যাশীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এ আসন। বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। ইতোমধ্যেই এ আসনটির গ্রামগঞ্জে ছেয়ে গেছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানার আর ফেস্টুনে। ফলে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোটের প্রচারণায় এখন এক ধাপ এগিয়ে এ আসনটি।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন সৃষ্ট হয় ২০০৮ সালের নির্বাচনে। এ আসনের প্রথম এমপি হন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। সে সময় এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী কবীর হোসেন।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের মনোনয়ন থেকে ছিটকে পড়েন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তখন মনোনয়ন পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আয়েন উদ্দিন। তবে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। বিপুল ভোটের ব্যবধানে আয়েন উদ্দিনের কাছে পরাজিতও হন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন রাজশাহীর তরুণ এমপি আয়েন উদ্দিন ও সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। তাদের দু’জনের বাড়ি ওই আসনে। এর মধ্যে আয়েন উদ্দিনের বাড়ি মোহনপুরে ও মেরাজ উদ্দিন মোল্লার বাড়ি পবায়।

তারা ছাড়াও এবার এ আসনটিতে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের আরও তিন তরুণ নেতা। এরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মানজাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান। এদের মধ্যে আসাদুজ্জামান আসাদের বাড়ি সিটি করপোরেশন এলাকায় হলেও মানজালের বাড়ি পবায় ও আলফোরের বাড়ি মোহনপুরে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ নেতার মধ্যে বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিন শক্ত অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন তারা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বেশ। আগামী নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় একটি দল। এখানে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। তবে দলের নেত্রী অনেক বিচক্ষণ। তিনি যাকে ভালো মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দিবেন। আমি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। আমি শুধু আমার কাজটা ঠিকভাবে করে যাওয়ার চেষ্টা করি।

এদিকে, বিএনপি থেকেও একাধিক নেতা দলের মনোনয়ন চেয়েছেন এ আসনে। ২০০৮ সালে এখানে নির্বাচন করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর হোসেন। এবারও এ আসনে তার নাম উচ্চারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা কামরুল মনির, রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু ও জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক রায়হান মনোনয়ন চাচ্ছেন এ আসন থেকে।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র রায়হানুল হক রায়হানের বাড়ি পবা উপজেলা এলাকায়। বাকি পাঁচজনই বহিরাগত। তারা সবাই রাজশাহী সিটি এলাকায় বসবাস করেন। এদের মধ্যে শাহীন শওকতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, শফিকুল হক মিলনের বাড়ি গোদাগাড়ী, মতিউর রহমান মন্টুর কুড়িগ্রাম জেলায়। তবে এদের মধ্যে শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছেন শফিকুল হক মিলন, মতিউর রহমান মন্টু ও বিএনপির তরুণ নেতা রায়হানুল হক রায়হান। তারা প্রতিদিন এলাকায় অবস্থান করে গণসংযোগসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন আদায়ে মতবিনিময় করছেন।

মিনুকে টপকে হ্যাট্রিক করতে যাচ্ছেন বাদশা!

গোনিউজ/এন