ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিলিন্ডার ব্যবসা 


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০১৯, ১০:২৩ পিএম
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিলিন্ডার ব্যবসা 

গ্যাস নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ছোট বেলায় শুনেছিলাম বাংলাদেশ নাকি গ্যাসের ওপর ভাসছে। আর এখন দেখছি গ্যাসের অভাবে রান্নার চুলায় আগুন জ্বলছে না। তার ওপরে আবার মোটা দাগে বাড়ছে গ্যাসের দাম। 

দেশে গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৬ বার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ক্যাপটিভ ও যানবাহনের সিএনজির দাম। বাসা-বাড়িতে দুই চুলার গ্যাস বিল ছিল ৪৫০ টাকা, যা এখন ৮০০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা ১ হাজার ৪৪০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এক চুলার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দর ১ হাজার ৩৫০ টাকা। ২০০৮ সালের এপ্রিলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ টাকা ৭৫ পয়সা। এখন তা ৪০ টাকা, যা বাড়িয়ে ৫৪ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে, বাসা ভাড়াসহ অন্য সব দ্রব্যসামগ্রীর দাম, বাড়বে শিল্প কৃষির উৎপাদন ব্যয়। যেসব ব্যবসায়ী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পান, কিংবা বড় ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও যাদের জন্য ব্যাংকের সিন্দুক সব সময় খোলা থাকে তাদের বাদে বাকি সব উদ্যোক্তার জন্যই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মানে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। 

সরকার বলছে, বাংলাদেশে মাত্র ৩৫-৪০ লাখ গ্রাহক পাইপলাইনে গ্যাস পান। বাকি কোটি কোটি মানুষের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। নিশ্চয়ই সরকারের উচিত কোটি কোটি মানুষের কথা ভাবা। তবে সমস্যা হলো, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই কোটি কোটি মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, লাভবান হবে মাত্র কিছুজন। 

এর আগে ২০১৭ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সময় প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন এবং বর্তমান উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছিলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে এলপিজি বা সিলিন্ডার ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত তার এই যুক্তির মধ্যেই নিহিত রয়েছে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। 

বর্তমানে যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে সেখানে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি বা সিলিন্ডার গ্যাস) চাহিদা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। 

বিদেশিদের পাশাপাশি দেশি ব্যবসায়ীরাও এ ব্যবসায় মনোযোগী হয়েছেন এবং লাগামহনিভাবে বেড়েই চলছে এলপিজি ব্যবসা। 

দেশীয় কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো, বসুন্ধরা গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, ওরিয়ন, নাভানা, বিএম, ওমেরা, টোটাল ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এলপিজি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাভিত্তিক লাফ্স গ্যাস বাংলাদেশ গ্রাহকদের নিরাপদ সিলিন্ডার দিতে দেশেই সিলিন্ডার কারখানা করার পরিকল্পনা করছে। আরও নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি ব্যবসার অনুমোদন রয়েছে। 

দেশের এলপিজি ব্যবসার কর্ণধার যারা

এ খাতের উদ্যোক্তারা গঠন করেছেন এলপিজি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এর চেয়ারম্যান।

এদিকে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করে গণশুনানি স্থগিত চেয়ে করা রিটের শুনানি বুধবার শেষ হয়েছে।

শুনানিতে গণশুনানিকে তামাশা (মকট্রায়াল) বলে মন্তব্য করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

তিনি বলেন, একটা বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার জন্যই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সংখ্যক মানুষ ফায়দা লুটতে বার বার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন।

তা না হলে হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, এটা সরকার বাহাদুরের অজানা থাকার কথা নয়। 

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়ায় যে বাড়তি খরচ মানুষকে বহন করতে হবে, তার জন্য সরকার কি তাদের বেতন বাড়ানোর দায়িত্ব নেবে? নেবে না। সীমিত আয়ের মানুষের কান্নার আওয়াজ কান পাতলেই শোনা যায়। কেননা নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেলে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। এসব মানুষের জীবন আসলে কীভাবে চলে তার খোঁজ সরকারের কোনো সংস্থার কাছে কী আছে? রাষ্ট্র পরিচালনার গুরু দায়িত্বে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদের কাছে বাসাবাড়ির গ্যাসের এ মূল্যবৃদ্ধি সামান্য কিছু টাকার ব্যাপার হতে পারে! কিন্তু যারা দিন আনে দিন খায় এমন লাখ লাখ পরিবারের কাছে এই মূল্যবৃদ্ধি কত যে বাড়তি বোঝা তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। 

এখন কোনো বাড়িওয়ালাই আর গ্যাস, পানি-বিদ্যুতের বিল নিজে বহন করেন না চাপিয়ে দেন ভাড়াটিয়ার ঘাড়ে। আর ভাড়াটিয়ারা নিরুপায় হয়ে সে বোঝা বহন করতে বাধ্য হন। নইলে বাসা ভাড়া মেলে না। এ অবস্থায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির চাপ সরাসরি ভাড়াটিয়াদের উপরই গিয়ে পড়েছে। এতে করে ভাড়াটিয়াদের উপর সৃষ্টি করেছে বাড়তি চাপ।

সাধারণ মানুষ মনে করেন, সরকারের কাজ হচ্ছে দেশের নাগরিকদের জীবনযাপনকে সহজ করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা। তাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা। আমরা সরকারের মধ্যে এধরনের প্রবণতা দেখছি না। সরকার জনগণকে ভর্তুকি না দিয়ে নিজের ভর্তুকি পূরণ করার জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে যত রকমে পারা যায় আদায় করে নিচ্ছে। সরকারের আচরণে এটা প্রতীয়মাণ হচ্ছে যে, তারা ক্ষমতার জন্যে যা যা করা প্রয়োজন করবে, কিন্তু জনগণের জন্য কিছুই করবে না। তা নাহলে ভর্তুকি দিয়ে হলেও জনগণের সুবিধা নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণ করতো। জনদরদী সরকারের কাজই তো এটা। সরকার জনগণের ওপর একের পর এক যে মূল্যবোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে তা লিখলে সমাপ্তি টানা যাবে না। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দারিদ্র্যতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মনে হয় গ্যাস বিদ্যুৎ ব্যবহারকীরা এ দেশের নাগরিক নন। 


গো নিউজ২৪/আই
 

এক্সক্লুসিভ বিভাগের আরো খবর
৮০ বছরে তলিয়ে যাবে বাংলাদেশের বড় অংশ

৮০ বছরে তলিয়ে যাবে বাংলাদেশের বড় অংশ

‘খেতে চাইলাম দুধ হয়ে গেল ছানা’

‘খেতে চাইলাম দুধ হয়ে গেল ছানা’

বালিশকাণ্ডের মূল হোতা যিনি!

বালিশকাণ্ডের মূল হোতা যিনি!

৪ লাখ ৬৮ হাজারে ৬টি বালিশ কিনেছিলেন বেগম জিয়া!

৪ লাখ ৬৮ হাজারে ৬টি বালিশ কিনেছিলেন বেগম জিয়া!

রাজমিস্ত্রি সেজে খুনি ধরলেন এসআই

রাজমিস্ত্রি সেজে খুনি ধরলেন এসআই

মাথায় গামছা বেঁধে ধান কাটছেন ছাত্রীরা

মাথায় গামছা বেঁধে ধান কাটছেন ছাত্রীরা