ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

যা কেউ ভাবেনি তাই হতে চলেছে ভারতে!


গো নিউজ২৪ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২০, ১০:২৫ পিএম আপডেট: জুন ২৮, ২০২০, ১০:৪৩ পিএম
যা কেউ ভাবেনি তাই হতে চলেছে ভারতে!

ফাইল ছবি

কাশ্মীর সীমান্তে প্রায় প্রতিদিনই চলছে গোলাগুলি আর হতাহতের ঘটনা। সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে শুরু হওয়া উত্তেজনা ক্রমেই যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। এরইমধ্যে এবার নিরাপত্তা ইস্যু তুলে ধরে সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে নেপালও।

সেচের পানি বন্ধ করে দিয়ে তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভুটান। লাদাখের পরিস্থিতি প্রভাব ফেলতে পারে বলে কাশ্মীর অঞ্চলে ভারি সামরিক সরঞ্জাম স্থাপন ও সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি করছে পাকিস্তানও।

সর্বোপরি বলা যায়, একের পর এক প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, রীতিমত কোনঠাসা পরিস্থিতে ফেলেছে ভারতকে। শুধু সীমান্তে এই সেনা ঘেরই নয়, চীনের সার্বিক প্রস্তুতির ছককাটা দেখে সুস্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে, বিশেষ কোনো পরিকল্পনা মাথায় রেখেই ভারতকে ঘিরে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে প্রতিপক্ষের জাল বেছানো।

ভারতীয় ও চীনা গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য মতে,  লাদাখ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে আরো কয়েকটি নতুন চীনা ঘাঁটির অস্তিত্ব স্পট করা হয়েছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। ২৭ জুন এ তথ্য জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা।

এদিকে ওয়ান ইন্ডিয়া নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে জানা যায়, লাদাখ সীমান্তের প্রতিটি পরতে পরতে নজরদারি শুরু করেছে ঝাঁকে ঝাঁকে চীনা ড্রোন। যার প্রেক্ষিতে ভারতও ইসরাইলের তৈরি দুটি বিশেষ ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু করেছে।

লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জলে ও আকাশ পথে চীনা সমরাভিযান পরিচালনার শক্ত প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এরই মধ্যে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে চীন। করাচী বিমান বন্দরসহ বেশ কয়েকটি পাকিস্তানী বিমানঘাঁটিতে এরই মধ্যে মজুত করা হয়েছে চীনের জঙ্গী বিমান। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়ের খবর হচ্ছে, জলপথে হামলা চালাতে, পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে পাক নৌবন্দরে ঘাঁটি গাড়তে শুরু করেছে পারমানবিক শক্তিবাহী চীনা সাবমেরিন।

সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে যে, কাশ্মীর সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মজুদ, অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপক স্থাপনসহ সামরিক মজুত ভারি করতে শুরু করেছে তারা। দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ভারত শুরু থেকে 'কিছু বললেই জবাব দেয়া হবে' বলে বার বার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসলেও বাস্তবতা হচ্ছে পদে পদে মার খেয়ে ফিরছে তারা। লাদাখে চীনের হাতে পর্যুদস্ত ভারতীয় সেনারা কাশ্মীরে সে জেদ মেটানোর চেষ্টা করতে পারে বকেই তাদের এই প্রস্তুতি।

