ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭

মহাসংকটে পৃথিবী : হে মানুষ, ফিরে এসো


গো নিউজ২৪ | মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২০, ০৮:৪৪ পিএম আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ০৮:৪৫ পিএম
মহাসংকটে পৃথিবী : হে মানুষ, ফিরে এসো

মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী

করোনাভাইরাসের রাক্ষুসে থাবায় প্রকম্পিত আজ পৃথিবী। করোনা বা কভিড-১৯ এখন বিশ্বময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মানুষের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে করোনা। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে যেখানে একটি মাছিও উড়ে যাওয়ার ঘটনা মানুষের চোখ এড়াতে পারে না, সেখানে এত প্রযুক্তি ও বীরত্বের দাবিদার মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে অদম্য গতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। কোথায় সব ধনকুবের, কোথায় সব ক্ষমতাধর?

কোথায় তাদের হুঙ্কার, জয় জয়কার? কোথায় বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তির অহংকার? পাখির মতো নেই মানুষের ডানা, তাই উড়ে দেশান্তরী হওয়ার স্বপ্নও বৃথা। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে আসার, হাত স্পর্শ করার এবং একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করার স্বাধীনতাও হারিয়েছে মানুষ। কেউ চাইলেই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর বা চেন্নাই যাবে? সুযোগ নেই।  

হাতে অঢেল টাকা, কিন্তু এয়ারপোর্ট বন্ধ, রেস্তোরাঁ বন্ধ, ফ্লাইট বন্ধ। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায় বিলাস বহুল ভ্রমণ বন্ধ। বন্ধ হলিউড, বলিউড, সুইমিংপুলসহ সব বিনোদন, আনন্দ। দেশে-বিদেশে সঞ্চিত অর্থের সবটাই অকেজো। এমনকি অর্থ উপার্জনের শর্টকাট(!) রাস্তাও বন্ধ।

ভারতে গুহায় আশ্রয় নিয়েছে পর্যটকরা, অরুণাচল প্রদেশে খাবার না পেয়ে মানুষ সাপ খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করছে। এমনকি করোনার মরণথাবা থেকে বাঁচতে রাশিয়ার সাভারওলোকক্স অঞ্চলের এক পরিবার জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। ইসরায়েলে করোনা থেকে বাঁচতে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছে প্রভাবশালীরা। মদ, জুয়া, ক্যাসিনো, ইয়াবাসহ নানা অপরাধের আস্তানা বন্ধ। যে সব আলো ঝলমল শপিং মল থাকত মানুষের পদচারণায় সদা মুখরিত, যেসব সাগরসৈকত মানুষের উলঙ্গপনায় হয়েছিল দূষিত, সে সব এখন স্তব্ধ, শূন্য, মৃত। সমাজবদ্ধ মানুষগুলো এখন সমাজ বিচ্ছিন্ন। লাগামহীন স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া অপরাধীরা এখন লোক চক্ষুর অন্তরালে।

যে সব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিরন্তর অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে, অদৃশ্য এ করোনাভাইরাস নীরবেই সে সব অপরাধের ইতি টেনেছে। শাসক, চিকিৎসক, ধর্মযাজক কেউ রেহাই পাচ্ছে না করোনার ছোবল থেকে।

জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনা-তরঙ্গ, পৃথিবীজুড়ে কেবল করোনা আতঙ্ক। শাসক-শাসিত, মালিক-শ্রমিক, শত্রু-মিত্র, ধনী-দরিদ্র সবাই কারাজীবনের মতো অবরুদ্ধ, মৃত্যুভয়ে প্রকম্পিত। দরিদ্র বস্তি থেকে ধনীদের রাজকীয় ভবন, সর্বত্র থেমে গেছে জীবনের স্পন্দন। করোনা শ্রেণিবিচার করছে না, এ ভাইরাস সাম্যবাদী চেতনা নিয়ে আঘাত করছে সমানভাবে সবাইকে। প্রবল শক্তিধর আমেরিকাও আজ করোনার ছোবলে স্তম্ভিত, কম্পিত।

অহংকারী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘করোনাভাইরাস খুব ব্রিলিয়ান্ট, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না।’ অথচ এ মুহূর্তে শক্তিধর আমেরিকাই হচ্ছে এর এপিসেন্টার। আল্লাহর ক্ষমতার অনন্য নিদর্শন এ করোনাভাইরাস প্রমাণ করেছে, মানবজাতি কত অসহায়, নিরুপায়! করোনাকে কেন্দ্র করে কিছু হৃদয়স্পর্শী ঘটনা পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

যেমন :  করোনায় আক্রান্ত মৃত মানুষের শেষকৃত্যে বা জানাজায় আসতে পারছে না স্বজনরা। কবর খনক নেই। তাই আর্থ-ডিগার মেশিনে কবর খনন করে দড়ি বেঁধে লাশ কবরে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তির লাশ বহনের জন্য খাটিয়া দেয়নি গ্রামবাসী। অতঃপর বাবা ও ভাইয়ের কাঁধেই হলো মৃতের শেষযাত্রা। সম্প্রতি টোকিওতে করোনা রোগীকে নিয়ে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ৮০টি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা মেলেনি। স্থান সংকুলান নেই, এই অজুহাতে সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে।

দেশ থেকে দেশান্তরে, মহাদেশ থেকে মহাদেশে করোনার দিগন্ত প্রসারিত হচ্ছে। কেবল শক্তিশালী ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপেই এ ভাইরাস অতি কষ্টে দৃশ্যমান। এ আনুবীক্ষণিক জীবের বাহ্যিক আবরণ কাঁটাসদৃশ। প্রোটিনজাত এ ভাইরাস দেখতে মুকুটের মতোই, কিন্তু ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, অদৃশ্য অথচ পুরো বিশ্ব এর আঘাতে, অভিঘাতে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। জীবনের ভিতরে গেলেই এ ভাইরাস জীবন পায়, নতুবা এর কোনো জীবন নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উষ্ণতা বাড়লে করোনা পালাবে। কিন্তু ফ্রান্সের এক্স মার্সাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ৯২ ডিগ্রি পর্যন্ত করোনা বেঁচে থাকতে পারে এমনকি ৬৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এ জীবাণু নিজের ক্লোন তৈরি করতে পারে।

কখনো উষ্ণ, কখনো শীতল আবহাওয়ায় অভিযোজিত হয়ে পৃথিবীজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ ভাইরাস। ক্রমাগত জিনের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, নতুন নতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে। খ্যাতনামা মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি স্টিফেন বলেছেন, ‘এ মহামারী গেলেও পৃথিবীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। এ ভাইরাস সহজে বিলুপ্ত না হয়ে মৌসুমি ফ্লু’র প্রকৃতি ধারণ করে বারবার ফিরে আসবে অর্থাৎ এ ভাইরাস আরও একটি সাইকেল তৈরি করতে পারে।’ একবারও কী কোনো বিজ্ঞানী ভবিষ্যদ্বাণী করতে পেরেছিল, করোনা জীবাণু কবে আঘাত হানবে? কী হবে তার আকৃতি, প্রকৃতি বা শক্তি? এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে কত লাখ কোটি করোনা জীবাণু ছড়িয়ে আছে, তার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সংখ্যা বের করা কি সম্ভব? কোথায় দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র? কোথায় পারমাণবিক অস্ত্র?

কোথায় পরাশক্তির আকাশ ছোঁয়া প্রযুক্তি? কোথায় ড্রোন প্রযুক্তির বাহাদুরী? রাশিয়ার সর্বাধুনিক পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এম-৫০০ দিয়ে নাকি শুধু  আকাশ পথে উড়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধ বিমান বা ড্রোনই ধ্বংস করা যাবে না, বরং এ দিয়ে ধ্বংস করা যাবে মহাকাশ থেকে হামলা করতে ধেয়ে আসা অত্যাধুনিক অস্ত্রও। সম্প্রতি শব্দের চেয়ে ২০ গুণ গতি সম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সফল এমন ইলেকট্রনিক ওয়ার ফায়ার সিস্টেম তৈরি করতে শুরু করেছে রাশিয়া, যার উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল প্রযুক্তি অকার্যকর করে দেওয়া। কিন্তু নিষ্ঠুর পরিহাস, এসব মারণাস্ত্র করোনা জীবাণু নির্মূলে পুরোপুরি ব্যর্থ।

