ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯, ০৫:৩৬ পিএম আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৯, ১১:৩৬ এএম
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে

১০০ বছরেরও বেশী সময় ধরে আসামের জাতিঙ্গা গ্রামে ঘটছে একটি অদ্ভুতুড়ে ঘটনা। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময় শয়ে শয়ে পাখি এসে ঝাঁপ দেয় আলোর উৎসগুলিতে। বিশেষ করে আগুন কিংবা আলো রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে। এতে শত শত পাখি আগুনে পুড়ে কিংবা ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খেয়ে আধমরা অবস্থায় পরে থাকে মাটির উপর। সাধারণত বর্ষা শেষের পর আগস্টের শেষদিক এবং মূলত সেপ্টেম্বর মাসের অমাবস্যাগুলিতে বিকেল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলতে দেখা যায় এই অদ্ভুত ঘটনা।

এই ঘটনার প্রথম রেকর্ড ১৯০৫ সালের। বাঘে মেরে দিয়ে যাওয়া একটি গরুর মৃতদেহ খুঁজতে বেরিয়ে রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসীরা দেখতে পান ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ে থাকা পাখি। তাদের অধিকাংশই অর্ধমৃত। অদ্ভুতভাবে পাখিদের দেখাও যায় কোনও না কোনও আলোর উৎসের কাছাকাছি। এরপর বছরের পর বছর ধরে গ্রামবাসীরা এই সময়গুলোতে আধমরা পাখিদের বাঁশের হাতিয়ার দিয়ে পিটিয়ে মেরে তাদের ঝলসে খাওয়ার উৎসব চালিয়ে গেছেন। যদিও বিষয়টি আর আগের মত নেই। গ্রামবাসীদের নানাভাবে বুঝিয়ে কমানো গেছে পিটিয়ে মারা এবং ঝলসে খাওয়ার পাশবিক উপক্রম। কিন্তু কমানো যায়নি পাখির মৃত্যুর হার। বহু চেষ্টাতেও এই পাখিগুলিকে বাঁচানো সম্ভব হয়ে ওঠে না এখনও। আধমরা অবস্থায় তারা পরিত্যাগ করে খাওয়া দাওয়া। জবরদস্তি খাওয়াতে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু হয়।

সমীক্ষা বলে, এই ঘটনায় আহত হয় প্রায় ৪৪টির মতো প্রজাতি ও উপপ্রজাতির পাখি। কোনও এক বিষয় নিয়ে বিব্রত হওয়া এই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নিজেরা গিয়ে ঝাঁপ দেয় গ্রামের আগুনে ও আলোয়। প্রতিবছরের এই বিপুল পরিমাণ পাখির বসবাস মোটেও ওই গ্রামে নয়। বরং বেশ খানিকটা দূর থেকেও উড়ে আসে তারা এই মৃত্যুস্থলে।

১৯৭৭ সালে জুওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে অর্নিথোলজিস্ট সুধীন সেনগুপ্তকে পাঠানো হয় এই গ্রামে। একাধিক বছর ধরে ঘটনার কিছুদিন আগে থেকে বেশ কিছুদিন পর পর্যন্ত ওখানে থাকেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পত্রিকা ‘সায়েন্স’-এর তরফ থেকে তাকে এই বিষয়ে রিসার্চটি লিখতেও বলা হয়।

সুধীনবাবুর প্রথম পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, কুয়াশা এবং বৃষ্টির ফোঁটার উপর আলোকপাতের দরুণ তৈরি হয় প্রাথমিক বিভ্রম এবং আরও অদ্ভুত বিষয় তিনি লক্ষ্য করেন, প্রতিটি আহত পাখিই তাদের শেষবার খাওয়ার প্রায় তিনঘণ্টা বাদে এসে ঝাঁপ দেয় আলোয়। অর্থাৎ আহত হওয়ার সময় তাদের অধিকাংশেরই পেট খালি থাকে এবং পেশিতে সংকোচন শুরু হয় দ্রুত। এরপর জোর করে খাওয়াতে চাইলে তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং অধিকাংশই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ হারায়। তার গবেষণা বলে আহত প্রতিটি পাখি ডে’টাইম ফিডার।

বহু তথ্যই সংগ্রহ করেন সুধীন সেনগুপ্ত ও তার দল। কিন্তু বিশেষ প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। কেন কেবল জাতিঙ্গার মতো ছোট একটি জায়গায় ঘটে এই বিরাট মৃত্যুযজ্ঞ, কেন এই অস্বাভাবিক আচরণ করে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, কেন আলোক উৎসের দিকে ঝাঁপ দেয় তারা? কেনই বা খালিপেটে থাকাকালীন এমন আচরণ তাদের? কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বেশ কিছু থিওরির মধ্যে বলা হয়, এটি একপ্রকার জিও ম্যাগনেটিক ফল্ট। পৃথিবীর ভৌগলিক মেরু ও চৌম্বক মেরুর অবস্থান পার্থক্যের কারণে উৎপন্ন কোনও শক্তি তাদের বিব্রত করতে পারে বলে মনে করা হয়।

রিদম কনসেপ্ট নামক সাম্প্রতিকতম ব্যাখ্যা থেকে আন্দাজ করা হয়, খাওয়ার পরে বিশ্রামরত পাখিরা বিক্ষিপ্ত আলোর প্রভাবে অসময়ে সূর্যোদয় ভেবে বসে। আলোর এই অস্বাভাবিক বিচ্ছুরণের জন্য দায়ী কুয়াশার স্তর। ফলে, দিকনির্ণয়ের সমস্ত উপায় ঘেঁটে যায় পাখিদের এবং তারা ছুটে যায় আলোর উৎসের দিকে। নিজেদের সমস্ত ইন্সটিংকট ঘেঁটে যাওয়ায় কাটা ঘুড়ির মতো দিকবিদিকশূন্য হয়ে পড়ে তারা।

ব্যাখ্যা কিছু পাওয়া গেলেও কোনওটিকেই একমাত্র কারণ বলে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি আজও। সমতল থেকে ৭৩০ মিটার উঁচু এই গ্রামে ৫টি অমাবস্যা জুড়ে চলা এই রহস্যময় ঘটনা বিশ্বের কাছে অন্যতম এক আশ্চর্য বিষয় হয়েই রয়ে গেছে এখনও।

গো নিউজ২৪/আই

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
৫ কারণে করোনা নিয়ে স্বস্তিতে সরকার

৫ কারণে করোনা নিয়ে স্বস্তিতে সরকার

করোনা নিজের কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে!

করোনা নিজের কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে!

বাংলাদেশে করোনার সুখবর দিল ডব্লিউএইচও

বাংলাদেশে করোনার সুখবর দিল ডব্লিউএইচও

করোনায় বাংলাদেশের নীরব সর্বনাশ হতে পারে

করোনায় বাংলাদেশের নীরব সর্বনাশ হতে পারে

সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে, প্রয়োজন সচেতনতা

সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে, প্রয়োজন সচেতনতা

করোনার ভ্যাকসিন প্রথমে যারা পাবেন

করোনার ভ্যাকসিন প্রথমে যারা পাবেন