এই গেল ভারতের সীমান্তে প্রতিপক্ষের তৎপরতা। তবে এখানেই শেষ নয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলমান এই পরিস্থিতির মাঝেই দেশটির অভ্যন্তরে অবস্থানকারী সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর তৎপরতা নজরে পড়ছে। বিশেষ করে ভারতীয় যুবাদের দলে ভেরাতে এবং ভেতর থেকে দেশটির তারুণ্যের শক্তি শুষে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। এরইমধ্য দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ২ শতাধিক তরুণের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, তাদের প্রত্যেকেরই পাকিস্তানী পাসপোর্ট ছিল।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বলছে, সম্প্রতি নিজের ছোট ছোট প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বেপরোয়া দাম্ভিক আচরণ প্রদর্শনের যে মনোভাব ভারত দেখিয়ে আসছিলো তারই খেসারত টানতে শুরু করেছে দেশটি। সীমান্তবর্তী ও জলবন্টন সংক্রান্ত নানা  ইস্যুতে বার বার ভারতীয় স্বার্থনীতির কারণে ক্ষগিগ্রস্ত হলেও, ঐতিহ্যগত মিত্রতার প্রতি সম্মান রেখেই নিরব থেকেছে বাংলাদেশ। কিছুদিন আগেও ভারতীয়দের স্বার্থরক্ষায় ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের এই বন্ধুত্বের বিনিময়ে সীমান্তে শুধুই নিরীহ বাংলাদেশিদের লাশের গুনতি বাড়িয়ে দিচ্ছে ভারত। এটুকুই নয়, ভারত নিজের স্বার্থপরতার দায়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ইস্যুতে হস্তক্ষেপ ও প্রকাশ্যে ধৃষ্ট মন্তব্য উগলে দিয়ে এই বন্ধুত্বের অবমূল্যায়ণ করে চলছে।

তবে বাংলাদেশের মত এতটা সহনশীলতার প্রকাশ দেয়নি নেপাল ও ভুটান। দেশটিকে 'চুটকু' দেশ বলে ভারতীয়দের যে তাচ্ছিল্যের বুলি শোনা যায়, তাদের সরকারের আচরণে যেন তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিলো বার বার। শেষ অবদি ভারত সরকারের ধমকের সুরে কথা বলার বিপরীতে নাকের সামনে আঙুল তুলে সতর্কবার্তা জানান দিয়েছে নেপাল। ছোট হলেও, নেপালের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চোখ রাঙালে সরাসরি ভারতে ঢুকে হামলা চালানোর দুঃসাহসি বার্তাও পাঠায় তারা। এদিকে ভারতের দম্ভচূর্ণ করে নিজ দেশের কৃষকদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সীমান্তে সেচের পানি বন্ধ করে দিয়েছে ভুটান।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমঝোতা বা বন্ধুত্বের ভাষা ভুলতে বসা ভারত যেন ল্রক্তিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে বেশি রকম খাটো করে দেখতে শুরু করেছিলো। হয়তো তাদের ধারণা, বিশাল সেনাবহর থাকায় ভয়ে ছোট দেশগুলো বরাবরই মুখবুজে পিঠ পেতে দেবে। তবে ভারতের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো। সেই সঙ্গে নিজের প্রতিবেশিদের সঙ্গে এই দুঃসম্পর্ক ক্রমশ বাড়িয়ে তুলেই চীনকে আঘাত হানার মোক্ষম সুযোগ করে দিয়েছে ভারতই। এখন চীনের আঘাতের ক্ষোভ ঝাড়তে যতই অন্যান্যদের সীমান্তে সংঘর্ষ আর নিরীহ মানুষ হত্যা বায়ারাবে ভারত, ততই পতনের দিকে এগিয়ে যাবে। ভারতীয় কূটনীতির চরম ব্যর্থতাই বর্তমান বিপর্যয়ের মূল কারণ।

লাদাখে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন : চীনকে জবাব দিতে পূর্ব লাদাখ সীমানায় বোমারু বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাজার হাজার সেনাও মোতায়েন করা হয়েছে পূর্ব লাদাখে। চীন কোনওরকম আগ্রাসন দেখালেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন দৌলতবেগ ওল্ডিসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকার পাশ দিয়ে চপার উড়িয়েছে চীন। সীমান্তের কাছে নিয়ে এসেছে বোমারু বিমান। তারই জবাব দিতে পূর্ব লাদাখে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের আকাশ পাহারায় লাদাখে রয়েছে এয়ার সার্ভেল্যান্স রাডার ও যুদ্ধ বিমান। দৌলত বেগ ওল্ডি-সহ ৩ টি বিমানঘাঁটি সক্রিয় করেছে ভারত।