দূষিত চিন্তা, দূষিত রক্ত, দূষিত মগজ এবং দূষিত মানসিকতায় আমাদের অধঃপতন পূর্ণ হয়েছে ষোলকলায়। পঞ্চইন্দ্রিয়ের ভোগে লালায়িত, নীতি-নৈতিকতায় শূন্য এবং জাগতিক মোহে ডুবন্ত এক অসুস্থ সমাজে আমরা বাস করছি। মানুষ ভুলে গেছে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে। যে মানুষ প্রকৃতি থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং প্রকৃতির অগণিত উৎস যার খাদ্যের অংশ, সে মানুষ মৃত্যুর পর হয়ে যায় প্রকৃতির উচ্ছিষ্ট, পোকামাকড়ের খাদ্য। কিন্তু মানুষ  এ পার্থিব জীবনের ভঙ্গুরতা ভুলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষ করে জাগতিক  ভারসাম্য তছনছ করেছে। জীবন পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ সম্পদের প্রয়োজন, তার চেয়ে শতগুণ বেশি সম্পদ মানুষ কুক্ষিগত করে পৃথিবীজুড়ে বৈষম্যের সংকট তৈরি করেছে।

জীববৈচিত্র্যকে বিনাশ করে অতি স্বয়ংক্রিয়তায় আবদ্ধ হয়ে মানুষ পরিণত হয়েছে যন্ত্রের দাস, মনে করেছে এ পৃথিবী তার চিরস্থায়ী আবাস। বৈষম্য-বঞ্চনা এবং ব্যভিচার-পাপাচারে মত্ত মানুষ দুনিয়াকে করেছে বিষাক্ত। সমতা ও ন্যায় বিচার হয়েছে ভূলুণ্ঠিত। সর্বশেষ জিনগত পরিবর্তন এনে মানুষ অমরত্ব লাভের এক মিথ্যা মোহে হয়েছে অন্ধ, অথচ সে মানুষ আজ করোনার চাবুকে ক্ষতবিক্ষত, জর্জরিত। করোনার এ আক্রমণ মহান আল্লাহপাকের সুস্পষ্ট নিদর্শন। মহান আল্লাহতায়ালা এ দৃষ্টান্তের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, মানুষের শক্তি চূড়ান্ত বিচারে সীমিত। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মহান স্রষ্টা আল্লাহ। প্রত্যেক সৃষ্ট বস্তুর ওপর আল্লাহতায়ালা ক্ষমতাবান। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে আল্লাহ যে বিশাল সৃষ্টি ছড়িয়ে আছে, তাঁর মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষকে শুধু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে জাগতিক ব্যবস্থাপনার, কিন্তু মালিকানা দেওয়া হয়নি। যার মৃত্যু আছে, যবনিকা আছে এবং সমাপ্তি আছে, সে কখনো মালিক হতে পারে না। মালিক তিনিই, যিনি আদি থেকে অন্ত, চির জীবন্ত। তিনি মহামহিম প্রভু আল্লাহ, যার ক্ষমতা অসীম, অনন্ত। সুতরাং মানুষ হলো ক্ষণস্থায়ী ও ভঙ্গুর, যার ক্ষমতার পরিধি সীমিত, যার বিচরণের ক্ষেত্র নির্ধারিত। অথচ অহংকারে উদ্ধত মানুষ এখন করোনার আঘাতে অবনত, স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। আল্লাহতায়ালা এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অদৃশ্য জীবাণু করোনাভাইরাসের আক্রমণ দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন মানুষের ক্ষুদ্রত্ব, অসহায়ত্ব।

এ সংকটের মুহূর্তে মানুষের হাতে এমন কোনো অলৌকিক প্রযুক্তি নেই, যা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করে দেবে। এ মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র অবলম্বন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা, যিনি সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। আসুন, পৃথিবীর কঠিন এ ক্রান্তিকালে ফিরে আসি নৈতিকতার পথে, একাত্মবাদের পথে, পরিমিত জীবনচর্চার পথে।

করোনা আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে : মৃত্যু আসার আগেই শুদ্ধতা অর্জনের, পাপ রাশি মোচনের, অশ্রু বিসর্জনের, মহান আল্লাহর কাছে নিরঙ্কুশ আত্মসমর্পণের। খুলে দিন অন্তর্দৃষ্টি, দেখুন আল্লাহ সৃষ্ট জগতের মহারহস্য, প্রকৃতির অপার বৈচিত্র্য। ‘যেন তারা ফিরে আসে’-এ বাক্যটি কোনো মানুষের নয়, এ মহামূল্যবান বাণী কোরআনে বর্ণিত, যা স্বয়ং মহাপ্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। ‘এ ফিরে আসা’-বাক্যটি বর্তমান করোনার মহাদুর্যোগে আক্রান্ত মানব জাতির জন্য গভীর তাৎপর্যময়।

ইতিমধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসে বিপন্ন সমাজে শুরু হয়েছে অসহায়দের প্রতি সংবেদনশীলতা, মানবপ্রেমের প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবতার চর্চা। ইতালির দুর্ধর্ষ মাফিয়া গ্যাংয়ের সদস্যরা অসহায় মানুষদের মধ্যে খাবার বিলাচ্ছে।

ধর্মবিমুখতা থেকে শুরু হয়েছে ধর্মমনস্কতা, ধর্মভীরুতা। করোনা ভূ-রাজনীতিসহ পুরো বিশ্ব ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন ও বিবর্তনের জন্ম দেবে। ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হবে। শত্রুমিত্রের হিসেব পাল্টে যাবে। দেশে দেশে ভোগ, বিনোদন, প্রাচুর্যতা কমবে। লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে। শ্রমজীবী নির্ভর বাজার দুর্বল হবে। সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হবে। এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে যাবে, বিশ্বায়ন তত্ত্ব ভেঙে যাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমবে। করপোরেট শক্তির পতন হবে। মূল্যস্ফীতি ঘটবে। মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়বে। পরাশক্তির ধারণা পাল্টে যাবে। বিশ্ব নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। করোনা সৃষ্ট এ ভূ-জাগতিক পরিবর্তন মানুষের সুপথে ফিরে আসার জন্য ভয়াবহভাবে শিক্ষণীয়।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘কঠিন সময়ে প্রার্থনার শক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে’, অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া কেউ নির্ভরযোগ্য নয়। অতএব, মূলস্রোতে ফিরে আসার এখনই সময়। মহান আল্লাহ মানুষের জন্যই এ পৃথিবী সাজিয়েছেন বর্ণিলভাবে। বিনিময়ে চেয়েছেন স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষের অকৃত্রিম আনুগত্য এবং কৃতজ্ঞতা, শুদ্ধাচারিতা।

আল্লাহর ভয় ও ভক্তিই আত্মার শক্তি, নৈতিক শক্তি। সুরা তাগাবুনে (আয়াত-১১) আল্লাহ বলেছেন, ‘কোনো বিপদই আসতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া’।

পার্থিব জীবনের অসারতা ও ভঙ্গুরতা সম্পর্কে কোরআনে বর্ণিত মহান আল্লাহ সাবধান বাণী মানুষ বারবার উপেক্ষা করেছে। ক্ষুদ্র আবাবিল পাখি দিয়ে আবরাহার নেতৃত্বাধীন হস্তী বাহিনীকে ভোজিত তৃণের মতো ধ্বংস করা হয়েছিল। ক্ষুদ্র এক মশা পাঠিয়ে নমরুদকে জব্দ করা হয়েছিল। ঠিক একবিংশ শতাব্দীতে করোনা নামক ফুসফুস ঝাঁজরা করে দেওয়া ক্ষুদ্র অথচ শক্তিশালী এক ভাইরাস মানব জাতিকে অস্থির করে ফেলেছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হলেই নিঃশেষ হয় মানুষের প্রতাপ, প্রভাব! সবই অথৈ সাগরে ভেসে মানুষ হয়ে যায় নির্মোহ, নিরুত্তাপ। তাই তো জগদ্বিখ্যাত সাধক মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী বলেছেন-

‘এই সুখ দুখ শুধু ক্ষণিকের, হবে হবে এর লয়,

ফিরে যাবে সব ওই-ই প্রভু মাঝে অব্যয় অক্ষয়’। (মসনবী শরিফ)

লেখক : মহাপরিচালক, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
ই-মেইল : [email protected]

মতামত বিভাগের আরো খবর
করোনার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা ও সফলতা

করোনার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা ও সফলতা

মহাসংকটে পৃথিবী : হে মানুষ, ফিরে এসো

মহাসংকটে পৃথিবী : হে মানুষ, ফিরে এসো

অসাধারণ মাহমুদের বেঁচে থাকা প্রয়োজন

অসাধারণ মাহমুদের বেঁচে থাকা প্রয়োজন

করোনার ২ মাসে মানুষের জীবনাচরণে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন

করোনার ২ মাসে মানুষের জীবনাচরণে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন

নিখুঁততম মানুষ

নিখুঁততম মানুষ

যেমন মানুষ ছিলেন ডা. মঈন

যেমন মানুষ ছিলেন ডা. মঈন