ঢাকা রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
Beta Version
Sharp AC

অধিনায়কদের সর্বকালের সেরা একাদশে মাশরাফি


গো নিউজ২৪ প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০১৮, ০৬:২৭ পিএম আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৮, ১২:৫০ পিএম
অধিনায়কদের সর্বকালের সেরা একাদশে মাশরাফি
Sharp AC

আধুনিক যুগের জনপ্রিয় ফরম্যাট একদিনের ক্রিকেটের যাত্রা শুরু ১৯৭৩ সালে। এরপর থেকে কেটে গেছে প্রায় ৪৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে হয়েছে অনেক কিছুর পরিবর্তন।খেলাটি হয়েছে অনেক বেশি আধুনিক থেকে আধুনিকতর। ওডিআই ক্রিকেট কতটা জনপ্রিয় তার প্রমাণ ৫০ ওভারের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আজও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সাড়ে চার দশকে বিশ্ব ক্রিকেট দেখেছে অনেক কিংবদন্তি। অনেক কোয়ালিটি সম্পন্ন অধিনায়ক।যারা নেতৃত্ব গুনে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের আলাদা করে পরিচয় করে নিয়েছেন। 

আজ এই প্রতিবেদন সেই সব কিংবদন্তি নেতাদের জন্য। বিভিন্ন প্রজন্মের সেরা অধিনায়ককে নিয়ে ওডিআই একাদশ গড়া হলো। যে কোনও একদাশ গড়তে গেলে সবার আগে টিমের ভারসাম্যের ব্যাপাটি নজরে রাখতে হয়। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ে পেস ও স্পিনের ভারসাম্য রাখা জরুরি।

সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের ওডিআই একাদশ –   

১. সনাৎ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)- ক্যারিয়ার শুরু হয় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে। কিন্তু কালের বিবর্তনে তিনি হয়ে উঠেন বিস্ফোরক ওপেনার ব্যাটসম্যান।পাওয়ার-প্লে‘তে খুনে মেজাজে ব্যাটিং তার হাত ধরেই শুরু। ২২ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৪৪৫টি ওডিআই ম্যাচে করেছেন ১৩৪৩০ রান। গড় ৩২.৩৬, স্ট্রাইক-রেট ৯১.২০। বলহাতে তার উইকেট সংখ্যা ৩২৩। অধিনায়ক হিসেবেও তার পারফর্ম্যান্স বেশ ভালো। দেশকে ১১৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৬৬টি ম্যাচে সফলতা পেয়েছেন। আর তিনিই যখন ক্রিকেট খেলা ছাড়লেন তখন সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনারের খেতার যুক্ত হয় নামের পাশে।

২. সৌরভ গাঙ্গুলি (ভারত)- ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক। বলা চলে ভারতকে বিশ্বের বুকে পরাশক্তি হিসেবে হাজির করেছে সৌরভ গাঙ্গুলি। ক্রিকেট ক্যারিয়ার দ্বিতীয় পর্বে সৌরভ ওপেনিং ছেড়ে মিডল অর্ডারে নেমে এলেও ওপেনার সৌরভ আজও সেরার সেরা। ইনিংস গড়তে সময় নিলেও ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ প্রয়োজনে অ্যাটাকিং খেলতে পারতেন। অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ দেশকে ১৪৬টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৭৬ বার সফল হয়েছেন। জয়ের শতকার হার ৫৯.৩০। ৩১১টি ওডিআই’তে তার রান ১১৩৬৩। গড় ৪১.০২।

দুজনই ভারতের সেরা অধিনায়কের তালিকায় আছেন

৩. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া) অধিনায়ক- আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা অন্যতম সেরা প্রতিভা ও সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের মধ্যে অনেক অনেক এগিয়ে রিকি পন্টিং। রিকি সেই ঘরানার ব্যাটসম্যান যিনি টেস্ট আর ওডিআই মঞ্চে অসাধারণভাবে সফলতা পেয়েছেন। ২৩০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১৬৫টি ম্যাচে সফলা পাওয়া পন্টিয়ের উইনিং পার্সেন্টেজ ৭৬.১৪। দেশের হয়ে ৩৭৫টি ওডিআই ম্যাচ তার রান ৪২ গড় নিয়ে ১৩৭০৪। দু’বার দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন।

