দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল সেই সামাদ: মনিরুল


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭, ০৩:৫৫ পিএম
দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল সেই সামাদ: মনিরুল

রাজধানীর মহাখালিতে অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ (এসএজি) এর একাধিক টিম। বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিক এবং তার দুই সহযোগী জিয়াদুল ইসলাম ও  মো. আজিজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে শিশির।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সিটিটিসি’র প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ২০০টি ডেটোনেটর, ১টি ৯ এম এম পিস্তল ও  ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আসামী আব্দুস সামাদের বাড়ী দিনাজপুর । সে ২০০২ সালে দাওয়া হাদিস এবং ২০১১ সালে ফাজিল পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। আসামী জিয়াদুল এবং আজিজুল ইসলামের  বাড়ী চাপাইনবাবগঞ্জ। গ্রেফতারকৃত জিয়াদুল ৪র্থ শ্রেনী এবং আজিজুল ২০১৩ সালে দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, আসামী আব্দুস সামাদ ২০১০ সালে প্রথম জেএমবিতে যোগ দেয়। ২০১৪ সালে তামিম চৌধুরীর সহিত  মিলিত হয়ে “জুনদ আল তাওহীদ আল খিলাফাহ” নামক একটি দল গঠন করে। দলের তামিম চৌধুরী প্রধান এবং আব্দুস সামাদ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত হয়।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আব্দুস সামাদ দলের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রদান, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, বোমা তৈরী সহ নানাবিধ কাজে পারদর্শী ছিল। এছাড়াও সে অস্ত্র চালানো এবং গ্রেনেড বিস্ফোরণের বিষয়ে আব্দুস সামাদ নবীন সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করত। বিভিন্ন সময় নব্য জেএমবির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গ্রেফতার এবং নিহত হওয়ার পর তার নেতৃত্বে নব্য জেএমবির কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়। কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় তামিম চৌধুরীসহ আসামী আব্দুস সামাদ অবস্থান করে প্রায় ডজন খানেক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। হাতকাটা মাহফুজ গ্রেফতার হওয়ার পর সে দীর্ঘদিন পলাতক থেকে দলের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করত। গ্রেফতারকৃত আসামী জিয়াদুল আব্দুস সামাদের শ্বশুর।

এছাড়াও জিয়াদুল চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সীমান্ত দিয়ে নব্য জেএমবির অস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের দায়িত্ব পালন করত। গত দুই বছর যাবত আসামী শিশির পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জঙ্গি কার্যক্রমে যোগ দিয়ে জিহাদি প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে বলে জানান সিটিটিসি’র প্রধান।

গোনিউজ২৪/কেআর

 

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর