ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

তাদের রাজনীতিতে উত্থানের গল্প


গো নিউজ২৪ | আরিফুর রাজু প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮, ০৪:৩৭ পিএম আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৮, ০৪:৪৬ পিএম
তাদের রাজনীতিতে উত্থানের গল্প

ফাইল ছবি

বাবা তুখোড় রাজনীতিবিদ। মা স্কুল শিক্ষিকা। ছিল সংগ্রামের জীবন। রোজই ২৫ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো তাদের। তবে মা-সন্তানের স্কুল একই (মা একই স্কুলের শিক্ষিকা) হওয়াতে ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সংগ্রামের দিনগুলো সামনা সামনি দেখার সুযোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গার।

রানাতুঙ্গা মায়ের প্রতিদিনকার রুটিন চোখ কপালে ওঠার মতো আশ্চর্যের। ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠে সন্তান-পরিবারের নিমিত্তে রান্না-বান্না। ছেলে-মেয়ের নিজ হাতে খাইয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়া। পাঠদান শেষে রানাতুঙ্গার প্র্যাকটিস নেটের পাশে বসে থাকা। তারপর ফের ২৫ কি.মি পথ মাড়ি দিয়ে বাসায় ফেরা। রান্না-বান্না, ছেলেদের পড়া আদায়, নিজের প্রস্তুতি সেরে প্রতিরাতেই দুইটায় ঘুমাতে যেতেন। 

বাংলাদেশের বিশিষ্ট এক ক্রীড়া লেখকের প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, রানাতুঙ্গার মায়ের সংগ্রামের জীবনের করুণ গল্প। অভাব অনটনে সন্তানদের কথা ভাবতে গিয়ে তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারতেন না তিনি। এছাড়া বাবার বেকারত্ব, অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় স্বাভাবিক থাকতে দেয়নি স্কুল শিক্ষিকা মাকে। 

মায়ের কাছ থেকে কঠোর অধ্যবসায়ের শিক্ষা। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ লালন করে খেলুড়ে জীবন শেষে শ্রীলঙ্কা পিপল’স অ্যালায়েন্স দলে যোগ দেন রানাতুঙ্গা। আর তা ২০১০ সালে অবসরের পরের বছরই। পরবর্তীতে ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে যোগ দিলেও খেলুড়ে জীবনের মতো রাজনীতিতেও দক্ষ তীরন্দাজের পরিচয় দেন রানাতুঙ্গা। সুতোর ওপর ঝুলতে থাকা সিদ্ধান্তের সময়ও অকপটে হাসেন তিনি।  দুই সেক্টরের চাপ ইস্যুতে তার ‘ডেমন কেয়ার’ ভাব। কারণ চাপ শব্দটি মোটেও তার ডিকশনারীতে নেই।  সবকিছু চাপিয়ে আজ তিনি সফল রাজনীতিবিদ। 

মা-বাবার আদর্শে ভিত্তি গড়ে সন্তানের ভবিষ্যত। সন্তান স্কাইস্ক্র্যাপারের মালিক হলেও তার ভিত্তিপ্রস্তর ঠিকই বাবা-মায়ের। সন্তানকে আর্দশিক রুপে গড়তে সাহায্য করেছেন মহীয়সী নারী আমির ‘বি’। তার অবদানেই পাকিস্তান পেল অন্তত ১০ জন খেলোয়াড়। যাদের সবাই ছিলেন দাপুটে। একজনকে তো রীতিমত পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রতিচ্ছবিও ভাবা হয়। পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি তারই। এছাড়া ৪৯৯ রানের ফার্স্টক্লাস কিংবা ১৬ ঘণ্টা মাটি কামড়ে থাকার রেকর্ডটিও তার দখলে।