‘ব্যাড বয়’ থেকে অস্ট্রেলিয়ার সেরা অধিনায়ক

৪. অর্জুনা রানাতুঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)- কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনেদের মতো ব্যাটসম্যান না হলেও, রানাতুঙ্গা প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে বড় শক্তি হয়ে ওঠা রানাতুঙ্গার অধিনায়কত্বেই। ১৯৩টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৮৯টি ম্যাচে তিনি দেশকে জিতিয়েছেন। ২৬৯টি ম্যাচে তার রান ৭৪৫৬। ব্যাটিং গড় ৩৫.৮৪। মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে ঝুলিতে ৭৯টি উইকেটও রয়েছে। 

৫. ক্লাইভ লয়েড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)-বিশ্বকাপ জয়ের নিরিখে রিকি পন্টিংকে একজনই টক্কর দিতে পারেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অধিনায়ক প্রথম দু’টি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন (১৯৭৫ আর ১৯৭৯)। ক্যারিয়ারে ৮৭টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছিলেন। আর তার মধ্যে ৮৪টিতেই নেতৃত্ব দেন। তার মধ্যে ৬৪টি ম্যাচেই সফল। উইনিং পার্সেন্টেজ ৭৭.৭১। এতো ভালো রেকর্ড আর কোনও অধিনায়কের নেই। লয়েড এই কারণেই অনন্য। ৪০ গড় নিয়ে তার রান ১৯৭৭। স্ট্রাইক-রেট ছিল ৮১.২২।

৬. হ্যান্সি ক্রোনিয়ে (দক্ষিণ আফ্রিকা)-নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শক্তি হয়ে ওঠার পিছনে হ্যান্সির অধিনায়কত্বকে তার যোগ্য মর্যাদা দিতেই হবে। হতে পারে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে তার নাম জড়িত। তবুও হ্যান্সি কিংবদন্তি। ১৩৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে ৯৯টি ম্যাচে সফল করেছিলেন ক্রোনিয়ে। জয়ের শতকরা হার ৭৩.৭০। ১৮৮টি ম্যাচে হ্যান্সির রান ৫৫৬৫। ১১৮টি উইকেটও ছিল তার ঝুলিতে। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম পরিপক্ক মস্তিষ্কের অধিকারীর ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ হয় ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে। আর তার কয়েক বছর পর বিমান দুর্ঘটনা মৃত্যু হয় কিংবদন্তি ক্রোনিয়ের।

৭. মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত)- উইকেটকিপার-ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিদনায়ক। ধোনি পরিসংখ্যানের বিচারে সর্বকালের সেরা অধিনায়ক, ভারত তথা বিশ্বের। কারণটা, এমএস আন্তর্জাতিক আসরের একমাত্র নেতা যিনি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন। টেস্টের আসরে তার নেতৃত্বই ভারত প্রথমবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় ২০০৯ সালে। ওডিআই ক্রিকেটে অধিনায়ক ধোনি ১৯৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওডিআই আসরে দেশকে সর্বাধিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার তালিকায় ধোনি তিন নম্বরে পন্টিং ও নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পরে। তবে, জয়ের নিরিখে ধোনি দ্বিতীয় স্থানে। দেশকে ১১০টি ম্যাচে জিতিয়েছেন মাহি। সাফল্যের হার ৫৯.৫৭। উইকেটকিপার হিসেবেও ধোনি সর্বকালের সেরা। ৩২১টি ম্যাচে ধোনির রান ১০০৪৬। ব্যাটিং গড় ৫১.২৫, স্ট্রাইক-রেট ৮৮.১৩। কিপার হিসেবে ধোনির ৪০৭টি সাফল্য পেয়েছেন।

