ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

প্রধানমন্ত্রী কি মাঠ পর্যায়ের সঠিক তথ্য পাচ্ছেন?


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৪, ২০২০, ১১:০১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী কি মাঠ পর্যায়ের সঠিক তথ্য পাচ্ছেন?

করোনা মোকাবিলার জন্য শুরু থেকেই উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা, সেই সময় করোনা সংক্রমণের তথ্যটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় প্রধানমন্ত্রীকে। এটি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। বন্ধ করে দিয়ে তিনি করোনা মোকাবিলার কাজে ঝাপিয়ে পরেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ অনেকগুলো দ্রুত তড়িৎ এবং কার্যক্রম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু যতই সময় এগিয়ে যাচ্ছে, ততই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ একটি মহল প্রধানমন্ত্রী সঠিক সত্য তথ্য যেন না পায় সেই ব্যবস্থা করছেন।

প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলার জন্য কোথাও যেন বিচ্যুতি না হয়, কোথাও যেন দুর্নীতি অনিয়ম না হয় সেজন্য সবগুলো বিভাগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করছেন। আজ সর্বশেষ রংপুরের ৮টি জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়েছেন। এই ভিডিও কনফারেন্সগুলো প্রধানমন্ত্রীর তথ্য আহরণের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। এই ভিডিও কনফারেন্সগুলোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশ থেকে প্রকৃত তথ্য, প্রকৃত অবস্থাটা জানতে পারছিলেন।

কিন্তু কয়েকটি ভিডিও কনফারেন্সে সরকারী কর্মকর্তারা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিলে এবং সেই তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিন্ডিকেটদের টনক নড়ে। তারপর তারা প্রধানমন্ত্রী যেন সরাসরি তথ্য না পান সে ব্যবস্থা করার জন্য তৎপর হয়ে পরেন।

জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী যখন ভিডিও কনফারেন্স শুরু করেন তখন ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান যে, তাদের ওখানে পিসিআর ল্যাব নেই। তাদের ওখানে করোনা পরীক্ষার নূন্যতম ব্যবস্থা নেই। পিপিইর মান নিয়েও খুলনার একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে মহানগর হাসপাতালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চলে আসে যেখানে দেখা যায় যে, জিএমআই গ্রুপ এন-৯৫ বলে যে মাস্ক সরবারহ করছে তা আসলে এন ৯৫ নয়। প্রধানমন্ত্রী এই সময়ে এইসব বিষয়গুলো দেখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, যারা যা দিচ্ছে তা যাচাই বাছাই করার দায়িত্ব রয়েছে সরকারের।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এইরকমভাবে যে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য পাচ্ছিলেন, সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পছন্দ হচ্ছিলো না। তারা মনে করছিল, এরফলে তাদের গদি নড়বড়ে হয়ে যাবে। এই কারণেই তারা এখন নতুন পদ্বতি গ্রহণ করেছেন।

একাধিক জেলার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও কনফারেন্সের আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ফোন করে বলেছেন আপনাদের যদি কোন অভিযোগ থাকে, কোন বক্তব্য থাকে সেটা আমাদের কাছে বলবেন। পিপিই, মাস্ক বা কোন সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন না।

উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজেই সিভিল সার্জনকে বলেছেন, কোন সমস্যা থাকলে যেন সরাসরি তাকে বলা হয়। শুধু এটি নয়, গত কয়েকটি ভিডিও কনফারেন্সেই একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী যখন সঠিক তথ্য জেনে সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন তখন একটি মহল তথ্য ধামাচাপা দিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক দেখানোর প্রানান্ত চেষ্টা করছেন। এরফলেই করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ থেকে ভয়ঙ্করের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রী যদি সঠিক তথ্য না পান তাহলে তিনি সমস্যার সমাধান কিভাবে করবেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

গোনিউজ২৪/এন

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
দেশে দেশে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের যত করোনার ভ্যাকসিন

দেশে দেশে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের যত করোনার ভ্যাকসিন

যেসব কারণে দুশ্চিন্তার কারণ নেই বাংলাদেশের

যেসব কারণে দুশ্চিন্তার কারণ নেই বাংলাদেশের

করোনা বাড়ছে বিত্তবানরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে

করোনা বাড়ছে বিত্তবানরা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে

সুনির্দষ্ট ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, এখন করণীয় যা

সুনির্দষ্ট ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, এখন করণীয় যা

এবার ‘প্লাজমা ব্যাংক’ তৈরির উদ্যোগ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

এবার ‘প্লাজমা ব্যাংক’ তৈরির উদ্যোগ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

করোনা ‘অপমানিত’ বোধ করছে বাংলাদেশে

করোনা ‘অপমানিত’ বোধ করছে বাংলাদেশে