ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

যেভাবে হয় লবণ চাষ (ভিডিওসহ)


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ০৫:৩২ পিএম আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১১:৩২ এএম
যেভাবে হয় লবণ চাষ (ভিডিওসহ)

দাম বাড়ার গুজবে বেশি পরিমাণে লবণ কেনার দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাত থেকে সিলেট অঞ্চলে লবণ সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাজারে লবণ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে।

লবণ আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অন্যতম একটি উপাদান। খাদ্যে তালিকার বাইরেও ড্রাইং, কাপড় তৈরি, চামড়া শিল্পে লবণ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।  কিন্তু কী করে হয় লবণ চাষ, তা কি সবাই জানেন? 

আসুন জেনে নেই লবণ চাষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে:

কক্সবাজার জেলা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ইসলামপুর ইউনিয়নের অনেকাংশজুড়েই হয় লবণ চাষ। এ অঞ্চলে লবণ চাষের ইতিহাস দীর্ঘদিনের।

ইসলামপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট নদী। ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে স্থানীয়রা এ নদীকে ঈদগাহ নদী বলে থাকেন। এ নদী ঘেষে বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে হয় লবণ চাষ।

নদীর লবণাক্ত পানি দিয়েই উৎপাদিত হচ্ছে লবণ। সমতল ভূমিকে চারপাশে মাটির ছোট আইল (মাটি দিয়ে উঁচু করে বেড়ার মত) দিয়ে ছোট প্লট আকৃতির জায়গা বানানো হয়। এরপর ছোট প্লটগুলো রোদে ভালভাবে শুকিয়ে কালো পলিথিন বিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নদী থেকে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে লোনা পানি এনে ছোট ছোট ওই প্লট ভর্তি করা হয়।

লবণ চাষ

এভাবে পানি সংগ্রহ করার পর ৪ থেকে ৫ দিন রোদে রাখা হয়। কড়া রোদে পানি বাষ্পীভূত হয়ে চলে যায় আর লবণ পড়ে থাকে পলিথিনের ওপর। লবণের সাদা দানা একটু ঝরঝরে হলেই রিফাইনারি মেশিনের মাধ্যমে লবণ রিফাইন করে বস্তাভর্তি করা হয়। প্রতি বস্তায় ৮০ কেজি করে লবণ থাকে। এ লবণ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে। এখান থেকে বড় বড় নামি-দামি কোম্পানি যেমন এসিআই সুপারি সল্ট, কনফিডেন্সসহ অন্য সব কোম্পানি প্রাথমিকভাবে রিফাইন করা লবণ নিয়ে নিজেদের মেশিনে আরও ঝরঝরে করে। এরপর কোম্পানির মোড়কজাত করে বাজারে সরবরাহ চালায়। 
 
লবণ চাষের ভরা মৌসুম ফাল্গুন-চৈত্র মাস। বছরের ছয় মাস লবণ চাষ হয় ইসলামপুরে, বাকি ছয় মাস একই জায়গা চাষ হয় লোনা পানির চিংড়ি।

লবণ চাষ মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। একটু ঝড় বৃষ্টি হলেই লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শীতের কুয়াশাও লবণের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ ব্যবসা খুবই ঝঁকিপূর্ণ।
 
লবণ চাষের ভরা মৌসুম হচ্ছে ফাল্গুন-চৈত্র মাস। আরও চার মাসও লবণ উৎপাদন হয় ভালো। রোদ থাকলে চৈত্র মাসে এক কানি জমিতে ১২০ মণ পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়।

সারাদেশের লবণের চাহিদার ৮০ ভাগই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মেটানো হয়ে থাকে। কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়ন ছাড়াও কুতুবখালী, মহেশখালী, ইসলামাবাদ, ফুকখালী, বাড়বুআলী, চপুলন্ডীসহ বেশ কিছু জায়গায় লবণ চাষ হয়। লবণ চাষ যেসব জায়গায় হয়, সেখানে অন্য কোনো ফসল হয় না।

মাঠ পর্যায়ে এক বস্তা (৮০ কেজিতে এক বস্তা) লবণের মূল্য ৬০০ টাকা, মিলে রিফাইন করার পর তা হয়ে যায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। ইসলামপুর লবণ শিল্প এলাকা থেকে নৌকা ও ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় লবণ সরবরাহ করা হয়।

লবণ চাষ

লবণ চাষকে কেন্দ্র করে ইসলামপুরে রয়েছে ৪০টি রিফাইনারি ফ্যাক্টরি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০-৩৫টি ফ্যাক্টরি সচল রয়েছে। একটি রিফাইনারি ফ্যাক্টরি চালু করতে হলে সপ্তাহে কমপক্ষে ৭০ টন লবণ প্রয়োজন। লবণ রিফাইনারিতে প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে ৩০-৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন, এ শ্রমিকদের কাজ দিতে হলে সপ্তাহে ৭০ টন ‘র’ লবণ প্রয়োজন।

লবণ শিল্পের ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে কক্সবাজার জেলায় লবণ চাষ শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সহায়তায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে লবণ ব্যবসা বিকাশ লাভ করলেও অষ্টদশ শতাব্দীতে ইংরেজ সরকার এদেশে লবণ উৎপাদন নিষিদ্ধ করে ইংল্যান্ড থেকে লবণ আমদানি শুরু করে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে উপকূলীয় জমি পরিষ্কার করে সাগরের পানি সূর্যে ও তাপে বাষ্পীভূত করার মাধ্যমে এক ব্যক্তি লবণ চাষ শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার গোমাতলী মৌজাতে এক ব্যক্তি ১২০ একর জমি দীর্ঘ মেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে লবণ চাষ শুরু করেন। সে থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লবণ উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়।  
 
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলায় ৬৩ হাজার ৫৩২ একর লবণের মাঠ রয়েছে। আর লবণ চাষি রয়েছেন  ৪৩ হাজার ৫০০ জন।

লবণ চাষ দেখুন ভিডিওতে

গো নিউজ২৪/আই

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে আদালতে যা ঘটলো সারাদিন 

খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে আদালতে যা ঘটলো সারাদিন 

পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের বিস্কুট-চানাচুর উদ্ভাবন

পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের বিস্কুট-চানাচুর উদ্ভাবন

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে

জগদীশ্চন্দ্র বসুর ছবিযুক্ত নোট প্রচলিত হতে পারে ইংল্যান্ডে

জগদীশ্চন্দ্র বসুর ছবিযুক্ত নোট প্রচলিত হতে পারে ইংল্যান্ডে

অসম প্রেম ও একটি খুনের গল্প...

অসম প্রেম ও একটি খুনের গল্প...