সূত্রের খবর, কয়েকদিনের মধ্যে অত্যাধুনিক এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেম আসছে ভারতের হাতে। সেই ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হবে চীনকে রুখতে। গত এক মাসে পরপর সেনা কনভয় পৌছেছে লাদাখে। এখন দেশের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রেরও সমাবেশ করছে ভারত। C-17 গ্লোবমাস্টারে চাপিয়ে চণ্ডীগড় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে T– 90  ট্যাঙ্ক। উত্তর ভারতের প্রায় সব ক্যান্টনমেন্ট, বিমান ঘাঁটি থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র পাঠানো হচ্ছে লাদাখে  আধুনিক বন্দুক, কামান পাঠানো হচ্ছে। প্রায় ৪৫ হাজার সেনার সমাবেশ করা হচ্ছে লাদাখে। চীন সীমান্তের ১৫৯৭ কিলোমিটার জুড়ে ৬৫টি পয়েন্টে জোরদার হয়েছে নজরদারি।

ভূখণ্ডে ১৬ চীনা শিবির, ৪৫ হাজার সেনা পাঠাল ভারত : গালওয়ান উপত্যাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডের ৯ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নতুন করে আরও ১৬ সেনা শিবির বানিয়েছে চীন। তবে সীমান্তে সব রকমের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৪৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। পাশাপাশি টি-৯০ ট্যাংক, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির হাতে থাকা স্যাটেলাইট ছবিতে চীনা নতুন সেনা শিবিরগুলো দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গণমাধ্যমটির সংবাদে বলা হয়েছে, ২২-২৬ জুনের ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গালওয়ানে ১৫ জুন সংঘর্ষের স্থানে অবকাঠামো তৈরি করেছে চীন। বলা হচ্ছে, ১৪ নম্বর টহল পয়েন্টটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু সেই স্থানে একের একের পর অবকাঠামো তৈরি করে সেনা বাড়াচ্ছে বেইজিং।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, গালোয়ান নদী বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রায় ১৩৭ মিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে চীন। বলা হচ্ছে ওই এলকায় দীর্ঘদিন থেকে টহল দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনী।

গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কালো ত্রিপলের ছবি সম্প্রতি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। সেই ত্রিপল চীনা বাহিনীর; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সম্ভাবনায় জোর দেয়া হয়েছে। এনডিটিভির হাতেও এসেছে সেই চিত্র। বলা হচ্ছে, সেই সেক্টরে ৯ কিমির মধ্যে প্রায় ১৬টি শিবির চিহ্নিত করেছে স্যাটেলাইট ছবি। সামরিক স্তরের আলোচনায় চীন বাহিনী সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেটা খাতায়-কলমে। শুধু তাই নয় প্রকৃত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ব্যাপক সামরিক সম্ভার বাড়াচ্ছে বেজিং।

এদিকে কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পূর্ব লাদাখে সব রকম খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেখানে ৪৫ হাজার সেনা, টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, ভূমি থেকে আকাশমুখী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেমও বসানো হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবির প্রশ্ন তুলছে, চীনা সেনা যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ১৮ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে তাঁবু গেড়ে রয়েছে, তাদের ফেরত পাঠানোর কোনো উপায় কি আদৌ রয়েছে? সেটা না থাকলে সেনা-প্রস্তুতির ফিরিস্তি দিয়ে অতি-জাতীয়তাবাদী দেখানোর অর্থ কী?

বিরোধীদের মতে, ভারত এখন যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার লক্ষ্য মূলত হল, চীন যাতে নতুন করে আর জমি দখল করতে না পারে। ফিঙ্গার চার থেকে আট এবং গালওয়ান উপত্যকার মতো এলাকা যাতে হাতছাড়া না হয়। কিন্তু গালওয়ানে দখল হওয়া কয়েকশ বর্গ কিলোমিটার জমির কী হবে?

