ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ১৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭

চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২০, ০৯:৪৮ এএম
চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা

করোনাভাইরাস মহামারিতে মন্দা অবস্থা চলছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে চাকরির বাজারেও। গেল মাসে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে করোনা মহামারিতে বিশ্বের অন্তত ৪০ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী কর্মঘণ্টা কমেছে ১৪ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান আইএলও’র পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। একই অবস্থা বাংলাদেশেও। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় ১৩ ভাগ চাকরিজীবী চাকরি হারিয়েছেন। আবার চাকরি আছে বেতন নেই এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক।

২৫ শতাংশ চাকরিজীবীর বেতন কমেছে। এদিকে করোনায় আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতিমধ্যে নিয়োগ বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন ব্যাংক এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সব মিলিয়ে অচলাবস্থা চলছে চাকরির বাজারে।

এ অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটছে চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটদের। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক সংকট, পারিবার ও সামাজিক চাপ, বয়স শেষ হওয়ার শঙ্কা এবং নিরাপদ চাকরির পরিবেশ পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। চলতি বছর হাতেগোনা কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রাথমিক ধাপ শুরু হলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে শেষ হয়নি। সিংহভাগ চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে আগামী নভেম্বর নাগাদ সরকারি এসব নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। কিন্তু চাকরি প্রত্যাশীরা সহসাই এর সমাধান চান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই চলমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, সরকার এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে নিয়োগের ব্যাপারে কিছু সংকেত আসা উচিত তাহলে চাকরি প্রত্যাশীরা হতাশ হবেন না। নতুবা এ দুশ্চিন্তা আরো বাড়বে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা অলি আহমেদ রায়হান বলেন, বর্তমানে চাকরি প্রত্যাশীরা খুবই কঠিন সময় পার করছেন। নিয়োগগুলো বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন অতিবাহিত হচ্ছে। কারো কারো চাকরির বয়স শেষের দিকে। বাড়িতে অবস্থান করার কারণে পারিবারিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হতাশা তৈরি হচ্ছে চাকরি প্রত্যাশীদের। পাশাপাশি প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব নির্দিষ্ট সূচি তৈরি করে পরীক্ষার আয়োজন করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে চাকরি প্রত্যাশীদের মুক্তি দেয়া হোক। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা শরীফুল ইসলাম নামে এক চাকরি প্রত্যাশী বলেন, মহামারির শুরু থেকে আজ অবধি পুরোটা সময় আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাটছে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছি প্রায় ২ বছর হতে চললো। প্রথম বছর প্রিপারেশন নিতে নিতে চলে গেল, এরপর ২০২০ সালের শুরু থেকে এই পর্যন্ত কার্যত কোনো নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। অনেকগুলো আবেদন করে রেখেছি কিন্তু পরীক্ষা হচ্ছে না বলে আর পড়াশোনাও হচ্ছে না। প্রতিটি দিন দুশ্চিন্তা আর হতাশার মধ্য দিয়ে কাটছে। এরই মধ্যে যে কয়টা টিউশন করাতাম তার প্রায় সবক’টিই আপাতত বন্ধ। ভীষণ হতাশা আর দুর্ভোগের দিনগুলো মনে হয় এক একটি বছরের সমান। একটা ভাইভা ছিল ব্যাংকে, তাও বর্তমানে অনিশ্চিত এবং অন্য নিয়োগ পরীক্ষাগুলো কবে হবে বা আদৌ হবে কি না সেটাও নিশ্চিত নয়। উপরন্তু ব্যক্তিগত আর পারিবারিক আর্থিক সংকট হতাশা বাড়াচ্ছে দিন দিন।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী এনামুল হক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বর্তমানে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। যার কারণে দুশ্চিন্তা তাড়া করছে চাকরি প্রত্যাশীদের। এছাড়াও যারা চাকরিতে প্রবেশের নির্ধারিত বয়সের শেষদিকে রয়েছেন, তাদের দুশ্চিন্তা আরো বাড়ছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত এসব চাকরি প্রত্যাশীর কথা বিবেচনায় এনে বয়সের সীমাটা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা। আর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।

অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তাদের থেকে একটা সংকেত আসা দরকার যে কয়েকমাস পরে পরিস্থিতি উন্নয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তাহলে চাকরি প্রত্যাশীরা হতাশ হবেন না। তারা আশ্বস্ত হবেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি নিয়োগ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নেয়া যাবে। তার আগের প্রক্রিয়াগুলো শুরু করা উচিত। যার জন্য অনেকের কোথাও মিলিত হতে হচ্ছে না। আবেদন প্রক্রিয়াসহ অনেক কিছুই অনলাইনে করা যেতে পারে। আমি মনে করি সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে অনেকগুলো ধাপ থাকে সে ধাপগুলোতে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার, তো সেখানে যে ধাপগুলো এ পরিস্থিতির মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব তা পূরণে চেষ্টা করা উচিত। তাহলে নিয়োগ প্রত্যাশী যারা আছেন তারা হতাশাগ্রস্ত হবেন না।

তারা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন। পাশাপাশি ব্যক্তিখাতেও যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তারাও হয়তো একটা পর্যালোচনা করে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, এ মুহূর্তে না হলেও আগামী কয়েকমাস পরে পরিস্থিতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিয়োগ করবেন বা দেবেন। আমি মনে করি এ সংকেতগুলো আসা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন তাদের মুখ থেকে যদি এ আলোচনাগুলো সামনে আসে তাহলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হতাশা তা কেটে যাবে।

গোনিউজ২৪

জবস বিভাগের আরো খবর
পুলিশে চাকরির সুযোগ

পুলিশে চাকরির সুযোগ

পরিবার পরিকল্পনায় ১৫৬২ জনের বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

পরিবার পরিকল্পনায় ১৫৬২ জনের বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

প্রাথমিকের নিয়োগ আবেদনে ভুল সংশোধন করবেন যেভাবে

প্রাথমিকের নিয়োগ আবেদনে ভুল সংশোধন করবেন যেভাবে

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে চাকরির সুযোগ

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে চাকরির সুযোগ

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করবেন যেভাবে

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করবেন যেভাবে

নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারে মানবেতর জীবনযাপন করছে

নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারে মানবেতর জীবনযাপন করছে