ঢাকা বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
Sharp AC

দিনে দর্জি, রাতে ভয়ঙ্কর খুনি


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ০৬:৫০ পিএম আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ১২:৫০ পিএম
দিনে দর্জি, রাতে ভয়ঙ্কর খুনি
Sharp AC

দেখে বোঝার উপায় নেই। দিব্যি লোকটা সকাল থেকে দোকান খুলে দর্জিগিরির কাজ করে যেত। নিপাট ভদ্র মানুষ বলেই সকলে চেনে তাকে। কিন্তু এই লোকটা-ই যে একটা সিরিয়াল কিলার তা কেউ কখনও জানতে পারেনি। তার খুনি পরিচয় সামনে আসে যখন আদেশ খামরাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আদেশ খামরা নামে এই দর্জির বিরুদ্ধে একটি দুটি নয়, ৩৩টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। ভয়ানক এই খুনিকে গান-পয়েন্টে রেখে গ্রেফতার করেন এশিয়ান গেমসে জুডো-তে ব্রোঞ্জ জয়ী মহিলা খেলোয়াড় বিট্টু শর্মা। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে পুলিশ সুপার পদে কর্মরত তিনি। 

ভোপালের এক ঘিঞ্জি এলাকায় একটা ছোট টেইলারিং-এর দোকান চালাত আদেশ। কিন্তু রাত হলেই কাঁধে কুড়ুল চাপিয়ে নেমে পড়ত খুনের নেশায়। আর তার প্রতিটি খুনেরই শিকার ট্রাক চালক এবং তাদের খালাসিরা। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে অমরাবতীতে প্রথম খুন করে আদেশ। এরপর নাসিকেও সে এক ট্রাক চালককে খুন করেছে বলে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দাবি। গত কয়েক বছর ধরেই এমন ৩০টি খুনের কেসে নাজেহাল হয়ে যায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। এই ঘটনায় খুন হওয়ারা সকলেই ছিল ট্রাক চালক। তদন্তে পুলিশ এটাও বুঝতে পারে খুনগুলো এক ব্যক্তিরই করা। 

মধ্যপ্রদেশের যেখানে যেখানে এই খুনের ধারার সঙ্গে মিল থাকা হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছিল পুলিশ সেই ফাইলগুলোকে পুনরায় খোলে। কারণ, এই সব খুনের সন তারিখ দেখে পুলিশ বুঝতে পেরেছিল এটা কোনও সিরিয়াল কিলারের কাজ এবং সে এখনও এই এলাকার মধ্যেই রয়েছে। সুতরাং তাকে অতি শীঘ্রই ধরা না গেলে খুনের সংখ্যা আরো বাড়বে। 

জানা গিয়েছে বিহার ও উত্তর প্রদেশে গিয়েও ট্রাক চালকদের খুন করে এসেছে আদেশ। ভোপাল পুলিশের এলিকাতে সম্প্রতি দুই ট্রাক চালক খুন হন। সেই ঘটনারই তদন্তে নেমে পুলিশ বেশকিছু সূত্র পায়। আর তার ভিত্তিতে বাকি খুনের মামলাগুলির ফাইল খোলা হয়। এসপি লোধা রাহুল কুমারের নেতৃত্বে এক তদন্তকারী দল তৈরি হয়। যাতে ছিলেন এসপি পদমর্যাদার অফিসার তথা এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী মহিলা প্লেয়ার বিট্টু শর্মা। তদন্তেই যাবতীয় দিক পুলিশকে আদেশ খামরার টেইলারিং শপ-এর দিকে নিয়ে যায়। আদেশের উপর নজরও রাখা হতে শুরু করে। পুলিশ পিছনে লেগেছে দেখে আদেশ সুলতানপুর জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু পুলিশ জয়করণ নামে আদেশের এক সঙ্গীকে খুঁজে পায়। জয়করণ নিজে খুন না করলেও সে আদেশের সঙ্গে থাকত। জয়করণের দাবি সে নাকি বারবারই আদেশকে জিজ্ঞেস করে এসেছে এই সব খুনের অর্থ কী? জবাবে, আদেশ নাকি বলেছিল, 'ট্রাক চালক ও খালাসিদের জীবন খুব কষ্ঠের, তাই ওদের মুক্তি দিচ্ছি। আদেশের খোঁজে পুলিশ সুলতানপুর জঙ্গলে ঢোকে। সেখানেই এসপি বিট্টু শর্মা প্রায় কিলোমিটার খানেক চেজ করে আদেশকে গ্রেফতার করেন। আদেশকে গান-পয়েন্টে নিয়ে নিয়েছিলেন বিট্টু সামান্য এদিক-ওদিক হলেই যে গুলিতে মাথা এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাবে তা বুঝতে পেরেছিল আদেশ। 

তদন্ত দলের প্রধান এসপি লোধা রাহুল কুমার জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনা একজন পুলিশ অফিসারের জীবনে একটাই আসে। ৩৩টি খুনের আসামীকে ধরতে পেরে তিনি খুব খুশি। 

গো নিউজ২৪/আই

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর
পুরস্কারের দরকার নেই

পুরস্কারের দরকার নেই

নিহত মনিবের জন্য ৮৩ দিন ধরে অপেক্ষা(ভিডিও)

নিহত মনিবের জন্য ৮৩ দিন ধরে অপেক্ষা(ভিডিও)

সু চিকে দেয়া সম্মাননা প্রত্যাহার করলো অ্যামনেস্টি

সু চিকে দেয়া সম্মাননা প্রত্যাহার করলো অ্যামনেস্টি

১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণ করল বাবা!

১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ধর্ষণ করল বাবা!

ক্যালিফোর্নিয়ায় আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

ক্যালিফোর্নিয়ায় আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

সৌদি যুবরাজকে হত্যা চেষ্টা

সৌদি যুবরাজকে হত্যা চেষ্টা

Best Electronics AC mela