ভারতের ১৮ কিমি ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীন : ভারত–চীন সংঘাত সত্ত্বেও প্রতিবেশি দেশের নিন্দা না করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তুলোধোনা করল কংগ্রেস। মোদির বিরুদ্ধে অসঙ্গত মন্তব্য, কূটনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস।

তারা বলেছে, ভারতে অনুপ্রবেশ করায় চীনের খোলাখুলি নিন্দা করে, তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত মোদির। কংগ্রেসের আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি আরএসএস। প্রশ্ন তোলা হয়েছে তাদের সাহস নিয়েও।

শনিবার কংগ্রেসের কপিল সিবাল বলেন, ‘লাদাখের সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশনের ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীন। জায়গাটা লাদাখের ব্রুটস শহরের কাছেই। এখন তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সিবালের অভিযোগ, গত ছয় বছরে মোদি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ধরা পড়েছে। বিনাযুদ্ধে শত্রুদমন, প্রতিপক্ষের দুর্বলতাকে ব্যবহার, আক্রমণকে আত্মরক্ষা হিসেবে দেখিয়ে শত্রুকে বিভ্রান্ত করা ও শত্রুকে ঠকিয়ে জয় হাসিল— এই চারটি কৌশলে এক সময় জোর দিতেন চীনের যুদ্ধবিশারদ সান জু।

তার প্রসঙ্গ টেনে সিবাল বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চীন এখন সেটাই করছে। লাদাখের সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশনের ভেতর ঢুকে পড়েছে। জায়গাটা ভারতের ১৮ কিলোমিটার ভেতরে। এখান থেকে ব্রুটসে টহল দেয় ভারতীয় সেনারা। চীনা সেনারা সঙ্কীর্ণ ওয়াই জংশন দখল করে থাকায় আমাদের সেনারা ১৪ নম্বর পেট্রল পয়েন্টে টহল দিতে পারছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই এমন হল কী করে? চীন ঢুকে এসে আমাদের ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ নম্বর পেট্রল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের টহলদারিতে বাধা দিচ্ছে। দৌলত বেগ ওল্ডি রোডের একদিকে ব্রুটস শহর, অন্যদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি। চীনা সেনারা এখন ওই শহর থেকে ৭ কিমি দূরে রয়েছে।’

সিবাল বলেন, ‘ওয়াই চ্যানেল থেকে বায়ুসেনার ঘাঁটি ২৫ কিলোমিটার দূরে। ওয়াই জংশন সংলগ্ন ওই বিমানঘাঁটি থেকে সিয়াচেন ও কারাকোরামে নজরদারি চালায় সেনাবাহিনী। এবার চীনা সেনারা ওই জায়গার খুব কাছাকাছি এসে যদি গোলা ছুঁড়তে থাকে তখন বিপদ বাড়বে। বিমান ওঠানামা কঠিন হবে। ২০১৩ সালে ইউপিএ জমানায় ওই বিমানঘাঁটি থেকে বিমান চলাচল শুরু হয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ২৩০টি বিমানে সেনা আনা–নেওয়া হত। এখন গালোয়ানের ১৪ নম্বর পয়েন্টে চীনের সেনারা তাঁবু গড়ছে। ২০ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। অথচ ইউপিএ জমানায় ২–৮ নম্বর পয়েন্টের দিকে তাকাতে পারত না চীন। এখন ৪ নম্বর পয়েন্টের কাছে চীন এয়ারস্ট্রিপ করছে। আমাদের ২ নম্বর পয়েন্টে পাঠাতে চাইছে।’

সূত্র: আজকাল

গোনিউজ২৪/এন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর
করোনা চিকিৎসায় যে ৬টি পরিচিত ওষুধ আলোচনায়

করোনা চিকিৎসায় যে ৬টি পরিচিত ওষুধ আলোচনায়

‘বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট’ ইতালির পত্রিকার প্রধান শিরোনাম

‘বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট’ ইতালির পত্রিকার প্রধান শিরোনাম

বিমানের মধ্যে আটকা ১২৫ বাংলাদেশি, নামতে দিচ্ছে না ইতালি

বিমানের মধ্যে আটকা ১২৫ বাংলাদেশি, নামতে দিচ্ছে না ইতালি

বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ ব্রাজিলে ৪৫ হাজারের বেশি আক্রান্ত

একদিনে যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ ব্রাজিলে ৪৫ হাজারের বেশি আক্রান্ত

করোনার জরুরি ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে

করোনার জরুরি ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে