ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭

সরকারি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের দুঃখের কথা


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০, ০৯:৩০ পিএম
সরকারি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের দুঃখের কথা

করোনার প্রভাবে হাহাকার নেমে এসেছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের। যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ সকল ব্যয় বাড়লে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। উপরের গ্রেড গুলোতে পদ না থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতি হলেও যোগ্যতা থাকার পরও নিচের গ্রেডের কর্মচারীরা পদোন্নতি পাননা। সারাজীবন একই পদে চাকরি অথবা নামমাত্র পদোন্নতি নিয়ে অবসরে যেতে হচ্ছে তাদের।ফলে চাকরি জীবনে বঞ্চিত হওয়ায় বেতন স্কেল না বাড়ায় তারা পেনশনও পাচ্ছেন অনেক কম। 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমানে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ৮২ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি বাসা ভাড়া হিসেবে পাচ্ছেন ৪১ হাজার টাকা। গাড়ী রক্ষণাবেক্ষনের জন্য পাচ্ছেন ৫০ হাজার টাকা। রান্না করার জন্য বাবুর্চির বেতন এবং দারোয়ানের জন্য পাচ্ছেন ১৬ হাজার করে। টেলিফোন বিল এবং সভার সম্মানিসহ মাসে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা পাচ্ছেন তিনি। বছরে তিন থেকে পাঁচটি বিদেশ সফরে পান অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা।

অথচ ২০ তম গ্রেডের একজন কর্মচারী সর্বসাকুল্যে বেতন পাচ্ছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই তাকে বাড়ীভাড়া, খাবারসহ সব ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎবিল, গ্যাসবিলসহ সব মিলিয়ে চলে যাচ্ছে ৭ হাজার টাকা। এর পর পুরো মাসের খরচ চালানোর জন্য তার হাতে থাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে তাকে পুরো মাসের সংসারের খরচ, পরিবারের কাপড়সহ যাবতীয় খরচ বহন করতে হয়। এর বাইরে তার আয়ের আর কোনো উৎস নেই। বেতনের আকাশ পাতাল বৈষম্য থাকলেও দৈনন্দিন খরচে নেই খুব বেশি পার্থক্য। ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসের ১৫ দিন না অতিবাহিত হতেই শুরু হয় টানাটানি। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই স্ত্রী সন্তানকে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। 

সূত্র জানায়, বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান ঘটাতে ২০১৩ সালে সকলস্তরের কর্মচারীদের জন্য একটি সুষম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্দেশ্যে কমিশন গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনরকে প্রধান করে গঠিত কমিশন মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাই করে একটি সুষম পে-স্কেল প্রস্তাব করে। সেখানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ১১২০০ টাকা এবং গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬ করার প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে সচিব কমিটি গ্রেড পূর্ণগঠন করে ২০ গ্রেড করে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। 

পে-স্কেল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০ থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকায় শুরু হয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় শেষ হয়। এই ১০টি গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৪২৫০ টাকা। পাশাপাশি ১০ থেকে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৭৮ হাজার টাকায় শেষ হয়। এই ১০টি গ্রেডের পার্থক্য ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে গাড়ি, আবাসনসুবিধা, সুদমুক্ত গাড়ির ঋণসহ নানাবিধ সুবিধা। অথচ প্রত্যেকে একই বাজারব্যবস্থার কাঠামোর আওতায় জীবন ধারণ করেন, এতে শ্রেণীবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে নানাভাবে আন্দোলন করছেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা। তারা পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বহুবার। মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন দীর্ঘদিন।

এমন প্রেক্ষাপটে এ বছরের শুরু থেকে সারা দেশের কর্মচারীরা ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম, বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ব্যানারে টানা আন্দোলন করেন। 

১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি মিরাজুল ইসলাম বলেন, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। বেতনবৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যদের দফতরেও স্মারকলিপি দিয়েছি। এরপর ৫০ এর অধিক মন্ত্রী ও এমপির দফতরে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখছি না। বেতনবৈষম্য নিরসনসহ নতুন পে-স্কেল সংশোধন করে গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেলের পার্থক্য সমাহারে নির্ধারণ ও গ্রেড সংখ্যা কমানোর জোর দাবি জানান তিনি।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক খান আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যমান মূলবেতন ও পদোন্নতি বৈষম্য নিরসন না হলে তারা আন্দোলনের দিকে ধাবিত হবেন। কারন, নিম্নগ্রেডের কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আগামি ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এবং আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে মানবন্ধন করা হবে।  

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চলতি সংসদের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তুাব রাখার প্রাক্কালে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা বৈষম্যের শিকার, তাদের বেতনবৈষম্য দূর করা দরকার। ৩ শ’ টাকা যাতায়াত ভাতা, ২ শ’ টাকা টিফিন ভাতা, ৫ শ’ টাকা শিক্ষাভাতা, ১৫ শ’ টাকা চিকিৎসাভাতা একেবারেই বেমানান। এসব ভাতা বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

একই বিষয় নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১১-২০তম গ্রেডের চাকরিজিবীদের বেতনবৈষম্য দূরীকরণে একটি কমিটি বা নতুন পে- কমিশন গঠনের অনুরোধ করে ১৪ লাখ কর্মচারীর হতাশা দূরীকরণের দাবি জানান। সোনালীনিউজ

জাতীয় বিভাগের আরো খবর
দেশের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের অপেক্ষায়

দেশের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের অপেক্ষায়

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে, সাধারণ মানুষ এতকিছু ভাবছেন না

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে, সাধারণ মানুষ এতকিছু ভাবছেন না

ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল স্বপ্নই রয়ে গেছে

ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল স্বপ্নই রয়ে গেছে

সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে ডিজিটাল অ্যাকাডেমি: প্রধানমন্ত্রী

সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হবে ডিজিটাল অ্যাকাডেমি: প্রধানমন্ত্রী

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ২০ শতাংশ কমে গেছে, সাথে বেতনও

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ২০ শতাংশ কমে গেছে, সাথে বেতনও

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিন নতুন কারা মহাপরিদর্শক

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিন নতুন কারা মহাপরিদর্শক