ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

কারও মাস্ক হাতে কিংবা পকেটে, আবার কারও মুখের নিচে


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২০, ০৫:৫৮ পিএম আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২০, ১০:০৭ পিএম
কারও মাস্ক হাতে কিংবা পকেটে, আবার কারও মুখের নিচে

রাজধানীর গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। চালক হেলপার থেকে শুরু করে যাত্রীদের মধ্যেও নেই আগের মতো সচেতনতা। অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে মাস্ক দেখা গেলেও কেউ কেউ তা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করছেন না। কারও মাস্ক হাতে কিংবা পকেটে। আবার কারও মুখের নিচে। তবে এখনও বাসে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

সকালে নগরীর বাসাবো এলাকায় অফিসগামী যাত্রীদের যথেষ্ট ভিড় দেখা গেছে। বাস আসতে না আসতেই নির্ধারিত ৫০ শতাংশ আসন ভর্তি হয়ে পড়ে। তবে বাসে যাত্রী ওঠানোর সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা শরীরের তাপমাত্রা মাপার কোনও চিত্র চোখে পড়েনি। হেলপারদের মুখেও ছিল না মাস্ক। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

মিডওয়ে পরিবহনের চালকের সহযোগী রাজীব উদ্দিন বলেন, ‘সকালে অফিস শুরুর আগে এবং বিকালে অফিস শেষ হওয়ার পরে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। তখন মানুষ কোনও নিয়ম মানতে চায় না। জোর করে বাসে উঠে পড়ে। আমরা চেষ্টা করেও তাদের মানাতে পারি না। উল্টো আমাদের বিভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হয়।’

কথা হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল বেলা যাত্রীর তুলনায় যানবাহন কম থাকে। তাই অনেকে হেঁটেই অফিসে চলে যান। মাঝে মাঝে বাসে করে অফিসে যাই। ভাড়া আগের চেয়ে ডাবল নেওয়া হচ্ছে।’ এ সময় মাস্ক মুখে দেখা যায়নি। মাস্ক মুখ থেকে সরিয়ে দাড়ির ওপরে রেখেছেন। সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে অনেকক্ষণ রাখতে রাখতে হাঁপিয়ে ওঠার কারণে কিছু সময় এভাবে রেখেছি।’

একই চিত্র দেখা গেছে রামপুরা ব্রিজ এলাকায়। তবে অফিসগামী যাত্রীদের অধিকাংশের ‍মুখে মাস্কসহ অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা গেলেও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে সেই প্রবণতা দেখা যায়নি। তারা বলছেন, ১০ টাকার কমে একটি মাস্ক পাওয়া যায় না। কয়েক ঘণ্টা ব্যবহারের পর তা ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিনটি করে মাস্ক লাগে। এই পরিমাণ টাকা তাদের জন্য জোগাড় করা কষ্টকর।

বোরহান মিয়া নামে এক রিকশা চালক বলেন, ‘মাস্ক পরে রিকশা চলাতে কষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়া যায় না। হাঁপিয়ে উঠি। ঘামে ভিজে যায়। আমাদের প্রতিদিন দুই তিনটা মাস্ক কিনে পরা কঠিন। সরকার চাইলে শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই জিনিসটি ফ্রি দিতে পারে।’

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলা মটর এলাকায় চলাচলরত পরিবহনগুলোতে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রয়েছে। তবে পরিবহনে ওঠানো ও নামানোর সময় স্বাস্থ্যবিধি পালন করতে দেখা যায়নি। বেশ কয়েকটি পরিবহনের হেলপারদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। তবে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ যাত্রী।

ইকবাল উদ্দিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আগে ১০ টাকা দিয়ে গুলিস্তান থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আসা যেতো। কিন্তু এখন সেটা নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। কিছু বললে উল্টো হেলপারদের হাতে হেনস্তার শিকার হতে হয়।’

সকালে খিলগাঁও রেলগেটে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট লেগুনা করে যাত্রী পরিবহন চলছে। প্রতিটি লেগুনায় দুই পাশের দুইটি সারিতে চার জন করে আট জন যাত্রী বসানো হচ্ছে। সামনে চালকের পাশের একটি সিটে বসছে দুই জন যাত্রী। এছাড়া পেছনে হেলপারের দাঁড়ানোর জায়গায় আরও একজন যাত্রী ঝুলিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের কারও কারও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

কথা হয় লেগুনাচালক রাকিবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মানুষ সচেতন না হলে আমরা কী করবো? প্রতিদিন কয়েকশ’ বার বলি আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। কিন্তু কেউ চলে না। মানুষ মনে করে করোনা নেই। চলে গেছে। মানুষের দিকে তাকালে করোনা আছে বলে মনে হয়?’

গোনিউজ২৪

লাইফস্টাইল বিভাগের আরো খবর
ডায়াবেটিস নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা

ডায়াবেটিস নিয়ে ৭টি ভুল ধারণা

শিশুদের আক্রমণ করে না ডেল্টা ধরন : ডব্লিউএইচও

শিশুদের আক্রমণ করে না ডেল্টা ধরন : ডব্লিউএইচও

সহজ উপায়ে গরুর চামড়া রান্না করবেন যেভাবে

সহজ উপায়ে গরুর চামড়া রান্না করবেন যেভাবে

ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় যা করবেন

ঈদে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় যা করবেন

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম

করোনামুক্ত হওয়ার পর বেড়ে যায় যেসব শারীরিক সমস্যা

করোনামুক্ত হওয়ার পর বেড়ে যায় যেসব শারীরিক সমস্যা