ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

মিডিয়ায় আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: আল্লামা শফী


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০১৯, ০৯:৪২ পিএম
মিডিয়ায় আমার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে: আল্লামা শফী

মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা শফী দাবি করেন, মাহফিলে দেয়া তার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর আগে জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের  আল্লামা শফী বলেছিলেন, মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াবেন। এর চেয়ে বেশি পড়ালে মেয়ে আর মেয়ে থাকবে না, অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে।

এর একদিন পর হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল প্রেরিত ওই বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে নারীদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত।

ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা উল্লেখ বিবৃতিতে তিনি বলেন, নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারী শিক্ষাবিদ্বেষী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে আল্লামা শফী বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি কওমিপন্থী ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। আপনারা জানেন যে, ওই ছয় বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদ্রাসাছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

হেফাজত আমির বলেন, নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

গো নিউজ২৪/আই

জাতীয় বিভাগের আরো খবর
কাদের এখন শঙ্কামুক্ত

কাদের এখন শঙ্কামুক্ত

বাসের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মেনন

বাসের ধাক্কা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মেনন

জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আটক

জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী আটক

পদ্মা সেতুতে বসলো নবম স্প্যান

পদ্মা সেতুতে বসলো নবম স্প্যান

কক্সবাজারে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

কক্সবাজারে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

বিচারপতির স্ত্রীর কাছে ঘুষ দাবি, পুলিশের এএসআই‍‍`র ২ বছর কারাদণ্ড

বিচারপতির স্ত্রীর কাছে ঘুষ দাবি, পুলিশের এএসআই‍‍`র ২ বছর কারাদণ্ড