ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ক্ষোভ থেকেই মামা ইকরামকে হত্যা


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০১৯, ০৮:৪২ এএম
ক্ষোভ থেকেই মামা ইকরামকে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে কলেজছাত্র মো. ইকরাম হোসেন (১৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

ভাগ্নির ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করার জেরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ইকরামকে খুন করা হয় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দ দিয়েছে খুনিরা।

গত ১০ আগস্ট রাতে দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘুমন্ত ইকরাককে কুপিয়ে হত্যা করে বখাটেরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইকরামে এক ভাগিনাও সম্পৃক্ত আছেন বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- প্রতিবেশী নাজমা আক্তার (৪০)ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন (৫৫)। পরে সরাইল সদর উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে ইমরানুল হাসান সাদী (১৯)কেও আটক করে পুলিশ।

এদিকে ক্ষোভ থেকেই মামা ইকরামকে হত্যার মিশনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দ দিয়েছেন ভগিনা সাদী। মঙ্গলবার জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, নিহত ইকরাম হোসেন সরাইল উপজেলার বর্ডার বাজার এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে। তিনি সরাইল ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

উপজেলার বারজীবিপাড়ায় তার খালাতো বোন লাভলি আক্তারের বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতেন ইকরাম।

লাভলির মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিনও ইকরামের সঙ্গেই কলেজে পড়েন। সুমাইয়াকে প্রতিবেশী রবিউল্লার ছেলে মো. শিমুল প্রায়ই ইভটিজিং করতো।

ইকরাম ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করার পর গত বছরের ১৩ অক্টোবর তৎকালীন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত বখাটে শিমুলকে আট মাসের কারাদণ্ড দেন।

তখন থেকেই ইকরামের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় শিমুলের। গত গত ঈদুল ফিতরের আগে সাজা ভোগ করে কারামুক্ত হন শিমুল।

আর নিহত ইকরাম কোন এক সময় তার খালাতো বোনের ছেলে সাদীকে মারধর করেছিল বিধায় তার ওপর ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সাদী প্রায়ই ইকরামের সঙ্গে ঘুমাতো।

তাই প্রতিশোধ নেয়ার জন্য শিমুল সাদীকে উসকানি দেন। মাস দুয়েক আগে তারা দুইজন স্থানীয় একটি বিলে দেখা করে ক্ষোভ মেটানোর জন্য ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনামতে গত ১০ আগস্ট রাতে দিবাগত রাত তিনটার দিকে সাদী ঘরের দরজা খুলে দিলে শিমুল ও তার ভাই সোহাগ দা, ছুরি এবং বস্তাসহ ঘরে ঢুকে।

সাদী তার ঘুমন্ত মামা ইকরামের পা চেপে ধরেন আর শিমুল ও সোহাগ দা, ছুরি এবং ঘরে থাকা বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

পরবর্তীতে মরদেহ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় বেধে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ভোরের আলো ফোটার কারণে মরদেহ গুম করতে না পেরে ঘরেই লুকিয়ে রাখেন।

পরে ইকরামকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য লাভলী ঘরের দরজা খুলে দেখেন মেঝেতে বস্তাবন্দি দুই পা বের হয়ে আছে। এ সময় লাভলি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ইকরামের মরদেহ দেখতে পান।

এ ঘটনায় নিহত ইকরাকের বাবা শহিদ মিয়া বাদী হয়ে ১১ আগস্ট সরাইল থানায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পুলিশ আমলার এজহারনামীয় আসামি সাদী, নাজিম উদ্দিন ও নাজমাকে গ্রেফতার করে।

গো নিউজ২৪/এমআর

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
বিশ্বের ২৯ তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা

বিশ্বের ২৯ তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা

মানব উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

মানব উন্নয়ন সূচকে এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধুকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে আদালতে যা ঘটলো সারাদিন 

খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে আদালতে যা ঘটলো সারাদিন 

পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের বিস্কুট-চানাচুর উদ্ভাবন

পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের বিস্কুট-চানাচুর উদ্ভাবন

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে আত্মহত্যা করে যে গ্রামে