ঢাকা রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
Beta Version
Sharp AC

স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, পাঠদান মসজিদে


গো নিউজ২৪ | তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০১৮, ০৫:৪৯ পিএম
স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, পাঠদান মসজিদে
Sharp AC

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর চরপলোয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। চার কক্ষের একটি মাত্র পাকা ভবনের প্রতিটি দেয়ালে ফাটল ও ছাদ জরাজীর্ণ, ছিদ্রে ভরা এবং চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ে। এরই মধ্যে আতঙ্ক নিয়েই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিশুদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এঅবস্থায় শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুদের পাশের মসজিদের দোতলায় ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

একই অবস্থা কেরোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এটি পাকা ভবন ১৯৯০ সালে নির্মিত। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর দু’টি প্রতিষ্ঠানেরই ভবনগুলোকে দুই বছর আগে ‘ঝুঁকিপূর্ণ-পরিত্যক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকেরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান করছেন।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উপজেলার ১২১ টি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে একটি করে ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে। এই দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ সংকটের কারণে এসব বাক্সবন্দী অবস্থায় রয়েছে। সরকার ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দিয়েছে কিন্তু এগুলো রাখার জন্য মাল্টিমিডিয়া কক্ষও নেই।

১০ নং রায়পুর ইউনিয়নের চরপলোয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী বলেন, আমার বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও ১৫০ জন শিক্ষার্থী আছেন। কার্যালয়সহ কক্ষ দরকার সাতটি। কিন্তু নিরাপদে ক্লাস নেওয়া যায় এমন পাকা কক্ষ আছে মাত্র একটি। শিক্ষকদের কক্ষসহ তার মধ্যেই সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। কক্ষ সংকটের কারণে শিশু ও প্রথম শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে পাশের একটি মসজিদে। গত পনেরো বছর ধরে এই সমস্যা পোহাচ্ছি। কোনো সমাধান হয়নি।

৬ নং কেরোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাহিমা বেগম বলেন, এই বিদ্যালয়ে একটিই ভবন। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পাকা ভবনের চারটি কক্ষ গত আট বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও সেখানেই ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। পুরো ভবনে ফাটল ধরায় এখন আর পাঠদান করা হয় না। এ কারণে শ্রেণিকক্ষের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসিয়ে পড়ানো হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে চারটি কক্ষ নির্মাণ করা দরকার। তাছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠ অনেক নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে থাকে। এ সময়ে অন্তত ছয় মাস শরীরচর্চা ও খেলাধুলা বন্ধ থাকে। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৫জন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮০।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন নাহার বেগম বলেন, দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলোর বিষয়ে একাধিকবার সভায় আলোচনা হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আপাতত টিনশেড ঘর নির্মাণ করে পাঠদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আখতার হোসেন ভুইয়া বলেন, ওই দু’টি বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে ক্লাস নেওয়ায় যে কোনো সময় প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ও পাকা ভবনগুলো নিলামের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিক চিঠি দিয়েছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী রায় বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ইতোমধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে। এবিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করেই ক্রমান্বয়ে ব্যবস্থা নেব।

গো নিউজ২৪/আই

শিক্ষা বিভাগের আরো খবর
কুবিতে ‘অনুপ্রাস’ কণ্ঠ চর্চা কেন্দ্রের ৪ দিনব্যাপী কর্মশালা

কুবিতে ‘অনুপ্রাস’ কণ্ঠ চর্চা কেন্দ্রের ৪ দিনব্যাপী কর্মশালা

টাকার অভাবে মিলাদের জিলেপি দিয়েই মেয়েকে মিষ্টি মুখ

টাকার অভাবে মিলাদের জিলেপি দিয়েই মেয়েকে মিষ্টি মুখ

পরীক্ষায় যারা ফেল করেছেন তাদের করণীয়

পরীক্ষায় যারা ফেল করেছেন তাদের করণীয়

পাস করেও যারা অসন্তুষ্ট তাদের জন্য করণীয়

পাস করেও যারা অসন্তুষ্ট তাদের জন্য করণীয়

মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে শতভাগ জিপিএ-৫

মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে শতভাগ জিপিএ-৫

এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবেন যেভাবে

এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবেন যেভাবে

Best Electronics AC mela