ঢাকা শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬

মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ নিতে বাধা নেই, তবে...


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯, ১০:২৫ পিএম
মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ নিতে বাধা নেই, তবে...

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মেকাব্বির খানের শপথ আটকানোর কোনও সুযোগ নেই। তবে শপথ নেওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে সেই সিদ্ধান্ত স্পিকারের কাছে জানিয়ে দিলে সেক্ষেত্রে তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।

সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিজয়ী সুলতান মনসুরের শপথ গ্রহণের বিষয়টি তার নিজের ইচ্ছাধীন। তিনি চাইলে শপথ নিতে পারবেন। সিলেট-২ আসন থেকে ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে নির্বাচিত গণফোরামের মোদাব্বির খানও চাইলে শপথ নিতে পারবেন। এ দুজনের দল গণফোরাম বা জোট ঐক্যফ্রন্ট চাইলেও আইনত তাদের শপথ আটকাতে পারবে না। তবে শপথ নেওয়ার পরে আইনের ব্যাখ্যাটা অন্যরকম হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গণফোরামের মনোনীত সুলতান মনসুর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট করলেও তার হিসাব-নিকাশে কোথাও বিএনপির প্রসঙ্গ আসার সুযোগ নেই। বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে অনাপত্তিপত্র দিয়ে গণফোরামের ওই প্রার্থীকে নির্বাচনের প্রতীক হিসেবে ‘ধানের শীষ’ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। অন্য দলের প্রতীকে ভোট করলেও কোন ব্যক্তি যে দলের থেকে মনোনয়ন পান সেই দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। 
নির্বাচনে জয়ী হলে গেজেটেও মনোনীত দলের (গণফোরাম) প্রার্থী হিসেবে তাকে প্রকাশ করা হবে। শপথ নেওয়ার পরও তিনি ওই দলের সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে কোন দলের প্রতীকে ভোট করেছেন, সেটা বিবেচনায় আসবে না। ফলে সুলতান মনসুরের ক্ষেত্রে যেকোনও ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে কেবল তার দল গণফোরামের। 

এদিকে গণফোরামের মনোনয়নে বিজয়ী অন্য প্রার্থী মোদাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়েই নির্বাচন করেছেন। ফলে তার ক্ষেত্রে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতার সুযোগও নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গণফোরাম না চাইলেও ব্যক্তিগতভাবে চাইলে দুই সংসদ সদস্য শপথ নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে দল শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও প্রতিবদ্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। 

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কারো নামে গেজেট হয়েছে তো তার শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকার মহোদয়ের। ওই ব্যক্তি যখন চাইবেন তখনই তার শপথ হবে। আর ৭০ অনুচ্ছেদের দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার যে বিধানের কথা বলা হয়েছে, সেটা তো সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে। শপথ নেওয়ার পরেই কেবল এই বিধান কার্যকর হবে। কারণ, পথ নেওয়ার আগে কেউ সংসদ সদস্য হন না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কারো শপথ আটকানো না গেলে দল যদি চায় শপথের পরে অর্থাৎ সংসদ সদস্য হওয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাদের দল থেকে বহিষ্কার করে স্পিকারের কাছে তা জানিয়ে দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে তাদের সংসদ সদস্য বাতিল হবে।

গো নিউজ২৪/আই

আইন-আদালত বিভাগের আরো খবর
মৃত্যুদণ্ডের পর কলমের নিব কেন ভাঙেন বিচারক?

মৃত্যুদণ্ডের পর কলমের নিব কেন ভাঙেন বিচারক?

নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ নিতে বাধা নেই, তবে...

মনসুর-মোকাব্বিরের শপথ নিতে বাধা নেই, তবে...

বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য সুখবর

বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য সুখবর

এত তর্ক করছেন কেন?

এত তর্ক করছেন কেন?

এ আদেশ সংবিধান পরিপন্থী: অ্যাটর্নি জেনারেল

এ আদেশ সংবিধান পরিপন্থী: অ্যাটর্নি জেনারেল