ঢাকা সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

বিএনপি ছাড়ার অপেক্ষায় তারা!


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ০৬:৩৭ পিএম আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯, ১২:৩৭ পিএম
বিএনপি ছাড়ার অপেক্ষায় তারা!

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিহীন দল পরিচালনায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একক কর্তৃত্ব নিয়ে তার প্রতি দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আস্থাহীনতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি। যদিও তার পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে মোর্শেদ খানের দেখানো পথ ধরে আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা শিগগিরিই বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছেন-প্রবীণ রাজনীতিক এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম ও এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। যে কোনও সময় বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন তারা।

বিএনপির সিনিয়র নেতা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের কাছ থেকেও বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা আসতে পারে যে কোনও সময়ে। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থায় থেকে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্রে মোর্শেদ খান লিখেছেন, মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায় সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে পদত্যাগের এ চিঠি।

মোর্শেদ খান বলেন, রাজনীতির অঙ্গনে আমার পদচারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণ হেতু আমার উপলব্ধি-সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার এখনই সময়। বহুবিধ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আমি অবিলম্বে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) থেকে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহারসহ বর্তমানে ‘অলঙ্কৃত’ ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।

পদত্যাগপত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও লিখেছেন, ‘‘বিএনপির সঙ্গে আমার সম্পর্কের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অসংখ্য নেতাকর্মীর সান্নিধ্য পেয়েছি এবং উপভোগ করেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রয়াত এবং অনেকেই বর্তমানে দলের হাল ধরে আছেন। প্রয়াতদের বিদেহী আত্মার শান্তি যেমন কামনা করি, তেমনি আপনিসহ বর্তমান সব কর্মী-কান্ডারীদেরও আমি মঙ্গলাকাঙ্খী। অতীত ও বর্তমান সব কর্মীর নিরবচ্ছিন্ন সান্নিধ্য, সখ্য, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সাহায্য-সহযোগিতার কথা আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। দলের প্রতিনিধি হয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন এবং দলের কর্মী হিসেবে দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে বিএনপি আমাকে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছে।’’

মোর্শেদ খান ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এর পর চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সাল, এর পর জুন ’৯৬ এবং ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ দূত ছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

গো নিউজ২৪/আই

রাজনীতি বিভাগের আরো খবর
প্রধানমন্ত্রীর বেহেস্তে যাওয়ার অধিকার আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর বেহেস্তে যাওয়ার অধিকার আছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

আইসিসির রায় হলে সু চিকে গ্রেফতারে বাধ্য হবে সব দেশ

আইসিসির রায় হলে সু চিকে গ্রেফতারে বাধ্য হবে সব দেশ

ভাঙল এলডিপি, অলিকে বাদ দিয়েই নতুন কমিটি গঠন

ভাঙল এলডিপি, অলিকে বাদ দিয়েই নতুন কমিটি গঠন

সড়কে নতুন আইন নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ

সড়কে নতুন আইন নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ

আমিরাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

আমিরাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তালিকা দিল ঐক্যফ্রন্ট

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তালিকা দিল ঐক্যফ্রন্ট