ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭

বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া বাংলাদেশি আবিষ্কারের গল্প


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২০, ১১:০৩ পিএম
বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়া বাংলাদেশি আবিষ্কারের গল্প

করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। উন্নত বিশ্বের বড় বড় সব গবেষণাগার ব্যস্ত এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার নিয়ে। এর মধ্যেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশের ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত দ্রুত ও কম মূল্যে করোনা শনাক্তের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। প্রায় দুই মাস ধরে গবেষণার পর এই সাফল্য আসে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই আবিষ্কার বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটিকে কিট উৎপাদন ও বাজারজাত করার অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ব্লাড গ্রুপ যে পদ্ধতিতে চিহ্নিত করা হয় এটা মোটামুটি সে রকমের একটি পদ্ধতি। ২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ‘র‌্যাপিড ডট ব্লট’ পদ্ধতিটি ড. বিজন কুমার শীলের নামে পেটেন্ট করা। পরে এটি চীন সরকার কিনে নেয় এবং সফলভাবে সার্স মোকাবেলা করে।’

‘তারপর তিনি সিঙ্গাপুরেই গবেষণা করছিলেন ডেঙ্গুর ওপরে। গবেষণা চলাকালে তিনি দুই বছর আগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগ দেন। আমাদের এখানে যখন যোগ দিলেন তখন তিনি ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছিলেন।’

‘যখন গত বছরের ডিসেম্বরে নতুন করোনাভাইরাস দেখা দিলো তখন তিনি আমাদের বললেন, ‘এটা (নতুন করোনাভাইরাস) হলো সার্সের রূপান্তরিত রূপ। এটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। উনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন। তখন আমরা কেউ চিন্তা করি নাই করোনাভাইরাস এমন হতে পারে। তিনি তখন বলেছিলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের গবেষণা করা দরকার।’

‘উনি আমাদের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের প্রধান বিজ্ঞানী। উনি সাভারে আমাদের ক্যাম্পাসে থাকেন। উনি গত দুই মাসে করোনার গবেষণা পারফেক্ট করেন।’

জাফরুল্লাহ বলেন, এই পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। এটা করতে রিএজেন্ট লাগে। কেমিক্যাল রিএজেন্টগুলো সহজলভ্য না। এগুলো পাওয়া যায় সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা ও ব্রিটেনে।’

তিনি জানান, এখন এটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরাই মার্কেটিং করতে যাচ্ছি। প্রচলিত কিট যেটা বিশ্ব বাজারে আছে সেটা খুবই ব্যয়বহুল। এর জন্যে একটা দামি যন্ত্র প্রয়োজন হয়। সেই যন্ত্র সব মেডিকেল কলেজে নেই। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে তিনটা আছে। সারা দেশে এই যন্ত্র খুব বেশি নেই। আইইডিসিআরের কাছে একটা যন্ত্র আছে। এ কারণে তারা এখন পর্যন্ত মাত্র ২৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করতে পেরেছে। অথচ আমাদের পরীক্ষা করা উচিত ছিল হাজার-হাজার।’

‘ড. বিজন ও তার দলের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ৩৫০ টাকায় মাত্র ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত সম্ভব’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বলে যাবে আপনার দেহে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কি না। এতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মতো। সরকার যদি এর ওপর ট্যাক্স-ভ্যাট আরোপ না করে তাহলে আমরা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বাজারজাত করতে পারব।’

তিনি বলেন, তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপরে। ডেঙ্গু টেস্টের যেমন মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল করোনা টেস্টেরও যদি মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তাহলে জনগণ স্বল্প মূল্যে সেবা পাবে। মূল্য নির্ধারণ না করে দিলে যে যার যার মতো টাকা নিবে। আমরা মাসে এক লাখ কিট সরবরাহ করতে পারব। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে প্রাথমিকভাবে এই মাসে ১০ হাজার কিট সরবরাহ করতে পারব।’

গোনিউজ২৪/এন

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
বিশ্বসেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বসেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়

শেখ হাসিনার ৫ ম্যাজিকে দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার ৫ ম্যাজিকে দক্ষিণ এশিয়ায় সেরা বাংলাদেশ

এক বিরল সম্মাননা, কোমায় থেকেই পেলেন পদোন্নতি

এক বিরল সম্মাননা, কোমায় থেকেই পেলেন পদোন্নতি

যার লক্ষণ-উপসর্গ নেই তাকে করোনা আক্রান্ত ধরছি না: ফ্লোরা

যার লক্ষণ-উপসর্গ নেই তাকে করোনা আক্রান্ত ধরছি না: ফ্লোরা

টাকা-মোবাইলের স্ক্রিনে করোনা ভাইরাস জীবিত থাকে ২৮ দিন

টাকা-মোবাইলের স্ক্রিনে করোনা ভাইরাস জীবিত থাকে ২৮ দিন

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল ডব্লিউএফপি

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেল ডব্লিউএফপি