‘টানা ৬ মাস প্রতিদিন, প্রত্যেকটি দিন সে আমাকে ধর্ষণ করতো’


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০১৭, ০৬:৪৫ পিএম
‘টানা ৬ মাস প্রতিদিন, প্রত্যেকটি দিন সে আমাকে ধর্ষণ করতো’

মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ২০১৪ সালে ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের অনেককে। যাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়ে। আইএসের যোদ্ধারা এসব নারীকে আটকে রেখে ব্যবহার করতে থাকে যৌনদাসী হিসেবে।

এদেরই একজন ১৭ বছর বয়সী এখলাস। যখন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার বয়স ছিলো ১৪। এই কিশোরীকে রাখা হয়েছিলো মাউন্ট সিঞ্জার নামের একটি পাহাড়ে। কিশোরী এখলাস ছিলো এক যোদ্ধার তত্ত্বাবধানে। তার সাথেই থাকতে হতো তাকে। আইএসের এই যোদ্ধাটি যেখানে যেখানে, যেতো তাকেও তার সাথে সেখানে যেতে হতো।

তিনি জানান, ছয় মাস ধরে যোদ্ধারা এই সিঞ্জার পর্বতে তাকে ব্যবহার করেছে যৌন কাজে। সম্প্রতি তিনি আইএসের হাত থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পালিয়ে আসার পর বিবিসিকে তিনি বলেন, তাকে এই ছয় মাসের প্রতিদিন ধর্ষণ করা হয়েছে।

এখলাস বলেন, ‘প্রতিদিন, প্রত্যেকটি দিন আমাকে সে ধর্ষণ করতো। টানা ছয় মাস ধরে। এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্যে আমি আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলাম।’

মাউন্ট সিনজার এলাকা

উত্তর ইরাকে ইয়াজিদি জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়ে আইএস যোদ্ধারা যখন নারীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়, তখন তারা তাদের পুরুষদের হত্যা করে মৃতদেহ পেছনে ফেলে রেখে যায়। পিতা, স্বামী, ভাই ও সন্তান হারিয়ে তারা যখন শোকে ভেঙে পড়ে, তখনই তাদের ধর্ষণ করা হয় পালাক্রমে।

এখলাসের ভাষায়, ‘আমরা দেড়শো জনের মতো ছিলাম। আমাদের মধ্য থেকে সে আমাকেই বাছাই করে নিলো। লোকটার মাথা ভর্তি ছিলো লম্বা লম্বা চুল। জানোয়ারের মতো দেখতে। খুবই কুৎসিত। তার শরীর থেকে সবসময় দুর্গন্ধ আসতো। আমি ভয়ে কুঁকড়ে থাকতাম। লোকটার দিকে তাকাতেও পারতাম না।’

এই কিশোরী জানান, প্রতিদিনই তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করতেন। সব সময় অপেক্ষা করতেন এমন একটা সুযোগের। একদিন যখন ধর্ষণকারী যুদ্ধ করতে একটু দূরে গেলো, সেদিনই তিনি সেই সুযোগটা কাজে লাগালেন এবং পালিয়ে এলেন আইএসের হাত থেকে। পরে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় একটি শরণার্থী শিবিরে।

গো নিউজ২৪/ আরএস

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর