ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

এটাই পাকিস্তান


গো নিউজ২৪ | স্পোর্টস ডেস্ক: প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০১৯, ০৯:৩৭ এএম আপডেট: জুন ১৩, ২০১৯, ০৯:৩৯ এএম
এটাই পাকিস্তান

এক ম্যাচে একটা দল কয়টা ভুল করতে পারে। জোরে গেলে একটা কিংবা দুইটা। কিন্তু সেটা যদি হয় পাকিস্তান। তাহলে তো অগৌনিত। গতকালকের ম্যাচে সেই চিত্রই দেখা গেছে। এবারের বিশ্বকাপে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার পর অধিকাংশ দলকেই হারতে হয়েছে। এরপরও টস জিতে সেই একই ভুল করে বসল পাকিস্তান। এরপর তো বাজে বোলিং আর ছন্নছাড়া ফিল্ডিংয়ে রানের পাহাড় গড়েই বসছিল অস্ট্রেলিয়া। একমাত্র আমিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহটা নাগালের মধ্যে রাখে পাকিস্তান।

ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও একই অবস্থা পাকিস্তানের। ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৫ ওভার পর্যন্তও জয়ের পথে ছিল পাকিস্তান। মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তুলে ফেলেছিল দলটি। কিন্তু পাকিস্তান তো চিরকালীন অনিশ্চয়তায় ভরপুর এক দল—সেই নাম রাখতেই বুঝি পতন শুরু হলো ইনিংসের দ্বিতীয় অংশের শুরু (২৬তম ওভারে প্রথম বল) থেকে!

শুরুতে জয়ের পথে থেকে দলটি পথচ্যুত হল আশ্চর্য এক পতনে। এরপর পেসার ওয়াহাব রিয়াজ হঠাৎ করেই ব্যাটসম্যান হয়ে উঠলে শেষ দিকে টান টান উত্তেজনা ফেরে ম্যাচে। এ যেন চিরায়ত পাকিস্তান! কোনো কিছুই নিশ্চিত না। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের দুর্দান্ত এক ওভারে ৪১ রানের ব্যবধানে হারতে হয় পাকিস্তানকে। কখনো কখনো নিশ্চিত হারা ম্যাচ জিতে যাওয়া। আবার কখনো কখনো জেতা ম্যাচ তালগোল পাকিয়ে হেরে যাওয়া। এটাই পাকিস্তান। যেদিন থেকে এই দলটার পথচলা শুরু সেদিন থেকেই ছন্নছাড়া এক দল পাকিস্তান।

১৩৬ রানে ২ উইকেট থাকার পর ১৬০ রানে ৬ উইকেটের সমীকরণ মেলাতে একটুও কষ্ট করতে হয়নি পাকিস্তানকে। দ্রুত ৪ উইকেট হারানোর পর পেসার হাসান আলী অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করেছিলেন। ৩ ছক্কা ও ৩ চারে ১৫ বলে ৩২ রানের ‘ক্যামিও’ ইনিংস খেলা হাসান ওপরের ব্যাটসম্যানদের যেন বোঝাতে চেয়েছিলেন, এভাবে ব্যাট করতে হয়। ৩৪তম ওভারে(৩৩.৫) কাটায় কাটায় ঠিক দলীয় ২০০ রানে হাসানকেও হারায় পাকিস্তান।

কেন রিচার্ডসনকে ছক্কা মারতে গিয়ে খাজাকে ক্যাচ দেন হাসান। জয় থেকে পাকিস্তান তখন ৯৬ বলে ১০৮ রানের দূরত্বে। এক প্রান্তে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ তখন যেন ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’—হাতে যে মাত্র ৩ উইকেট। কে জানে, ওই আশ্চর্য পতন না ঘটলে ফলটা অন্যরকমও হতে পারত।

দ্বিতীয় (৫৪) ও তৃতীয় উইকেটে (৮০) রানের জুটি পেয়েছে পাকিস্তান। এরপর হাসান ও ওয়াহাব রিয়াজকে নিয়ে হাল ছাড়েননি সরফরাজ। পেসার থেকে ব্যাটসম্যান বনে যাওয়া ওয়াহাব অষ্টম উইকেটে সরফরাজের সঙ্গে ৬৩ বলে ৬৪ রান তুলে ম্যাচে ফেরান পাকিস্তানকে। ওয়াহাব এদিন অবিশ্বাস্য ব্যাট করেছেন। ম্যাক্সওয়েল-কাল্টার নাইলকে সীমানার ওপাশে পাঠাতে কুণ্ঠা করেননি। সরফরাজ সিঙ্গেলস নিয়ে স্ট্রাইক দিয়ে গেছেন ওয়াহাবকে।

জয়ের জন্য শেষ ৭ ওভারে ৫১ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ৪৪তম ওভারে ৬ রান নিয়ে লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যেই রাখেন সরফরাজ-ওয়াহাব। ৩৬ বলে দরকার ৪৫ রান। ম্যাচে টান টান উত্তেজনা। কিন্তু পরের ওভারে ওয়াহাব ও আমিরকে তুলে নিয়ে ম্যাচটা আবারও পাশার দানের মতো উল্টে দেন স্টার্ক। ৩ ছক্কা ও ২ চারে ৩৯ বলে ৪৫ রান করেন ওয়াহাব। ৪৫তম ওভারে স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংটাই শেষ পর্যন্ত ভাগ্য ঠিক করে দেয় ম্যাচের। বাকি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। পরের ওভারে সরফরাজকে রান আউট করে তা সেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ৪০ রান করা সরফরাজ এদিন অসহায়ের মতো দেখেছেন দলের হার।

গোনিউজ২৪/এম

খেলা বিভাগের আরো খবর
সাকিবকে যেভাবে মূল্যায়ন করলেন অজি কিংবদন্তি

সাকিবকে যেভাবে মূল্যায়ন করলেন অজি কিংবদন্তি

আফগান ক্রিকেটারদের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ

আফগান ক্রিকেটারদের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিন আদৌ বৃষ্টি হবে?

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দিন আদৌ বৃষ্টি হবে?

আফগানিস্তানকে সরাসরি ‘না’ বলে দিলো ভারত

আফগানিস্তানকে সরাসরি ‘না’ বলে দিলো ভারত

সাকিবকে সামলাতে অস্ট্রেলিয়ার নয়া কৌশল

সাকিবকে সামলাতে অস্ট্রেলিয়ার নয়া কৌশল

অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন যেসব তারকারা

অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন যেসব তারকারা