ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭

সুনির্দষ্ট ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, এখন করণীয় যা


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২০, ০৬:২০ পিএম আপডেট: মে ২৯, ২০২০, ১২:২০ পিএম
সুনির্দষ্ট ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, এখন করণীয় যা

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মত করোনাও আমাদের জীবনের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেল বলে হয়। তাই এই করোনার মধ্য দিয়েই সাবধানতা নিয়েই আমাদের জীবন চালাতে হবে। জীবন তো আর থামিয়ে রাখা যাবে না। তাই জীবন বাঁচাতেই অবশেষে করোনাভাইরাসের এই ঊর্ধ্বমুখী
সংক্রমণ প্রবণতার মাঝেও দেশের কল-কারখানা, যান চলাচল, অফিস, ব্যাংক সব কিছুই খুলে দিয়ে এক প্রকার বাধ্য হলেন সরকার। যদিও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে যান চলাচল, কারখানা চালু করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা আর সীমিত থাকবে না, অনেকটাই স্বাভাবিকের পর্যায়ে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রায় সবার কাছেই একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে কী করে আমরা নিজেদের, পরিবারের সদস্য বিশেষ করে সন্তানদের এই করোনা মহামারী থেকে রক্ষা করবো! সোশ্যাল মিডিয়া, নিউজ পোর্টাল, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞগন তাঁদের জ্ঞান ও সাধ্যমত পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। সারা দুনিয়ার গবেষকগণ করোনার ওষুধ, ভ্যাকসিন তৈরিতে রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। কিন্তু এখনো কোন সুনির্দিষ্ট ওষুধ, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি।    

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি শক্তিশালী আমরা তত বেশি সুরক্ষিত। তবে আমাদের জন্মের সময় থেকেই সৃষ্টিকর্তা আমাদের শরীরে যেসব প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সুসজ্জিত করে দেন, সেগুলোকে বলে Innate Immunity. আর পরবর্তীতে বিভিন্ন টীকা, ওষুধ প্রয়োগ করে ও বিভিন্ন রোগে ভুগে ভুগে যে নতুন নতুন বাহিনী এবং অস্ত্রশস্ত্র আমাদের শরীরে তৈরি হয়, সেগুলোকে একত্রে বলে Acquired Immunity.  

যে সৈন্যরা সামন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তাঁরা আবার খুব কৌশলী। যুদ্ধের জন্য এরা প্রতিনিয়ত আমাদের দেহের মধ্যে কোটি কোটি নতুন রূপান্তর ঘটিয়ে নতুন শক্তি অর্জন করে আমাদের রক্ষা করে। আর এর জন্যই আমাদেরকে নিজ দেহের প্রতি খেয়াল রাখতে হয়।
যেন আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে তার জন্য আমাদের শরীরকে সাহায্য করতে হয় নানা উপায়ে।  

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের সাথে যেহেতু আমাদের শরীর পরিচিত নয়, সেহেতু একমাত্র Innate Immunity বাহিনীই এর সাথে সফলভাবে যুদ্ধ করতে পারে৷ শিশুদের Innate Immunity খুব শক্তিশালী বিধায়, করোনা ভাইরাস তাদেরকে কাবু করতে
পারেনা৷ Innate Immunity র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো Monocyte (M) এবং Natural Killer (NK বা N) cells 

আমরা যেমন বিপদে পড়লে থানা পুলিশকে ফোন করি, ঠিক তেমনই ভাইরাস আক্রান্ত কোষগুলোও Type 1 interferon নিঃসরণ করে পার্শ্ববর্তী কোষ এবং M ও N cell কে বিপদসংকেত পাঠায়৷ কিন্তু করোনা ভাইরাস এই ফোনের লাইন কেটে দিয়েই কোষকে আক্রমণ
করে৷ ফলে কোষগুলো তাদের বিপদের কথা কাউকে জানাতে পারেনা তাই অন্যান্য কোষ বা মস্তিষ্ক ভাইরাসের আক্রমণ টের পায়না৷ এছাড়া করোনা ভাইরাস একই সাথে অজানা কোনো উপায়ে M এবং N cells গুলোকে দুর্বল করতে থাকে।  

এজন্যই কেউ করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার পরবর্তী গড়ে ৫ দিন পর্যন্ত তার শরীরে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না৷ এই ৫ দিনে করোনা ভাইরাস বিনা বাঁধায় ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে থাকে এবং নিজেরাও বিশাল সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়৷ আর যাদের লক্ষণ প্রকাশ পেতে আরো বেশী সময় লাগে, তাদের দেহে করোনা ভাইরাস আরো ভয়ঙ্কর বাহিনীতে পরিণত হয়৷ লক্ষণ (জ্বর/কাশি) প্রকাশ পাবার পর থেকে M এবং N cells যুদ্ধে নামে এবং ৮০% রোগীর ক্ষেত্রেই ভাইরাসগুলো ধ্বংস করে তাদেরকে সুস্থ করে তোলে৷

করোনাভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ না পাবার আগেই আমাদের শারীরিক সিস্টেম যদি কোনোভাবে M এবং N Cellsদেরকে ডেকে এনে ভাইরাস নির্মূল করার কাজে লাগিয়ে দিতে পারে, তা হলে কেমন হয়? কারণ শুরুতে ভাইরাস সৈন্যদের শক্তি আমাদের শরীর রক্ষা বাহিনীর শক্তির চেয়ে দুর্বল থাকে, এ কারণে খুব তুলনামূলক ক্ষুদ্র ও দুর্বল ভাইরাস-বাহিনীকে হারিয়ে দেয়া আমাদের শরীরের জন্য অনেক সহজ হতো৷

