ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬

কিংবদন্তি ফুটবলার এখন উবার চালক, সব কেড়ে নিয়েছেন এরদোগান


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ০৬:৩৮ পিএম আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ১২:৩৮ পিএম
কিংবদন্তি ফুটবলার এখন উবার চালক, সব কেড়ে নিয়েছেন এরদোগান

২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ। দর্শক তখনো ঠিকঠাকভাবে নিজেদের আসনে বসতে পারেননি। এর মধ্যেই মাত্র ১০.৮ সেকেন্ডেই হাকান সুকুরের গোল! লক্ষ্যভেদ করেই পাখির ডানা মেলার মতো হাত দুটো দুই পাশে ছড়িয়ে যেন উড়ে যেতে চাইলেন। তবে সতীর্থরা অবশ্য তাকে উড়ে যেতে দেননি। ভালোবাসা আর আদরে জড়িয়ে নিয়েছিলেন তাকে। সবাইকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের মালিক বনে যাওয়া সেই সুকুরকে মনে আছে? 

দেগুর বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামের ৬৩ হাজার দর্শক আর টেলিভিশনের পর্দায় ম্যাচ উপভোগ করা কোটি কোটি মানুষ ওই গোলের কথা ভোলার কথা নয়। কিন্তু ব্যক্তি সুকুরকে কয়জন মনে রেখেছেন? বাকিদের কথা বাদ দিন, খোদ তুরস্কের মানুষই তাকে ভুলে গেছে। শুধু ভুলে গেছে বলাটাও ভুল হবে, কারণ সরকারের রোষানলে পড়ে নিজ দেশ থেকেই বিতাড়িত হয়েছেন ইতিহাস গড়া এই ফুটবলার। 

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সুকুর। শুধু কি তাই, জীবিকার তাগিদে তিনি এখন অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সার্ভিস উবার’র ড্রাইভার। ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি বই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা সুকুর দাবি করেছেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিপ এরদোগান তার কাছ থেকে সব কেড়ে নিয়েছেন।

তুরস্ক, গ্যালাতাসারাই, ইন্টার মিলান ও ব্যাকবার্নের সাবেক এই স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, তাকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে তার সব সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অথচ একসময় পুরো তুরস্কের রাস্তায় রাস্তায় তার ছবি আর পোস্টার শোভা পেতো। তাকে দেশটির জাতীয় বীর উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

ক্লাব ক্যারিয়ারে ২৫০-এর বেশি গোল করেছিলেন সুকুর। আর দেশের জার্সিতে ১১২ ম্যাচে ৫১ গোল নিয়ে হয়েছিলেন তুর্কি ফুটবলপ্রেমীদের চোখের মণি। কিন্তু ঝামেলার শুরু অবসর নেওয়ার পর। শুরুতে কিছুদিন ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করলেও এরদোগানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একেপি) পার্টিতে নাম লেখান তিনি। 

এরদোগানের দলের হয়ে পার্লামেন্টের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন সুকুর। কিন্তু দলের সঙ্গে তার মতের অমিল হতেই সব পাল্টে যায়। এরদোগানের বন্ধু, রাজনৈতিক সহচর এবং লেখক ফেতুল্লা গুলেনের ‘গুলেন আন্দোলন’ (বহুজাতিক ইসলামিক ও সামাজিক আন্দোলন) তখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এরদোগান এটা মানতে পারেননি। ফলে দুই পক্ষের বিবাদ শুরু হয়। 

‘গুলেন আন্দোলন’র কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্রামার স্কুল বন্ধ করে দেয় এরদোগান সরকার। এর প্রতিবাদে সরব হন সুকুর। দল থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। মূলত সেখান থেকেই শুরু। এরপর টুইটারে এরদোগান সরকারের সমালোচনা করে আরও বিরাগভাজন হন। শুধু তাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে ‘আমি তুর্কি নই, আমি আলবেনিয়ান’ বলার পর নিজ দেশের মানুষের সমর্থনও হারিয়ে ফেলেন তিনি।

সরকারের সমালোচনার ফলে ২০১৬ সালের জুনে সুকুরের বিচার শুরু হয়। বিচারকার্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তাকে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হয়। এরপরই পরিবার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। 

সুকুরের বাবা এখনও গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। এর আগে ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার মা নিজেও ক্যান্সারে আক্রান্ত। আক্ষেপ নিয়ে সুকুর বলেন, ‘এটা তাদের (বাবা-মা) জন্য খুব কঠিন সময়। আমার সঙ্গে যারাই সম্পর্কিত তাদের সবাইকে আর্থিক ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে।’

গো নিউজ২৪/আই

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
থানা হাজতেই বসেই ব্যবসায়ীকে হুমকি পাপিয়ার

থানা হাজতেই বসেই ব্যবসায়ীকে হুমকি পাপিয়ার

ব্রাউনিয়াকে নিয়ে দুই বন্ধুর দ্বন্দ্ব!

ব্রাউনিয়াকে নিয়ে দুই বন্ধুর দ্বন্দ্ব!

ধানমন্ডিতে পাপিয়ার আরেকটি আস্তানার সন্ধান

ধানমন্ডিতে পাপিয়ার আরেকটি আস্তানার সন্ধান

কানে ফোন, ব্লেডে হাত কেটেই চলছেন পাপিয়া

কানে ফোন, ব্লেডে হাত কেটেই চলছেন পাপিয়া

বাংলাভাইকে গ্রেফতার করা পুলিশ কর্মকর্তা এখন ঘুরছেন পথে পথে

বাংলাভাইকে গ্রেফতার করা পুলিশ কর্মকর্তা এখন ঘুরছেন পথে পথে

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের চিঠি

প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের চিঠি