ঢাকা রবিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
Beta Version
Sharp AC

রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই খালেদার মুক্তি!


গো নিউজ২৪ | ইমতিয়াজ আমিন, নিউজ রুম এডিটর প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ০৭:১১ পিএম আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ০৩:৫৪ পিএম
রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই খালেদার মুক্তি!
Sharp AC

ঢাকা : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কবে মুক্তি পাচ্ছেন? তিনি কী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, অথবা নির্বাচনের সময় কী তাকে জেলে বন্দি রাখা হবে ? এরকম হাজারো প্রশ্ন এখন জনসাধারণের মনে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতারের পর মনে করা হচ্ছিল খুব তারাতারিই তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে হিসেবে গড়মিল ততোই বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

দিনকে দিন তার বন্দি জীবন দীর্ঢ়সূত্রিতার মধ্যে আটকা পড়ছে। এ অবস্থায় বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে কী রাজনীতির অন্ধকারকুঠিরে চারদিক থেকে আটকা পরে যাচ্ছেন খালেদা ? নাকি তার মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কোনো পথ খোলা রয়েছে ?

আসলেই তাই, বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়নি। এখনো একটি পথ তার সামনে খোলো রয়েছে। তবে পথটি খুব একটা মসৃণ নয়। এজন্য খালেদা জিয়াকে জীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিতে হবে হয়তো।

রায় পূর্ব কিংবা পরবরর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একটাই বক্তব্য, সেটা হচ্ছে আদালতের রায়ে তাদের কোনো হাত নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন যে, আদালত রায় দিয়েছে এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। 

তবে এটাওতো সত্য, এতবড় একটা ঘটনা দেশে ঘটে গেল, এটা যে সরকারের পরোক্ষ নির্দেশনা বা সমর্থন ব্যতিত সম্ভব নয় সেটা দেশের প্রতিটি মানুষই মেনে নেবেন।

বাংলাদেশের রাজনীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই সাথে বিগত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনেও যে আওয়ামী লীগ খুব সহজে ক্ষমতার স্বাদ পাবে তা কিন্তু নয়। 

বিরোধী রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ব্যতিত আগামী নির্বাচন হলে তা যে বহির্বিশ্ব ভালো ভাবে নেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা অনুধাবন করতে পেরেছেন হয়তো। তাই এখনই সময় পথের কাটা সরানোর। 

স্বাভাবিক ভাবেই শেখ হাসিনার পথের কাটা হচ্ছেন খালেদা জিয়া। তাকে সরাতে পারলে বিএনপি নির্বাচনে আসলেও কিছু যায় আসে না। খালেদার অবর্তমানে তার ছেলে তারেক রহামান দেশে এসে দলের হাল ধরবেন সেটা খুব একটা সহজ হবে না। কেননা খালেদা জিয়াকে কোনো ভাবে পথ থেকে সরাতে পারলে তারেক রহমান দেশে ফেরার সাহস করবেন না। তাছাড়া তারেককেও দেশে ফেরার সকল পথ বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে সরকার।

খালেদা জিয়া রায়ের দিন লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে যে হামলা হয়েছে সেখানে তারেকের সংশ্লিষ্টতা খুজছে সরকার। ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। 

এই ইস্যুটি কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিলসহ বিচারের মুখোমুখি করার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ।

সরকার চাইছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি হাই কমিশনে হামলার অভিযোগে সেই দেশের পুলিশ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করুক। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। 

যদি তা হয়েই যায় তাহলে তারেকের দেশে ফেরা অনিশ্চিত। তাছাড়া বাংলাদেশে তারেকের বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা তো রয়েছেই।

তাহলে কী দাড়ালো ? তারেকের পথ তো বন্ধ। এ অবস্থায় পথের কাটা শুধু একজনই তিনি হচ্ছেন খালেদা জিয়া।

মনে করা হচ্ছে কারাগার থেকে মুক্ত হতে খালেদা জিয়াকে একটি শর্ত দেয়া হতে পারে বা দেয়া হয়েছে। হতে পারে সেটি রাজনীতি থেকে চির বিদায়ের শর্ত।

এর আগে খালেদা জিয়া বিএনপির এক জনসভায় বলেছিলেন আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না তিনি। এবার হয়তো সেই কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে আগেই তাকে সরে যেতে বলা হয়েছে। হয়তো বলা হয়েছে, রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোসণা দিলেই তিনি মুক্তি পেয়ে যাবেন। তাকে আর কোনো মামলা-হামলায় জড়ানো হবে না। সেই সাথে হয়েতো আর্থিকসহ আরও যে সকল নিরাপত্তা প্রয়োজন তাও দেয়া হবে।

সরকার বুঝে গেছে, খালেদা জিয়াকে যেহেতু ৫দিন কারাবন্দি করে রাখা গেছে সেহেতু ৫ বছরও রাখা যাবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের ঝাঁজ দেখে সরকার সেটা আন্তাজ করে ফেলেছে। 

আওয়ামী চাচ্ছে রাজনীতি থেকে অবসরের বিষয়টি খালেদা জিয়া নিজেই সামনে আনুক। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তার বক্তব্যে এর ইঙ্গিতও দিয়েছেন। রায়ের দিন বরিশালে প্রধানমনন্ত্রীর জনসভায় তার ইঙ্গিত রয়েছে।

এদিকে বিএনপির শীর্ষ মহলও হয়তো এটি জানে। হয়তো এমনও হতে পারে বিএনপির অভ্যন্তরেই এমন কেউ রয়েছে যারা বিষয়টি নিয়ে দেন দরবার করছেন।

যদি তা হয় তবে শিগগিরই দেশের রাজনীতিতে যে বড় কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না!

 

গো নিউজ২৪/আই

মতামত বিভাগের আরো খবর
জনপ্রিয় বলে কি শহিদুল আলম আইনের ঊর্ধ্বে?

জনপ্রিয় বলে কি শহিদুল আলম আইনের ঊর্ধ্বে?

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী হেলমেটধারীরা কারা?

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী হেলমেটধারীরা কারা?

সাকিবের দোষ ধরবো, নাকি সাকিবের কাছ থেকে কিছু শিখবো?

সাকিবের দোষ ধরবো, নাকি সাকিবের কাছ থেকে কিছু শিখবো?

‘শহিদুল আলম আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন’ 

‘শহিদুল আলম আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন’ 

আ’লীগ সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী   

আ’লীগ সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী   

স্বৈরাচারী শাসন চেকলিস্টের পর সোহেল তাজের ‘লাইফ লেসন’

স্বৈরাচারী শাসন চেকলিস্টের পর সোহেল তাজের ‘লাইফ লেসন’

Best Electronics AC mela