ঢাকা শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫
Sharp AC

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা এক আশ্চর্য অনুভূতি


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০১৮, ০৩:৪৩ পিএম আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮, ০৪:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা এক আশ্চর্য অনুভূতি
Sharp AC

মাননীয় নেত্রী কথা বলেছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্ভবনা আগামীর কর্ম পরিকল্পনা ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ নিয়ে !!!
 
অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে যুক্তরাজ্যস্ত দলের নেতাকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের সুযোগ হয়। লন্ডনের হিথ্রো শফিটেল হোটেলে একান্ত আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্ভবনা নির্ভর বাংলাদেশ ও আগামীর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন যা ছিল এক আশ্চর্য ধরণের অনুভূতি।

এজন্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও পার্টি সেক্রেটারি সাজিদুর রহমান ফারুক সাহেবকে ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কর্মী বান্ধব প্রিয় নেতা আহাদ চৌধুরীকে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নগন্য কর্মী হিসাবে নিজের পরিচয় দিতে সবসময়ই স্বাচ্ছন্দবোধ করি। কারণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। প্রাচীন এই দলের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য হল -প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করা। রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বে তুলে ধরা। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসাবে আমি গর্ববোধ করি।  

জাতিসংঘে একটি সফল অধিবেশন শেষে ট্রানজিট ফ্লাইটে লন্ডন হয়ে বাংলাদেশ ফেরার পথে লন্ডনের হিথ্রো টার্মিনাল ৫ সফিটেল হোটেলে প্রিয় নেতা আহাদ চৌধুরীর আমন্ত্রণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য কথা বলার সুযোগ যা ছিল এক আশ্চর্য ধরণের অনুভূতি। গত ১৬ বছরের অধিক সময় বিলেতে আমার কর্ম পরিসরে অনেক জ্ঞানী গুণী বিশ্ব বরণ্য ব্যক্তিত্বের সাথে দেখা ও কথা বলার সুযোগ হয়েছে যাদের মধ্যে বৃটিশ রয়েল পরিবারের সদস্য প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার বড় ছেলে বিলেতের ভবিষৎ রাজা প্রিন্স উইলিয়াম ডিউক অব কেমব্রিজ। বিলেতের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মেয়ে প্রিন্সেস অ্যান, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, ব্রিটিশ অভিনেত্রী জন কলিন্স ও Who wants to be milliner presenter Chris Tarrant প্রমুখ। তাদের সাথে দেখা হওয়ার পর মন এতটা শিহরিত হয়নি যতটা শিহরিত হয়েছে আবেগে আপ্লুত হয়েছি আমার দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী ও নিজ দলের সভানেত্রীর একান্ত সান্নিধ্যপেয়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৪০ মিনিটের অধিক সময় দিয়েছেন আমাদের। আমাদের গ্রুপের ২০ নেতাকর্মীর সবাই ছিলেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। ৭০ ঊর্ধ্ব প্রধানমন্ত্রীকে দেখে মনে হয়নি তিনি ইতিমধ্যে ৭০ পার করেছেন। ক্লান্তিহীন হাঁসি মুখ প্রাণোজ্জ্বল একজন স্মার্ট ভদ্রমহিলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুব কাছে থেকে দেখে কেন যেন মনে হয়েছে এক মমতাময়ী মায়ের প্রতিছব্বি, তাই পা ধরে সালাম করলাম। মনে হয়েছিল যতক্ষণই উনার পাশে বসে কথা বলব রাজনৈতিক কথা বার্তাই হবে। না, আমার ভবনা ছিল ভুল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন প্রবাসে আমরা কেমন আছি ? কথা বলেছেন বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্ভবনা ও আগামীর কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে।

