ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনায় ভয় নেই বাংলাদেশের!


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২০, ০৪:১১ পিএম আপডেট: জুলাই ৩, ২০২০, ১০:১১ এএম
করোনায় ভয় নেই বাংলাদেশের!

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের চার মাস পূর্ণ হতে চলেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার প্রকৃত অবস্থা কি সেটা জানা যায়নি। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা, সাথে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গবেষক-বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত হলেও সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বা মধ্যবিত্তদের মাঝে করোনা নিয়ে আতঙ্ক নেই। বরং করোনার থেকে তাঁরা জীবন-জীবিকার তাগিদ, বিশেষ করে অর্থনীতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন-আতঙ্কিত। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষরা বলছেন যে, করোনায় মারা না গেলেও না খেয়ে মারা যেতে পারি।

অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শিথিল হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে নানা জটিলতায় পড়ছেন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে করোনার আতঙ্ক ক্রমশ কমে যাচ্ছে। সরকারও ৩০ মে এর পর থেকে সারাদেশে নতুন করে কোন লকডাউন দেয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে নামকাওয়াস্তে ছোট ছোট জায়গা লকডাউন করা হচ্ছে এবং সেটারও খুব একটা সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।

সরকার ঈদ উপলক্ষ্যে কোরবানির হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে, উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার। প্রধ্ন উঠেছে যে, বাংলাদেশ কেন করোনায় আতঙ্কিত নয়? এটাকি কেবল হুজুগ, গোয়ার্তুমি নাকি এর পেছনে কোন বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকারণ রয়েছে?

সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক কিছু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই সিদ্ধান্তে নিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বিষয়গুলো তাঁরা বিবেচনায় নিয়েছেন তাঁর মধ্যে রয়েছে-

হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এই মুহুর্তে চিকিৎসার অধীনে আছে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু হাসপাতালে আছে মাত্র ৫ হাজার মানুষ। অর্থাৎ শতকরা ১০০ জনের মাত্র ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। গত চার মাসে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, বাড়িতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া যায়, কতগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে করোনা আর দশটা ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ডেঙ্গুর মতোই রোগ। এটাতে আক্রান্ত হলে ভয়ের কিছু নেই। আর একারণেই মানুষ করোনাতে এখন আগের মতো আতঙ্কিত হচ্ছে না, মানুষ নানারকম কাজের জন্য বাইরে বের হতে চাচ্ছে।

মৃত্যুর হার কম

বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ছুঁতে যাচ্ছে। ৪ মাসে দুই হাজার মৃত্যু অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০ জনের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছে। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর শতকরা হার ১.২৬ শতাংশ। মৃত্যুহার কম থাকার কারণে এটা মরণব্যাধি নয় এমন একটি চিন্তা মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আর এই কারণেই মানুষ মনে করছে যে, অর্থনীতিকে সচল রেখে বন-জীবিকার চেষ্টা করা দরকার।

মৃদু এবং উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা বেশি

বাংলাদেশে করোনার যে পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গুরুতর আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা অনেক কম। বরং বাংলাদেশে উপসর্গহীন এবং মৃদু উপসর্গবাহী রোগীর সংখ্যা বেশি। উপসর্গহীন রোগীরা আক্রান্তের খবর জানতেই পারছে না, ফলে তাঁরা আতঙ্কিত হচ্ছে না এবং তাঁদের মাঝে এন্টিবডি তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আবার মৃদু উপসর্গবাহী রোগীরাও বাসায় বসে চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই ধরণের রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে এটা একটি ভীতিকর রোগ বলে মানুষ মনে করছে না।

প্রতিষেধক নিতে আগ্রহ

মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে, গ্লোভস পরলে, হাত ধুলে এবং স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানলে করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি নেই। এই কারণেই মানুষ করোনাকে আর ভয় পাচ্ছে না। বরং মাস্ক-গ্লোভস পরে এবং সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুয়ে সব কর্মকাণ্ড করতে চাচ্ছে। মানুষ আসলে অচল হয়ে বসে থাকতে চাইছেন না এবং এই বাস্তবতায় করোনার আতঙ্ক তাঁদের কাছে ভয়ঙ্কর নয়।

অর্থনীতিকে গুরুত্ব

করোনায় আতঙ্কিত না হওয়ার সবথেকে বড় কারণ হলো অর্থনীতিকে সচল রাখা। গত চার মাসে মানুষের অনেক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, অনেকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। জীবন-জীবিকার এই সঙ্কটের কারণেই মানুষ এখন আর করোনায় আতঙ্কিত নয়। বরং সামনের পরিস্থিতি তাঁরা কিভাবে মোকাবেলা করবেন সেটা নিয়েই উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত।

গোনিউজ২৪/এন

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
করোনার ভ্যাকসিন প্রথমে যারা পাবেন

করোনার ভ্যাকসিন প্রথমে যারা পাবেন

দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি যাদের

দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি যাদের

পানি দিয়ে করোনাভাইরাস সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায়

পানি দিয়ে করোনাভাইরাস সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায়

প্লিজ কেউ আমার আম্মুকে বাঁচান, অতপর...

প্লিজ কেউ আমার আম্মুকে বাঁচান, অতপর...

দেশে করোনার স্থিতিশীল, আগস্টেই আসছে দ্বিতীয় ঢেউ!

দেশে করোনার স্থিতিশীল, আগস্টেই আসছে দ্বিতীয় ঢেউ!

পশ্চিমা গণমাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রশংসা

পশ্চিমা গণমাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রশংসা