সেই হানিফ মোহাম্মদের মা আমির বি স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের জাতীয় ব্যাডমিন্টন ও টেনিসের শিরোপাধারী ক্রীড়াবিদ ছিলেন। দেশ ভাগের আগে পরে অসংখ্য শিরোপ কিংবা ট্রফির সাক্ষি তিনি। অল্প বয়সে বাবাকে হারানো হানিফ ভাইয়েরা এই মায়ের ওপরই ভরসা রেখে নিজেদের গড়েছেন, নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।  সন্তানদের খেলাতে উৎসাহ কিংবা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিতেন মা।  এমনকী সন্তানদের খারাপ খেলার জন্য অনেক কথাও শুনাতেন আমির বি। একবারের ঘটনা বললে বুঝা যাবে সন্তানদের প্রতি তার কর্তব্য। 

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ভাই ওপর ভাইয়ের প্রতিপক্ষ হয়ে খেলছিলেন হানিফ মোহাম্মদ। একবার যে খেলেছেন তা নয়। অসংখ্যবার খেলেছেন তারা। এমন সময় বড় ভাই হানিফ মোহাম্মদের কৌশলী চালে সেঞ্চুরির আগমুহুর্তে ক্যাচ আউটে কাটা পড়ে মাঠ ছাড়েন ছোট ভাই। আর রাতের বেলায় খাবার টেবিলে বিষয়টি মায়ের কানে পৌঁছায়। মুহুর্তে রাগ করে বসেন আমির বি। কেন সেঞ্চুরির আগমুহুর্তে ছোট ভাইকে হানিফ আউট দিল সে জন্য ছেলে সঙ্গে দুইদিন কথাই বলেননি তিনি। 

আশ্চর্য হলেও সত্য যে, ঠিক এমন শত মোমেন্টামের কারণেই অসংখ্য বিজয় পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। বি পরিবারের কাছে তাই চির কৃতজ্ঞ পাকিস্তান ক্রিকেট তথা ক্রিকেটবিশ্ব। হানিফ মোহাম্মদ কিংবা তার ভাই-নাতিদের কেউই রাজনীতি না জড়ালেও সে দেশেরই একজন আছেন যিনি বর্তমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। যথেষ্ট আবেগী এবং দেশপ্রেমী ইমরান খান বিশ্বকাপজয়ের পর ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে রীতিমত রাজনৈতিক দল খুলে বসেন এবং সেই তেহরিক-ই-ইনসাফের অধীনে সরকারও গঠন করেন। বর্তমানে তার দল ক্ষমতায়।  

ক্যারিয়ারে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং এবং ক্যাপ্টেন্সির গুণে কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ-ক্লাইভ লয়েড-পন্টিং-মাইকেল ভনদের চেয়েও সফল অধিনায়ক ভাবা হয় ইমরান খানকে। খেলার মাঠে যথেষ্ট বিচক্ষণ ছিলেন, যা রাজনৈতিক জীবনে কাজে দিয়েছে তাকে। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতো রাজনৈতিক জীবনেও সফল তিনি। হয়তো তার এমন সাফল্য অনুকরণ করে হাঁটছেন বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। 

মামা-নানারা ছিলেন তুখোড় রাজনীতিবিদ। নড়াইলে একনামে চিনে তাদের। আর সেই রক্ত বহমান ছিল মাশরাফির শরীরে। তা বুঝতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি মা বলাকাকে। বাবা মতুর্জার খেলোয়াড়ি মনোভাব আর মামাদের আদর্শ ধরে রাজনীতির পথে মাশরাফি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতীকে জয় লাভ করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে এখন সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য। দেখা যাক এই যাত্রায় কতটা সফল হন মাশরাফি।

গোনিউজ২৪/এআর

মতামত বিভাগের আরো খবর
‘ডাকসু নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন’

‘ডাকসু নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন’

নারী দিবসে সমঅধিকার চাইলাম, সমদায়িত্ব নিবো না?

নারী দিবসে সমঅধিকার চাইলাম, সমদায়িত্ব নিবো না?

তাহলেই কি আমি শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য নই?

তাহলেই কি আমি শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য নই?

প্রাইভেট-টিউশন নয়, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হওয়া উচিৎ

প্রাইভেট-টিউশন নয়, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হওয়া উচিৎ

আকাশ-মিতুকে নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

আকাশ-মিতুকে নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

আসুন জেনে নিই মিতুর পরিবারের কুকীর্তি!

আসুন জেনে নিই মিতুর পরিবারের কুকীর্তি!