আমার জেলা মৌলভীবাজার আরো একটি মেডিকেল কলেজ প্রসঙ্গ আসলে নিমিষেই তা হারিয়ে যায় আলোচনার মেনু থেকে। তবে নেত্রী বলেছেন একটি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা করতে ডাক্তার নার্স রেডিগ্রাফার মেডিকেল ছাত্র অনেক বিষয় সম্পর্কিত। আশ্বস্ত করেন সকল সমস্যা দাবি দাওয়া সুরাহা হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে ইন্শাল্লাহ।
         
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে কিভাবে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সম্ভাবনাময়ী দেশ হিসাবে বহির্বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। আপনাদের সবাইকে স্ব অবস্থান থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের গ্রুপের এক বোন নিজের নার্সিং প্রপেশন এর কথা দিয়েই আলোচনার সূত্রপাত করেন। বললেন, বাংলাদেশ থেকে বহিঃর্বিশ্বে এসে কাজ করতে গিয়ে উনার অভিজ্ঞতা ও প্রতিবন্ধকতা। আমি নিজে হেল্থ সার্ভিসে কাজ করি তাই কথা বলতে সহজ হয়েছে। নেত্রী বলেছেন দেশে এখনো ডাক্তার নার্সদের শূন্যতা আছে। সাহস করে ফ্লোর নিয়ে বলেছি মাননীয় নেত্রী বাংলাদেশের নার্সরা বহির্বিশ্বে কাজ করতে গিয়ে যে সমস্যা হয় তা হল ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতা যা ইন্ডিয়ান নার্সদের বেলায় কোনো সমস্যা না- নেত্রী একমত পোষণ করেন। দেশের নার্স ও প্রফেশনালদের ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জনে উনার সরকারের পরিকল্পনার কথা বলেন যাতে করে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে বহির্বিশ্বে তারা কাজ করতে পারে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সত্যিই একজন গর্বিত মা। ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে গ্র্যাজুয়েট একজন সুশিক্ষিত ভদ্র মহিলা। প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অটিজম সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গেলে মেয়ের সাফল্য নিয়ে কথা বলেন। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একটি স্পর্শকাতর বিষয় অটিজম নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশে। একটা সময় ছিল অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে অটিস্টিক ছেলে মেয়েদের পরিবারের বোঝা হিসাবে দেখা হত যা এখন আর মানুষ সেই ভাবে চিন্তা করে না। তা সম্ভব হয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।      

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি প্রিয় নেতা সাজিদুর রহমান ফারুক সাহেবের অনুমতি নিয়ে এক মিনিটেই বলে ফেললাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি লন্ডনে হেল্থ সার্ভিসে কাজ করছি ১৬ বছরের অধিক সময় ধরে। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ও প্রিন্ট মাধ্যমে আমি আমার ভলেন্টারি সেবার কথা বলেছি 'কেউ যদি বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে এসে ক্যান্সার রোগের প্রাইভেট চিকিৎসা করাতে চায়- কি ভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসাবে ভলেন্টারি পরামর্শ সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে আমি প্রস্তুত- নেত্রী বলেছেন গুড! বলেছি, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আমি ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটির মেম্বার। আপনার সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশে যে কাজটি করছেন তা প্রশংসনীয় দেশ ও বহিঃর্বিশ্বে। আমি বিভিন্ন সেমিনারে এটেন্ড করি অটিজম কি জানার চেষ্টা করি এবং আর্টিকেল লেখনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছি -মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন গুড।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোনো নেতা আমাদের টিমে ছিলেন না। আমরা সবাই সুশৃঙ্খলভাবে বসে নেত্রীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। আমার টিমে ছিলেন ছাত্রনেতা সারওয়ার কবির। প্রিয় সারওয়ার আওয়ামী লীগের সাফল্য গাঁথা নিয়ে চমৎকার কথা বলেছেন। মাননীয় নেত্রী সবাইকে স্ব -অবস্থান থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ইহাই সত্য যে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় সুনিশ্চিতে আমাদের স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। শুধু শুধু সৌজন্য স্বাক্ষাৎ, সেলফি, ফটো সেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে নিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে দলের স্বার্থে। আওয়ামী লীগ পৃথিবীর সবচাইতে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংগঠন এই ধরণের আত্মবিশ্বাস আত্মঅহমিকা থেকে বেরিয়ে এসে এযাবৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের অর্জিত সাফল্য আগামীর কর্ম পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের দৌঁড়গড়ায় নিয়ে যেতে হবে। মানুষকে বুঝতে সচেষ্ট হতে হবে কেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনরায় নির্বাচিত করার কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নেতাকর্মীরা

খৈ ফোটানের মত হাজারো সাফল্য বিগত দুই মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের পায়রা উড়িয়েই টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার ইতি চৈ চৈ করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। সেই তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

দেশের নিজস্ব অর্থে ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতু নির্মাণ করার সাহস দেখিয়েছে বর্তমান সরকার। সকল কৃতিত্ব দেশের সফল প্রধানমন্ত্রীর। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনা অনেক দেশ ও সংস্থার সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩১টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পরপর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল সম্প্রতি তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা বাংলাদেশের বড় অর্জন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও সংস্থা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধি। তলাহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্বও পালন করছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে গৌরবের বিষয় যে নিজ দলের সভানেত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকার প্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীর একজন মনোনীত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস রোহিঙ্গাদের সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ বা ‘পূর্বের নতুন তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা অর্জন করেছে বর্তমান সরকার। এই বিচার করতে পারা স্বাধীন বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য। গত কয়েক বছরে ডিজিটাইজেশনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করছে। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমছে। ই-টেন্ডারিং, ই-জিপির ফলে দুর্নীতি কমছে। ১০ টাকায় কৃষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার ঘটনাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগছে।

সরকারে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু ও তার চার বছরে অনেক সফলতা আসলেও এই যাত্রায় ছিল সরকার বিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র। সামনে এসেছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। বিএনপি-জামায়াতের চরম রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা করে দেশ যখন স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারায়, ঠিক তখনই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে জঙ্গিবাদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জের বেশিরভাগই স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকও। সরকারকে বিপাকে ফেলে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড-অগ্রযাত্রা স্তিমিত করে দেয়াই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা, মসজিদ-মন্দিরে হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা এবং সবশেষ এক নারী জঙ্গির আত্মঘাতীর ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েই সব ষড়যন্ত্র আর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সঠিক রাস্তায় গন্তব্যে ছুটছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

তাই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প দেখছিনা। পরিশেষে যা বলতে চাই, মাননীয় নেত্রী 'যতদিন তোমার হাতে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ'। প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

নজরুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক ,বঙ্গবন্দু শিশু একাডেমি যুক্তরাজ্য
সাংগঠনিক সম্পাদক, ওয়েস্টলন্ডন আওয়ামী লীগ
মেম্বার, দি ন্যাশনাল অটিষ্টিক সোসাইটি ইউনাইটেড কিংডম
আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন।
trade.zoon@yahoo

গোনিউজ২৪/এআরএম

মতামত বিভাগের আরো খবর
একজন ব্যক্তি, একটি পদক্ষেপ, ক্ষমতা বিএনপির!

একজন ব্যক্তি, একটি পদক্ষেপ, ক্ষমতা বিএনপির!

সফল রাজনৈতিক নেতার প্রতিচ্ছবি ড. আব্দুস শহীদ এমপি

সফল রাজনৈতিক নেতার প্রতিচ্ছবি ড. আব্দুস শহীদ এমপি

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা এক আশ্চর্য অনুভূতি

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, যা এক আশ্চর্য অনুভূতি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে জয়ের স্ট্যাটাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে জয়ের স্ট্যাটাস

তাসকিনের ছেলের জন্ম! বাঙ্গালীর মাস হিসাব নিকাশ   

তাসকিনের ছেলের জন্ম! বাঙ্গালীর মাস হিসাব নিকাশ   

‘স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে’

‘স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে’

Best Electronics AC mela