১৯১৮ – ২০ সালে পৃথিবীতে আঘাত হেনেছিলো ভয়ঙ্কর Spanish `হাইড্রোথেরাপি’(Hydrotherapy) যা প্রয়োগ করে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছিলো এবং মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছিলো৷ এই Hydrotherapyর মূলনীতি হচ্ছে, যখন মানুষ কোন রোগে
আক্রান্ত কিন্তু জ্বর হয়নি – তখন কৃত্রিমভাবে তার শরীরের তাপমাত্রাকে ১০২॰ – ১০৩॰ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, গরম পানিতে গোসল করিয়ে বা Sauna’র মত Heat chamber এ বসিয়ে রেখে৷ এরপর আবার সাথে সাথেই তার শরীরকে ঠাণ্ডা পানি
দিয়ে শীতল করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের তাপমাত্রা ১০২॰-১০৩॰ ফারেনহাইট এ পৌঁছানো মাত্র, মস্তিষ্ক এটাকে জ্বর হিসেবে ভেবে নেয় এবং M ও N cells শরীরে বেশী তৈরি হতে থাকে৷ তাপমাত্রা বাড়ার পরপরই আবার তা কমিয়ে আনলে M এবং N cells এর
পাশাপাশি Innate Immunity র অন্যান্য components গুলোরও পরিমাণ এবং ভাইরাস ধ্বংসের ক্ষমতা বেড়ে যায়৷

বিভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন তাপমাত্রা ও সময় ব্যবহার করা হয়েছে৷ সমস্ত গবেষণা ব্যাখ্যা করে, সেরা ফলাফল পাওয়া গেছে –মাঝারী মাত্রায় ব্যায়াম করার পর, গরম পানি বা Sauna’র মত Heat chamber দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে, তারপর সাথে সাথে শরীরকে ঠাণ্ডা করলেই Immune System এর সর্বোচ্চ ভাইরাস বিধ্বংসী ক্ষমতা আসে৷

গবেষণাগুলোতে গরম পানি ব্যবহার করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৯॰ সে: বা ১০৩॰ ফারেনহাইট এবং সময় ১ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টা৷ ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫॰ সে: থেকে সর্বোচ্চ ১৮॰ সে: এবং সময় ১৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা৷

তাই Hydrotherapy র জনক John Hervey Kellog উদ্ভাবিত Hydrotherapy করোনাভাইরাস মহামারীতে আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ, কিছু দেশ – যেসব দেশে Sauna খুব জনপ্রিয়, সেসব দেশের করোনার সংক্রমণ বেশী না। Sauna হলো অনেকটা Hydrotherapy র ই অত্যাধুনিক রূপ যেখানে ১৫ মিনিট শরীরকে অত্যন্ত উত্তপ্ত করে তারপর হঠাৎ ২-৩ মিনিটেই তাপমাত্রা একদম কমিয়ে আনা হয়৷

২৮ মে ২০২০ পর্যন্ত ফিনল্যান্ডে Sauna পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়৷ ফিনল্যান্ডে করোনা আক্রান্ত মোট ৬,৭৪৩ জন এবং মৃতের সংখ্যা ৩১৩ জন৷ নরওয়েতেও Sauna র প্রচলন বেশী এবং সেখানকার পরিসংখ্যান হলো, আক্রান্ত ৮,৪১১ জন এবং মৃত ২৩৬ জন৷ জাপানিরা
গরম এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পর্যায়ক্রমে গোসল করে৷ তাদের পরিসংখ্যান হলো, আক্রান্ত ১৬,৬৮৩ জন এবং মৃত ৮৬৭ জন৷ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক-দল বিদেশ ভ্রমণের ফলে জাপানে এই সংক্রমণ এতো বেশী ছড়ায়।

আমাদের দেশের মানুষের জীবনাচরণের কারণেই অধিকাংশেরই Innate Immunity দুর্বল।  শহুরে মানুষের কায়িক পরিশ্রম না করা, রাতজাগা, মানসিক চাপ, ফার্স্ট ফুডের মত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ভেজাল খাবার এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল ও সবজি খাওয়া ইত্যাদির এর প্রধান কারণ। তাই শহরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আমাদের দেশে গ্রামের চেয়ে অনেক বেশী।  

এই বিপদের মুহূর্তে সব রকম উপায়েই আমাদের Innate Immunity কে শক্তিশালী করে তুলতে হবে৷ ভাইরাস নির্মূলকারী Innate Immunity কে শক্তিশালী করার উপায় হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে, অর্থাৎ ভিটামিন সি, রসুন, আনারস, ডিম, মাছ, ডাল, ইত্যাদির মত খাবার খেয়ে শরীরে পি এইচ এর পরিমাণ ৮.৫ এর উপরে বাড়ানো, আর নিয়মিত প্রতিদিন কম করে হলেও ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা। দৈনিক অন্তত ১৫-২০ মিনিটের জন্য sunbath করা৷  

গোনিউজ২৪/এন

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
করোনা বিদায় নিচ্ছে না, মেনে নিয়েই বাঁচতে হবে

করোনা বিদায় নিচ্ছে না, মেনে নিয়েই বাঁচতে হবে

করোনায় ভয় নেই বাংলাদেশের!

করোনায় ভয় নেই বাংলাদেশের!

এমপির মেয়ের একি কান্ড!

এমপির মেয়ের একি কান্ড!

এক বছর ধরে পাকিস্তানের কারাগারে শিকলবন্দি ৯ বাংলাদেশি

এক বছর ধরে পাকিস্তানের কারাগারে শিকলবন্দি ৯ বাংলাদেশি

করোনার উপস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য

করোনার উপস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য

করোনার থাবায় তছনছ চট্টগ্রামের ক্যাফে জামান পরিবার

করোনার থাবায় তছনছ চট্টগ্রামের ক্যাফে জামান পরিবার