৮. ইমরান খান (পাকিস্তান)- ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতির মাঠেও তিনি দক্ষ নেতা। ইমরান সে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নেতা। কারণ, ইমরান দেশের একমাত্র অধিনায়ক যিনি পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক ১৩৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৭৫ বার সফল হন। ৫৫.৯২ শতাংশ সাফল্যের হার। ১৯৭১-১৯৯২, এই পর্বে ১৭৫টি ম্যাচে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার ৩৭০৯ রান করেছেন। বলহাতে তার উইকেট সংখ্যা ১৮২।

৯ কপিল দেব (ভারত)-আশির দশকে চার সেরা বিশ্ববরেণ্য অলরাউন্ডারের মধ্যে অন্যতম সেরা কপিল, ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৮৩ সালে দোর্দণ্ডপ্রতাপ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে তার নেতৃত্বেই ভারত প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতে। অবসর নিয়েছেন আড়াই দশক পেরিয়ে গেলও, কপিলের শূন্যস্থান এখনও অপূরণীয়। ৭৪টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৯টি ম্যাচে সফলতা অর্জন করা কপিলের উইনিং পার্সেন্টেজ ৫৪.১৬। ২২৫টি ম্যাচে কপিলের রান ৩৭৮৩। স্ট্রাইক-রেট ৯৫-এর ঘরে। বলহাতে একদিনের আসের ২৫৩টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের সর্বকালের সেরা পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

১০. ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (নিউজিল্যান্ড)- দক্ষ অধিনায়ক আবার দক্ষ স্পিন বোলার, এমন উদাহরণ ক্রিকেট বিশ্বে আর দ্বিতীয় নেই। একমাত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ভেট্টোরি। দেশকে ৮২টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১ বাস জেতানো এই কিউই নেতার উইনিং পার্সেন্টেজ ৫৫.৩৩। ২৯৫টি ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৩০৫টি।

১১. মাশরাফি বিন মর্তোজা (বাংলাদেশ)- ভঙ্গুর বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে একটি শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় লাভ করে তার হাত ধরে।দেশকে মাত্র ৫৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেও তার আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে উন্নতি হয়, সেটাকে গুরুত্ব দিতেই হচ্ছে। এই ডানহাতি পেস বোলারের নেতৃত্বে বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালেও খেলেছে টিম। দেশে ও বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে শিখেছে বাংলাদেশ। দেশেক ৩২টি ওডিআই জেতানো মশরাফি ১৯০টি ম্যাচে ২৪৫টি উইকেটের মালিক। ওডিআই আসরে বাংলাদশের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকও তিনি।

উল্লেখ্য, সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের একাদশে আরও অনেকে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু, স্থান সীমিত। যাদের নাম এই তালিকায় যোগ করা গেলো না টিমের ভারসাম্য রাখতে গিয়ে, তারা হলেন –গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা), স্টিফেন ফ্লেমিং (নিউজিল্যান্ড), অ্যালান বোর্ডার (অস্ট্রেলিয়া), স্টিভ ওয়াহ (অস্ট্রেলিয়া)।

গোনিউজ২৪/টিআই 

খেলা বিভাগের আরো খবর
২২ রান যোগ করেই শেষ ভারত

২২ রান যোগ করেই শেষ ভারত

এবার ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় সানি লিওন

এবার ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় সানি লিওন

ইতিহাস গড়তে হলে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে

ইতিহাস গড়তে হলে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে

পান্থের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে যা বললেন সৌরভ

পান্থের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হয়ে যা বললেন সৌরভ

সফল সফর মেষে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল 

সফল সফর মেষে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল 

এশিয়ান গেমসে ২৬ জনে ২৪তম বাংলাদেশের খাদিজা

এশিয়ান গেমসে ২৬ জনে ২৪তম বাংলাদেশের খাদিজা

Best Electronics AC mela