ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬

খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টে যা বলা হয়েছে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ০২:৩৩ পিএম আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ০৮:৩৩ এএম
খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্টে যা বলা হয়েছে

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়েছে। বৃস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চে এ প্রতিবেদন নিয়ে আসেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। এর পরই রিপোর্টটি আদালতে পড়ে শোনান বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, বাতজ্বর ও কাশিসহ ব্যাক পেইনে ভুগছেন। তাকে অ্যাডভ্যান্সড ট্রিটমেন্ট দেয়ার বিষয়ে তার মতামত জানতে চেয়েছিল সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।

কিন্তু তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি দেননি।

রিপোর্ট উপস্থাপনের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া কেন অ্যাডভ্যান্সড ট্রিটমেন্টের সম্মতি দেননি সেটি জানা দরকার। হয়তো এই ট্রিটমেন্ট গ্রহণে তার জীবন শঙ্কায় পড়তে পারে। এই দিক বিবেচনায় হয়তো তিনি অনুমতি দেননি।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করা দরকার।

আদালত বলেন, আপনারা মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছিলেন, আমরা সেই রিপোর্ট তলব করেছি। রিপোর্ট আদালতে এসেছে। এখন ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী আদেশ দেব। জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের একটি সম্পূরক আবেদন রয়েছে। আমরা আবেদনটি আপনার আদালতে দিতে চাই।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘কোনো আবেদন নেয়া হবে না। আমরা আজকেই আদেশ দেব।’

তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের সম্পূরক আবেদনটি দিতে দেন। তার পর শুনে আদেশ দেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

এর পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার এই রোগগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আছে। যখন কোনো বন্দি কারাগারে থাকেন, তখন সরকারেরও তার বিষয়ে উদ্বেগ থাকে। এ পর্যায়ে কোনো সম্পূরক আবেদন দেয়ারও সুযোগ নেই। পরে আদালত শুনানি বেলা ২টা পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করেন।

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়া এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দল ও পরিবারের সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তাতে অনুমতি মেলেনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন চেয়ে এর আগেও হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এমন তিন বিবেচনায় হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩১ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে যান। কিন্তু খালেদা জিয়া জামিন পাননি।

১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। আপিল বিভাগের ওই রায়ে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার পদক্ষেপ নিতে।

সেই রায় ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর হাইকোর্টে নতুন করে জামিন আবেদন করার উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টি মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে আছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

গোনিউজ২৪/এন

আইন-আদালত বিভাগের আরো খবর
আজ মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া

আজ মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া

জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন

জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন

মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হলো আজহারকে

মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হলো আজহারকে

‘আমরা একজন ভালো মন্ত্রী পেতে যাচ্ছি’

‘আমরা একজন ভালো মন্ত্রী পেতে যাচ্ছি’

করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

মধ্যরাতে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে সাজা, লড়বেন ব্যারিস্টার সুমন

মধ্যরাতে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে সাজা, লড়বেন ব্যারিস্টার সুমন