ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

অনির্দিষ্ট লকডাউনসহ জরুরী ৫ প্রস্তাব


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২০, ০৫:৫৬ পিএম আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২০, ১১:৫৬ এএম
অনির্দিষ্ট লকডাউনসহ জরুরী ৫ প্রস্তাব

বাংলাদেশে আজ (১৫ এপ্রিল) একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ২১৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা পরীক্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্তের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ করোনা মহামারীর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন যে এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকবে। এটি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য এখনই আমাদের কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তারা আরও মনে করছেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে করোনা মোকাবেলা করা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অসম্ভব।

বিশেষ করে যেখানে মাকিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনের মতো চিকিৎসাসেবায় উন্নত এবং আধুনিক দেশগুলো চিকিৎসা দিয়ে করোনা মোকাবেলা করতে পারেনি, সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে চিকিৎসা দিয়ে করোনা মোকাবেলা করা অসম্ভব।

একাধিক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে করোনা মোকাবেলা এবং মহামারী ঠেকানোর জন্য যে ৫টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো-

দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন বা কারফিউ দিতে হবে

এখন দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। গত ২৬ মার্চ থেকে যে সাধারণ ছুটি চলছে তা আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই ছুটি চলছে একেবারেই ঢিলেঢালাভাবে। মানুষ কাজে-অকাজে বের হচ্ছে, সামাজিকভাবে মেলামেশা করছে, শ্রমিকরা তাদের বেতনভাতার জন্য রাস্তায় আন্দোলন করছে, দরিদ্র মানুষ খাবারের জন্য লাইনে দাড়াচ্ছে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার যে শর্ত তা বার বার লঙ্ঘন হচ্ছে। এভাবে করোনা মহামারী ঠেকানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। এজন্য কঠোরভাবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুসরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য ছুটি শব্দের পরিবর্তে লকডাউন বা কারফিউ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে এবং কঠোরভাবে সেটি আরোপ করতে হবে।

দরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষকে ঘরেই খাবার দিতে হবে

এখন মানুষ খাদ্য সহায়তা পেতে এবং ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাড়াচ্ছে- এই প্রবণতাটি বন্ধ করে অনতিবিলম্বে সব মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কারণেই যেন মানুষ ঘর থেকে বের না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরীক্ষার হার বাড়াতেই হবে

দেশে করোনা পরীক্ষার হার আরও বাড়াতে হবে। এখন বাংলাদেশে পরীক্ষার হার বাড়াচ্ছে। আজ দেশে সর্বোচ্চ ১৯০৫ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেহেতু শনাক্তের সংখ্যা অনেক বেশি হচ্ছে, তাই পরীক্ষাও বাড়াতে হবে। শুধু বাড়ানোই নয়, সারাদেশে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সারাদেশ থেকে নমুনা এনে পরীক্ষা করতে হবে যাতে সারাদেশের অবস্থাটা বোঝা যায়। দ্রুত কমপক্ষে একলাখ রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে বোঝা যায় বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা আসলে কোথায়।

চিকিৎসাব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে

দেশে এখনো করোনা পরীক্ষার যৌক্তিক কোনো ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসা হচ্ছে হবে’র মধ্যে রয়েছে। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ন্যুনতম চিকিৎসাব্যবস্থা নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্যান্য হাসপাতালগুলোর অবস্থাও একই। তাই এখন মহামারী এবং মৃত্যুর হার দ্রুত
ঠেকাতে গেলে অবিলম্বে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশেষায়িত ব্যবস্থা করতে হবে। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা দূর করতে হবে। এছাড়া কুর্মিটোলা হাসপাতালগুলোসহ যে হাসপাতালগুলোকে করোনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেগুলোতে দ্রুত আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

অযোগ্য এবং ব্যর্থদের বাদ দিতে হবে

বিশেষজ্ঞরাই মনে করছেন করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা এবং কিছু ব্যক্তির অযোগ্যতার কথা স্বীকার করতেই হবে। আমরা যথেষ্ট সময় পাওয়ার পরেও প্রস্তুতি নিতে পারিনি। কাজেই ব্যর্থদের হাতে করোনা মোকাবেলার দায়িত্ব দেওয়াটা হবে আরেক ধরনের বোকামী এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাই দ্রুত তাদের বাদ দিয়ে যোগ্য লোকদেরকে দায়িত্ব দিতে হবে যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারে। এটা করতে না পারলে আমাদের মহামারীর যে অন্ধকার গহ্বরে আমরা প্রবেশ করেছি, সেখান থেকে আমরা বের হতে পারবো না, একটা বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো বাংলাদেশের কাছে সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে, সেটার মধ্যেই যাতে সীমাবদ্ধ থাকা যায়, আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে সীমিত মহামারী থেকেই আমরা করোনা থেকে উদ্ধার পেতে পারি। আর তা করে লোকজন যদি এখনো ঘোরাফেরা করে সামাজিক সংক্রমণ বাড়াতে থাকে তাহলে মহামারী ঠেকানো কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।

গোনিউজ২৪/এন

লাইফস্টাইল বিভাগের আরো খবর
বিশ্ব মা দিবস

বিশ্ব মা দিবস

অনির্দিষ্ট লকডাউনসহ জরুরী ৫ প্রস্তাব

অনির্দিষ্ট লকডাউনসহ জরুরী ৫ প্রস্তাব

করোনা প্রতিরোধে এই ৫ ফল খাওয়ার পরামর্শ

করোনা প্রতিরোধে এই ৫ ফল খাওয়ার পরামর্শ

ঘনঘন প্রস্রাবের চাপ? যে ৫ খাবার ভুলেও খাবেন না

ঘনঘন প্রস্রাবের চাপ? যে ৫ খাবার ভুলেও খাবেন না

সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি করোনাভাইরাস?  চলুন জেনে নেয়া যাক

সাধারণ সর্দি-কাশি নাকি করোনাভাইরাস?  চলুন জেনে নেয়া যাক

বিস্কুট তৈরি করার পদ্ধতি

বিস্কুট তৈরি করার পদ্ধতি