ঢাকা সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৫

যুদ্ধাপরাধী মান্নানকে দলে রেখে জামায়াত বিরোধীতা মানায় না!


গো নিউজ২৪ | জামশেদ মেহেদী:  প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮, ০৯:৪৩ পিএম
যুদ্ধাপরাধী মান্নানকে দলে রেখে জামায়াত বিরোধীতা মানায় না!

একটি মজার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘যমুনা টিভির’ টক’শোতে জোটের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা চলছিলো। এই টকশোর রেকর্ডকৃত ইউটিউব ভার্সন আমার কাছে রয়েছে। ২৪ ঘন্টা নামে আয়োজিত রাত ১১টার ঐ টক’শোর অন্যতম আলোচক ছিলেন সেক্যুলার ঘরানার গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ। আরো ছিলেন ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। 

মহিউদ্দিন আহমেদ জাসদ এবং বিএনপির ওপর দুটি গবেষণা গ্রন্থ লিখেছেন এবং প্রথম আলো প্রকাশনী সেগুলো প্রকাশ করেছে। 

আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিকল্প ধারা জামায়াতকে যুক্তফ্রন্টে বা ঐক্য প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক। কারণ তাদের ভাষায় জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা বিরোধী। কিন্তু তিনি প্রশ্ন করেন, জামায়াতে ইসলামী যদি স্বাধীনতা বিরোধী হয় তাহলে বিকল্প ধারার সেক্রেটারি কে? বুলবুল উত্তর দেন, “মান্নান, মেজর মান্নান”। মহিউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন করেন, “মান্নান কে”? মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: মান্নান বিএনপির লোক। 

মহিউদ্দিন: “বিএনপির লোক তো হয়েছে বিএনপি হওয়ার পরে। ৭১ সালে সে কি ছিল? অতঃপর তিনি বলতে থাকেন, মেজর মান্নান পাকিস্তান আর্মির কমান্ডো অফিসার ছিল। তাদের গুলিতেই শমসের মুবীন চৌধুরী আহত হন। আমি তাকে ইন্টারভিউ করেছি।  সে বলেছে, তার নেতৃত্বে আনোয়ারায় একটি কমান্ডো বাহিনী নেমে এলোপাথাড়ি গুলি করে লোকজন মেরেছে। পরে সে চলে যায় পাকিস্তানে। রিপাট্রিয়েটেড হয়ে ফিরে আসে। বঙ্গবন্ধু তাকে চাকুরীতে পুনর্বাসন করেন নাই। এই হলো মেজর মান্নান। 

যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধাপরাধী বলবো না। স্বাধীনতা বিরোধী। সে-ই হচ্ছে দলের (বিকল্পধারার) সেক্রেটারি। আপনি দলে এমন একজন লোককে সেক্রেটারি বানালেন যে দেশ বিরোধী। 

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আপনি (মাহি বি চৌধুরী) বলছেন,  প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা স্বাধীনতা বিরোধী তাদেরকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় রাখা হবে না। তাহলে তো তার বাবার পক্ষও ত্যাগ করা উচিত। মাহি তখন ছোট ছিল বা জন্ম হয় নাই। সে হয়তো বলতে পারে, আমার দায় নাই। কিন্তু মান্নান সাহেবের ব্যাপারটা তো সবাই জানে। এটা তো নতুন কিছু নয়। সে কারণে জামায়াতের রাজনীতি করা বা ইসলাম পছন্দ পার্টিগুলি, ৭১ সালের  সংবিধানে যাদের রাজনৈতিক অধিকার ছিলোনা, একই অর্থে আমি তো মনে করি যে মান্নান সাহেবদের এদেশে রাজনীতি করার কোনো রাইট নাই, যতদিন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা এদেশে বেঁচে আছে। 

তিনি আরো বলেন, ৭০ সালে বদরুদ্দোজা আওয়ামী লীগের নমিনেশন চেয়েছিলেন। 

(লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক)

গো নিউজ২৪/আই

মতামত বিভাগের আরো খবর
যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ভোট না দেয়ার আহ্বান

যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ভোট না দেয়ার আহ্বান

প্রশ্ন করেন কাকে? 

প্রশ্ন করেন কাকে? 

আ.লীগের সমর্থন ৬৬ শতাংশ, বিএনপির ১৯.৯

আ.লীগের সমর্থন ৬৬ শতাংশ, বিএনপির ১৯.৯

ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?

ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?

নাইকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়া ও তারেকের সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার

নাইকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়া ও তারেকের সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!