ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬

‘করোনা না কি সাধারণ ফ্লু’ বুঝবেন যেভাবে


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২০, ০৩:৩১ পিএম আপডেট: মার্চ ৮, ২০২০, ০৯:৩১ এএম
‘করোনা না কি সাধারণ ফ্লু’ বুঝবেন যেভাবে

করোনাভাইরাস মূলত সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস বহনকারী গ্রুপ। এই গ্রুপের ভাইরাস বছর দশেক আগেও এত ভয়াবহ ছিল না। আমরা প্রত্যেকেই এর প্রকোপে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগেছি। আবার সুস্থও হয়ে উঠেছি নিজের নিয়মে। তবে জিনগত মিউটেশনের ফলে এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এতই মারাত্মক হয়ে উঠল যে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘কভিড-১৯’ নাম নিয়ে আসা এই ভাইরাস ইতিমধ্যেই ত্রাসের জন্ম দিয়েছে। বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ সুমিত সেনগুপ্ত ও বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জ্বর-সর্দি-হাঁচি-কাশি হলে এত দিন যা করছিলেন তাই করবেন। ঘরে শুয়ে-বসে বিশ্রাম নেবেন। হালকা খাবার খাবেন। উষ্ণ পানি পান করবেন পর্যাপ্ত। দরকার মতো প্যারাসিটামল, কাশির ওষুধ খাবেন একটু আধটু। নরমাল স্যালাইন ড্রপ দেবেন নাকে। হাঁচি-কাশির সময় পরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করবেন। শিশু, বয়ষ্ক, রুগ্ন ও গর্ভবতীদের থেকে দূরে থাকবেন। এটুকু করলেই ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমেই ভাইরাসকে কাবু করা যাবে। তখন বুঝতে হবে এটা সাধারণ ফ্লু-ই ছিল।

যদি ১০ দিনেও অসুখ না কমে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে হবে। করোনা হয়েছে কি না তা বুঝতে পরীক্ষার ব্যবস্থা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।
মেডিক্যাল টিম ঠিক করবে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ খেতে হবে কি না। আপনার যদি কোনও রিস্ক ফ্যাক্টর না থাকে, অর্থাৎ সম্প্রতি বিদেশ যাননি বা আশপাশে এ ধরনের রোগী নেই, তা হলে ভয় তুলনায় অনেক কম।

করোনাভাইরাস যদি ১০০ জনকে সংক্রামিত করে তার মধ্যে ১০-১৫ কি ২০ জনের অবস্থা জটিল হয়। বিপদ হয় দু’-এক জনের। বাকি ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষের সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের মতো উপসর্গ হয়। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলে তা নিজের নিয়মেই কমে যায়। তবে এরা অসুস্থ শরীরে রোগ ছড়াতে পারে। কিন্তু তাতেও উদ্বেগের কিছু নেই। করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে এমন কোনও জায়গায় যদি সফর না করে থাকেন, তা হলে নূন্যতম সচেতনতা মেনে চললেই হবে।

কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। কারও যদি হার্ট-লাং-কিডনি-লিভারের ক্রনিক অসুখ না থাকে, বা কোনও অসুখ বা ওষুধের কারণে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে না যায় কিংবা বয়স খুব বেশি না হয়, তা হলে অত ভয়ের নেই। সে ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা যেতে পারে। তার পর যদি দেখা যায় উপসর্গ কমার বদলে বাড়ছে, প্রবল জ্বর উঠছে বা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, রক্তচাপ কমে মাথা ঘুরছে, প্রলাপ বকতে শুরু করছেন, তা কিন্তু বিপদের লক্ষণ।

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বা নির্দিষ্ট ওষুধ কিছু নেই। উপসর্গ হলে তবে তা কমানোর চিকিৎসা করা হয়। আর এতেই ৯৭-৯৮ শতাংশ মানুষ সেরে যান। বেশি ঝুঁকি রয়েছে এমন মানুষদের ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

গো নিউজ২৪/আই

স্বাস্থ্য বিভাগের আরো খবর
‘একটি ভাইরাস দেহে ঢুকলেই জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি’

‘একটি ভাইরাস দেহে ঢুকলেই জন্ম নিচ্ছে কোটি কোটি’

ঘরে বসেই করোনা পরীক্ষার পদ্ধতি জানালেন দেবী শেঠি

ঘরে বসেই করোনা পরীক্ষার পদ্ধতি জানালেন দেবী শেঠি

গণস্বাস্থ্যকে অনুমতি, করোনার কিট উৎপাদন শুরু

গণস্বাস্থ্যকে অনুমতি, করোনার কিট উৎপাদন শুরু

করোনায় ব্রাশ-রেজারসহ এই ১০টি জিনিসে সাবধান

করোনায় ব্রাশ-রেজারসহ এই ১০টি জিনিসে সাবধান

করোনার কারণে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন স্থগিত

করোনার কারণে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন স্থগিত

কোয়ারেন্টাইনে থেকে যে নিয়মগুলো মানতে হবে

কোয়ারেন্টাইনে থেকে যে নিয়মগুলো মানতে হবে