ঢাকা সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

প্রকৃত অবস্থা না ভেবেই গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০১৯, ০৯:৩২ পিএম আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৯, ০৯:৩৩ পিএম
প্রকৃত অবস্থা না ভেবেই গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন দুঃখজনক: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন হলো। যথেষ্ঠ আন্দোলন হয়েছে, অনেক প্রতিবাদ হয়েছে। দেশে যে গ্যাস আছে তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নিলাম এলএনজি আমদানি করবো। এর জন্য ৩০ হাজার কোটি অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পুরো টাকাই ভর্তুকি দিচ্ছি। আমরা এলএনজি আমদানি করছি গ্যাসের চাহিদা মেটাবার জন্য।  যারা আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না, এটা দুঃখজনক। 

কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পায়ন হচ্ছে, শিল্পায়নের সঙ্গে সেঙ্গে চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সেই পরিমাণ গ্যাস আমাদের দেশে নেই। আমরা কূপ খনন করছি। গ্যাসের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেটুকু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেটুকু উত্তোলন করা হচ্ছে। সমুদ্রে গ্যাস উত্তলনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। গ্যাসের দাম নিয়ে যে কথাগুলো আসছে, যে দাম না বাড়িয়েও উন্নয়ন করা যাবে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজনটা কেন ছিল।’

তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি খুব ব্যয়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূল্যায়ন দেখেছে বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। সেখানে আমরা কতটুক দাম বাড়িয়েছি। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বিবেচনা করে কমিশন মাত্র ৩২.৮ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার ৯.৮০ টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গ্রাহকদের জন্য কোনো দাম বাড়ানো হয়নি। গণপরিবহনের বিষয়টি বিবেচনায় করে সিএনজিখাতে শুধু প্রতি ঘনমিটারে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এখন থেকে মিনিমাম চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘সব শিল্প গ্রাহকদের ইবিসি মিটার দেওয়া হবে। যাতে গ্যাস কে কত ব্যবহার করে সেটা নির্দিষ্ট থাকে। যাতে বিল পরিশোধ সহজ হয়। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ যেন বেশি না পড়ে সেজন্য সরকার থেকে প্রতি বছর ৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হবে। তাছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। আমদানিতে যে মূল্য পড়ছে তাতে আমরা সেখানে পাইপলাইন তৈরি করছি সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করছি। এরও একটা খরচ আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যদি খরচটা ধরি তাতে এলএনজি আমদানির খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। আমরা দাম ধরেছি খুব কম। এর দাম পড়ে প্রতি ঘনমিটের ৬১.১২ টাকা। আমরা নিচ্ছি মাত্র ৯.৮০ টাকা। ৬১.১২ টাকা দাম পড়ে সেখানে ধরা হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অর্থাৎ ৫১. ৩২ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি গ্যাস দিতে না পারি তাহলে উৎপাদন বন্ধ হবে, রফতানি বন্ধ হবে, কর্মসংস্থান বন্ধ হবে। এজন্য গ্যাস আমদানির খরচ যেটা সেটা আমাদের বিবেচনা করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘জানি না যারা আন্দোলন করছেন তারা কি চায়। ভারতে গ্যাসের দাম কমের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু সব খাতেই ভারতে গ্যাসের দাম বাংলাদেশ থেকে বেশি। বিরাট অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ঢাকায় এসে গ্যাস বিক্রির কথা বলেছিলেন। গ্যাস নেবে ভারত কিন্তু আমি রাজি হইনি। পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কাটার এসে আমাকে আর জিল্লুর রহমানকে এবং খালেদা জিয়া ও মান্নান ভূইয়াকে ডেকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি মুচলেকা দেইনি। বলেছিলাম আগে আমাদের চাহিদা পূরণ করে ৫০ বছরের রিজার্ভ রাখার পর চিন্তা করবো। কিন্তু খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে এসেছিলেন। নির্বাচনে আমরা বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

গো নিউজ২৪/আই

রাজনীতি বিভাগের আরো খবর
যুবলীগের সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক চয়ন, সদস্য সচিব হারুন

যুবলীগের সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক চয়ন, সদস্য সচিব হারুন

যুবলীগ থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি

যুবলীগ থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি

বোল পাল্টে মেনন বললেন বিএনপির আমলের কথা বলেছি

বোল পাল্টে মেনন বললেন বিএনপির আমলের কথা বলেছি

মহানবীকে (স.) কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মহানবীকে (স.) কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ৩১ যুবলীগ নেতা 

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ৩১ যুবলীগ নেতা 

কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা