ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

২০ লাখ মানুষ কী চান?


গো নিউজ২৪ | জুনাইদ আল হাবিব প্রকাশিত: মে ২৪, ২০১৮, ১১:৫৮ এএম
২০ লাখ মানুষ কী চান?

একটি স্বপ্ন, বহু দিনের প্রতিক্ষা। দাবিটা ২০লাখ মানুষের প্রাণের। পথে প্রান্তরে, সভা-সেমিনারে, এমন কী ভার্চুয়াল জগতেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা- সমালোচনার সরগরম।

এ জনসমর্থনে সহায়তা করছে ভার্চুয়াল জগত। এখানে দাবি উত্থাপনের মাধ্যমেই উৎপত্তি লঞ্চ আন্দোলনের। জেগে ওঠেছে লক্ষ্মীপুরের তরুণরা। এ জেগে ওঠা জলপথে ঢাকার সাথে সরাসরি লঞ্চ সংযোগ চালুর দাবিতে।

গড়ে ওঠেছে সামাজিক আন্দোলন "ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদ"। জোর প্রচার-প্রচরণায় নেমেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। স্থানিয় ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার মতবিনিময় সভা, ইফতার পার্টি ও আলোচনা সভা শেষ হয়েছে।

সংগঠকরা জানান, দাবি আদায়ে এ ঈদুল ফিতরের পর পরই লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক পরিসরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। কিন্তু কেন এই দাবি জনমতে রূপ নিয়েছে?

জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আনসার উদ্দিন মনিরের কাছে। তিনি বলছিলেন, সড়কে পথে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, অসহনীয় যানজট, প্রাণহানির মতো মারাত্মক পরিস্থিতি দাবি আদায়ে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

আপনি দেখুন, সম্প্রতি গ্রামের বাড়ি চর মার্টিনে গিয়েছি। যেদিন গিয়েছি, পর দিনই আমাকে ফিরতে হবে। মনে খুব দুশ্চিন্তা কাজ করছিলো। আমাকে সড়ক পথে তীব্র ভোগান্তির মধ্যেই রাজধানীর বুকে পা রাখতে হয়েছে।

এতে কী হয়েছে জানেন? অসহ্য জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করেছি। মাত্র ৫ঘন্টার পথ গড়িয়েছে ১৫ঘন্টার। ঢাকা টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটতো শুধু সম্প্রতিকালের নয়।বহুকাল থেকে এ পরিস্থিতি আমাদের হজম করতে হচ্ছে। এ কারণেই মূলত ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস চালুর দাবিটা ব্যাপক জনসমর্থনে এসে দাঁড়িয়েছে।

অপরদিকে এ আন্দোলনের আহবায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুছ সাত্তার পলোয়ান দেখালেন ব্যাতিক্রমী যৌক্তিকতা।

তিনি বলছিলেন, "অসুস্থ মা-বাবা সবারই। উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাই রাজধানীমুখী। আরাম-আয়েশে দুর্ভোগ ছাড়া ঢাকায় যাতায়াত কে চান না? আমার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা সেবা নিয়েও আমি চিন্তিত। ওইদিন(রমজানের আগে) সকালে তাকে ঢাকা থেকে বাসযোগে বাড়ির দিকে পাঠালাম।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে মুঠোফোনে জানতে পারি, তিনি এখনো মেঘনা সেতু পার হতে পারেন। ওখানেই আটকে আছেন। এ সময় কেমন লাগে? যদি ঢাকার সাথে সরাসরি লক্ষ্মীপুরের লঞ্চ যোগাযোগ থাকতো, তবে সময় লাগতো মাত্র ৩-৪ঘন্টা।"কেন এ দাবি এখনও ঝুলে আছে?

এমন প্রশ্নে তিনি বলছিলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে আদৌ লক্ষ্মীপুরের সাথে রাজধানীর কোন আরামদায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সেজন্য আমরা সবচেয়ে আরামদায়ক লঞ্চ সার্ভিস চালুর কথা বলে আসছি দীর্ঘকাল থেকে। মধ্যখানে এ দাবি বাস্তবায়নের দিকেও গিয়েছিল।

কিন্তু যেকোন অশুভ শক্তি এ দাবি বাস্তবায়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নচেৎ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কয়েকবার প্রতিবেদন নিয়ে দিন- তারিখ, সময় ঠিক করে লঞ্চ সার্ভিস চালু করার ঘোষণাও দিয়েছে। পুরো লক্ষ্মীপুরবাসীর বুক স্বপ্নীল আশায় বেঁধেছে। কিন্তু তা হঠাৎ স্থগিত করা হয়েছে। যাতে আশাহত হয়েছে লক্ষ্মীপুরের মানুষ।"

"স্থানিয় ও জাতীয় পর্যায়ে আমরা মতবিনিময়, ইফতার পাটি ও আলোচনা সভা করেছি। দাবি আদায়ে জনসমর্থনের জন্য নিরলসভাবে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানিয় পর্যায়ে মানববন্ধন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ, জেলা সাংসদদের মাধ্যমে সংসদে তা উপস্থাপন, পোস্টার, লিপলেট, ডিজিটাল ব্যানার ও চিকা মারাসহ আরো নানা পরিকল্পনা আমরা হতে নিয়েছি।" ভবিষ্যত প্রদক্ষেপে সম্পর্কে এও বলছিলেন তিনি।

জার্মানির হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক, লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান আল আমিন(উল্লাস) বলছিলেন, "ঢাকার সাথে লক্ষ্মীপুরের লঞ্চ ব্যবস্থা চালুতে বাঁধা কোথায়? বুঝলাম না। নাব্যতা সংকটের প্রশ্ন কেন আসে?

কেউতো বলছেনা যে, ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস চালু করলে মজুচৌধুরীরহাটে ঘাট স্থাপন করতে হবে।

জেলার দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি। মতিরহাট, মাতাব্বরহাট, আলেকজান্ডার থেকে সরাসরি নৌ-পথে ঢাকা যেতে আপত্তি কোথাই। এখান দিয়েইতো দেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে জাহাজে করে মালামাল আনা-নেওয়া হয়। লক্ষ্মীপুরের মানুষ চাঁদপুর হয়ে ঢাকা যেতে হবে কেন?

এখানেইতো সুযোগ আছে, কিন্তু সুবিধা মিলছেনা। চাঁদপুর লঞ্চঘাট ও ভৈরবী লঞ্চঘাটের যাত্রীরা অধিকাংশই লক্ষ্মীপুরের। সড়কপথের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বাড়তি খরচতো আছেই। আবার মাঝে মাঝে শুনি, এ পথে যাতায়াতকালে দুর্ধর্ষ ডাকাতিরও মুখোমুখী হতে হয়। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় লক্ষ্মীপুরের যাত্রীরাই।"

জুনাইদ আল হাবিব, লক্ষ্মীপুর।

 

মতামত বিভাগের আরো খবর
যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ভোট না দেয়ার আহ্বান

যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের ভোট না দেয়ার আহ্বান

প্রশ্ন করেন কাকে? 

প্রশ্ন করেন কাকে? 

আ.লীগের সমর্থন ৬৬ শতাংশ, বিএনপির ১৯.৯

আ.লীগের সমর্থন ৬৬ শতাংশ, বিএনপির ১৯.৯

ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?

ব্যর্থতার দায়ভার কি শুধুই শিক্ষকের?

নাইকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়া ও তারেকের সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার

নাইকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়া ও তারেকের সংশ্লিষ্টতা পরিষ্কার

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!

নির্বাচনে হিরো আলমের প্রার্থিতা ও আমাদের সাংবাদিকতা!