ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

শূন্যপদ নিয়ে যা হচ্ছে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২০, ১২:০৩ পিএম
শূন্যপদ নিয়ে যা হচ্ছে

চিকিৎসক নিয়োগের জন্য নির্ধারিত ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএসে নিয়োগ পেয়ে ডা. হাবিবুল ইসলাম নাদিম নেত্রকোনার মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার পদে যোগ দেন। তিনি ৩৮তম বিসিএসেও একই পদে নিয়োগের জন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ পেয়েছেন। এতে তিনি বেশ চিন্তায় পড়েছেন। ৩৯তম বিসিএসে পাওয়া বর্তমান পদেই চাকরি করবেন, নাকি ৩৮তম বিসিএসে নতুন পাওয়া পদে যোগদান করবেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। তার মতো আরও শতাধিক চিকিৎসকের একই অবস্থা।

এই চিকিৎসকদের কয়েকজন জানান, ৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পেয়ে তারা চাকরি করছেন। এতে তারা নিয়োগ পাওয়ার দিক থেকে ৩৮তম ব্যাচের চেয়ে জ্যেষ্ঠ। এ ছাড়া চাকরির চার বছর পূর্তিতে তারা সিনিয়র স্কেল পরীক্ষাও আগে দিতে পারবেন। অন্যদিকে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করলে তাদের ৩৮তম বিসিএসে যোগদান করা লাভজনক। স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিসিএসের ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি হয়। ব্যাচ হিসেবে ৩৮তম জ্যেষ্ঠ এবং বিসিএসের নিয়মিত ব্যাচ।

যে ব্যাচেই এই চিকিৎসকরা যোগদান করুন, একটি বিসিএসে তাদের পদ শূন্যই থেকে যাবে। চাকরিপ্রার্থীদের 'বেটার চয়েস অপশন' নীতির কারণে প্রতিটি নিয়োগে বহু পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। অনেকে শিক্ষা, সমবায়, পরিবার-পরিকল্পনা, ডাক ক্যাডারে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেও পরবর্তী বিসিএসে পররাষ্ট্র, প্রশাসন বা পুলিশ ক্যাডারে চাকরি পেয়ে চলে যান।

নন-ক্যাডার বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। পিএসসির পরীক্ষা শাখার কর্মকর্তারা জানান, ক্যাডার ও নন-ক্যাডার প্রতিটি নিয়োগে সরকারের বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় হয়। এভাবে পদ শূন্য থেকে গেলে আবারও ওই একই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতে হয়। অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, সরকারি নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা রাখার বিধান চালু করলে এ সমস্যা এড়ানো যাবে।

সরকারি চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি হতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর এ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল ২০১১ সালে। এর পর থেকে বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল।

তবে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে স্কুলগুলোর জন্য বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ছাড়া, বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে যারা শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে আসেন, তাদের বেশিরভাগই পরে অন্য চাকরিতে চলে যান। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট থেকেই যায়।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের প্রার্থীরা জানান, তারা সাত হাজার ১৬১ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও অনেকেই বিভিন্ন পদে এরই মধ্যে চাকরি পেয়ে গেছেন। কেউ কেউ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি জুলাই পর্যন্ত পিএসসির অধীন অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বা অপেক্ষায় আছেন।

এ সময়ের মধ্যে ৩৭তম বিসিএসের নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণিতে এক হাজার ৩৬৫ জন নিয়োগ পেয়েছেন। ৩৮তম বিসিএসে দুই হাজার ২০৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়াও গত ৪ জানুয়ারি ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে ইতোমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন ২৫০০ জনের মতো এবং কম্বাইন্ড সিনিয়র অফিসারের (এক হাজার ২০০ পদ) নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন আগেই রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদেও অনেকে নিয়োগ পেয়েছেন।

এ ছাড়াও পুলিশের এসআই পদে এক হাজার ৪০২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এনএসআইর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২৮৪ জনের নিয়োগ হয়েছে। আবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক ও উপ-সহকারী পরিচালক পদে ২৮৮ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ৫০০টির বেশি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পিএসসিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। অনেকের নিয়োগ আবার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তারাই আবার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালের নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক প্রার্থী সমকালকে বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই নিয়োগ থেকে চাকরিতে অপেক্ষমাণ তালিকা করা হোক। যে শিক্ষক সংকট চলছে, তাতে শূন্য পদের অপেক্ষমাণ তালিকা করা জরুরি। সীমা সাহা নামের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, সরকারি নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা থাকলে কোনো পদ শূন্য থেকে যাবে না।

পিএসসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য :পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, দ্বৈত চাকরির ঘটনা ৩৮তম ও ৩৯তম বিসিএসের ক্ষেত্রেই বেশি ঘটেছে। এর কারণ, ৩৮তম বিজ্ঞপ্তি আগে হয়েছে, তারা সিনিয়র। আর ৩৯তমর বিজ্ঞপ্তি পরে হলেও তারা চাকরি আগে পেয়েছেন। এ দুই বিসিএসে এই সুযোগটি রাখতেই হয়েছে। কারণ কেউ মামলা করে দিলে ৩৮তমর পুরো ফল স্থগিত হয়ে যেত। এ ছাড়া নন-ক্যাডার পদে চাকরি পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেই। কেউ হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির পদে চাকরি পেয়েও পরে প্রথম শ্রেণির পদে আবারও পরীক্ষা দেন। আবার প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদ থেকে বিসিএসের চাকরিতে যান। এসব ক্ষেত্রে পিএসসির কিছু করার নেই।

গোনিউজ২৪/এন

জবস বিভাগের আরো খবর
এসএমসিতে চাকরির সুযোগ

এসএমসিতে চাকরির সুযোগ

২১ পদে ৭১৫ জনকে নিয়োগ দেবে পরিসংখ্যান ব্যুরো

২১ পদে ৭১৫ জনকে নিয়োগ দেবে পরিসংখ্যান ব্যুরো

চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা

চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় চাকরি প্রত্যাশী গ্র্যাজুয়েটরা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি

যমুনা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

যমুনা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

ভূমি মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি পাসে চাকরির সুযোগ

ভূমি মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি পাসে চাকরির সুযোগ