ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭

বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় খাঁ খাঁ করছে কলকাতার নিউমার্কেট


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০, ১০:৩৫ পিএম আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০, ১১:০২ পিএম
বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় খাঁ খাঁ করছে কলকাতার নিউমার্কেট

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট চত্ত্বরের চেনা ছবিটাই হারিয়ে গেছে করোনার দাপটে। এই চত্ত্বরে ফুটপাতের বিকিকিনি থেকে শুরু করে আবাসিক হোটেলগুলোও অতিথিদের সমাগমে এক সময় গমগম করত। কিন্তু এখন সেই গমগমে ভাব এখন আর নেই। নিউমার্কেট লাগোয়ো মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল, রেস্তোরাঁ, হোটেলগুলো এলাকায় ‘বাংলাদেশি হোটেল’ নামেই পরিচিত। মূলত কলকাতায় বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা বাংলাদেশি নাগরিকরা এই এলাকার হোটেলগুলোতেই ওঠেন।

কিন্তু করোনা সংক্রমণের ফলে বাংলাদেশ থেকে পর্যটকরা ভারতে আসতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা আর ঢাকা-কলকাতা সরাসরি বাস ও ট্রেন সার্ভিসের পাশাপাশি সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে অতিথিরা আসতে না পারায় এই অঞ্চলের হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো খাঁ খাঁ করছে।

এই এলাকার একটি নামি হোটেল ‘এস্টোরিয়ার’ ফ্রন্ট ডেস্কের অফিসার সুকৃতি দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সরকারি কর্তাব্যক্তি, মন্ত্রী, সাংসদেরা কলকাতা এলে আমাদের হোটেলে ওঠেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন গত ৩০ বছর ধরে এখানেই ওঠেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। লকডাউনের ফলে গত ১৯ মার্চ থেকে হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। জুলাইয়ের শেষের দিকে হোটেল খুলেছে। কিন্তু যেহেতু আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধ, বাংলাদেশ থেকে অতিথিরা আসতে পারছেন না। হোটেল ফাঁকাই পড়ে আছে।’

‘লিন্ডসে’ হোটেলের ম্যানেজারও একই কথা বললেন। তিনি বলেন, আমাদের হোটেলসহ তিনটি বড় হোটেল খোলা, বাকি সব বন্ধ। বাংলাদেশের অতিথিরাই আমাদের এখানে ওঠেন। বিমান বন্ধ থাকায়, ভিসা না মেলায় ওরা আসতে পারছেন না। ফলে হোটেল খোলা থাকলেও ফাঁকা পড়ে আছে।’ 

মার্কুইস স্ট্রিটের কেম্পটন হোটেলের ম্যানেজার বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকরা না আসায় আমাদের বুকিংয়ের হার ৯০ শতাংশ কমেছে। আগে যেখানে প্রতিমাসে আমাদের ৯৫ শতাংশ ঘর বুক থাকতো, এখন সেটা ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এই চত্ত্বরের পাইস হোটেল থেকে রেস্তোরাঁগুলোয় মেনু তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাপা, চিতল মাছের মুইঠ্যার মতো জিভে জল আনা পদ। কিন্তু খদ্দের নেই। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশিরা মূলত চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য কলকাতায় আসেন বছরভর। কিন্তু এখন পসরা সাজিয়ে বসাটাই সার।

পূর্ব ভারতের রেস্তোরাঁ ও হোটেল সংগঠনের সচিব সুদেশ পোদ্দার বলেন, ‘নিউমার্কেট এলাকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রসিদ্ধ হোটেলগুলোর গড় বুকিং ৯০ শতাংশ কমেছে।  শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁই নয়, এই চত্ত্বরে যারা বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা করতেন, মোবাইলে স্থানীয় সিম পরিবর্তনের ব্যবসা করতেন তারাও বাংলাদেশি অতিথিরা না আসায় সমস্যায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্য কলকাতার এই পাড়ার মন খারাপ।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর
ভারতে করোনা সংক্রমণ ৫৩ লাখ পার হওয়ার দিনে একটি সুখবর এলো

ভারতে করোনা সংক্রমণ ৫৩ লাখ পার হওয়ার দিনে একটি সুখবর এলো

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে

২১৩ দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনায় সুস্থ ২ কোটি রোগী

২১৩ দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনায় সুস্থ ২ কোটি রোগী

আবারও ভয়াবহ আকারে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ

আবারও ভয়াবহ আকারে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ

সিঙ্গাপুরে করোনায় মৃত্যু এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বনিম্ন যেসব কারণে

সিঙ্গাপুরে করোনায় মৃত্যু এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বনিম্ন যেসব কারণে

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন নেতানিয়াহু

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন নেতানিয়াহু