ঢাকা শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮

ঝুঁকি নিতে চান না উদ্যোক্তারা, কমেছে ঋণের চাহিদা


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১, ০৭:৪২ এএম
ঝুঁকি নিতে চান না উদ্যোক্তারা, কমেছে ঋণের চাহিদা

হামারি করোনা সংক্রমণ কম‌লেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ব্যবসা-বাণিজ্য। মন্দাবস্থা কাটিয়ে বিশ্ববা‌ণিজ্যে গ‌তি ফেরে‌নি আমদানি-রপ্তানির। ফলে নানা অনিশ্চয়তায় নতুন ক‌রে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না উদ্যোক্তারা। এতে করে কমেছে ঋণের চাহিদা। তবে ভিন্ন চিত্র গ্রাহকদের আমান‌তে।

ব্যাংকাররা বলছেন, মহামারির কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকই বিনিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্য‌দি‌কে, চলমান প‌রি‌স্থি‌তি‌তে ব্যবসা টিকে রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনে‌কে সংকটে টিকে থাকতে বিদ্যমান ব্যবসা সংকুচিত করছেন। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নি‌য়ে উদ্যোক্তারা এখন নতুন করে বিনিয়োগে আসতে চা‌চ্ছে না। এ কার‌ণে ব্যাংকগু‌লো ঋ‌ণ দেওয়ার গ্রাহকও পা‌চ্ছে না। ফ‌লে ঋণ প্রবা‌হে ক‌মে গে‌ছে গতি।

ত‌বে উল্টা চিত্র আমান‌তে। খাত সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন,  করোনার কারণে মানু‌ষ অনেক ক্ষে‌ত্রে খরচ কমিয়েছে। আবার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে সঞ্চয় বাড়া‌চ্ছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘ‌রে ব‌সেই ব্য‌াংকে টাকা জমা কর‌ছে। এ‌সব কার‌ণে আমানত বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সব‌শেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সা‌লের ডি‌সেম্বর শে‌ষে ব্যাংক খাতের সার্বিক ঋণ প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রবৃদ্ধি হার ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ঋণাত্মক ২ দশমিক ২৪ শতাংশে।

জানা গে‌ছে,  অনেক ব্যাংকই এখন নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। যেটুকু ঋণ দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে। কারণ, ঋণ আদায় হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া ঋণ আমানতের অনুপাতের নিচে নেমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বল‌ছে, ইসলামী উইংসহ সাতটি ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। বাকি ৫১টি ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। লক্ষ্য করে দেখা গেছে অগ্রণী, রূপালী, সোনালী, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক এনএ- এর এডিআর ৬০ শতাংশেরও নিচে।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো কী পরিমাণ বিনিয়োগ করতে পারবে তার সীমা বেঁধে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। আগে প্রতিটি ব্যাংক বিনিয়োগ করতে পারতো মোট আমানতের ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার আমানত নিয়ে ৮৫ টাকা বিনিয়োগ করতে পারত। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, এখন থেকে প্রচলিত ব্যাংকগুলো ১০০ টাকার আমানতের ৮৭ টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে। অপর দিকে ইসলামী শরিয়াহ আইন অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকগুলো ৯২ টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগেরই ঋণ আমানতের অনুপাত ৮০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, জুলাই মাসে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তা একমাসেও পূরণ করতে পারেনি ব্যাংক। গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

পূবালী ব্যাংকের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত বেশিরভাগ পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হয়। কিন্তু এসব দেশে এখনও করোনার প্রভাব চলছে। তারা কোনো পণ্যের অর্ডার দিচ্ছে না। পুরাতন অর্ডার বাতিলের উদাহরণও রয়েছে। পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের সার্বিক বিনিয়োগও কমে এসেছে। একারণেই ঋণ-আমানত অনুপাতও নেমে এসেছে নির্ধারিত সীমার নিচে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, শুধু বিনিয়োগ কমে গেছে তা নয়। সরকারি প্রণোদনার টাকা আসছে ব্যাংকগুলোতে। তাই সব ব্যাংকেই এখন অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। তাছাড়া বড় গ্রাহকগুলো এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ের ফান্ড ব্যবহার করছে। দেশে যেসব বিতরণে হচ্ছে তার বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ঋণ। এমন পরিস্থিতিতে সার্বিক বিনিয়োগ ও ঋণ-আমানত অনুপাত কমে আসা খুবই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৫২২ কোটি টাকা। এর বিপরী‌তে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ পাঁচ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭ দশ‌মিক ৭৮ শতাংশ ও আমানত বে‌ড়ে‌ছে ১২.৭৯ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য দুই লাখ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে অলস টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। এ অংক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

অতি‌রিক্ত তারল্য চা‌পে ঋণ দেওয়ার জন্য সুদ হার ক‌মি‌য়ে গ্রাহক খুঁজ‌ছে অনেক ব্যাংক। সহজ শর্তে মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে ভালো গ্রাহক খুঁজছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমা‌দের ১০ হাজার কোটি টাকার মতো তারল্য প‌ড়ে আছে। আমরা ভালো গ্রাহক খুঁজছি। আমাদের ঋণ দিতে সমস্যা হবে না। ভালো গ্রাহক যারা আসবেন তারাই ঋণ পাবেন। যারা এখনো আমাদের গ্রাহক হয়নি, যাদের বাজা‌রে সুনাম রয়েছে তারা এলে আমরা ৯ শতাংশের চেয়ে ২ শতাংশ কমে মাত্র ৭ শতাংশে ঋণ দেবো।

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর
লকডাউনেও ইতিবাচক রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার

লকডাউনেও ইতিবাচক রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নতুন নিয়ম

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নতুন নিয়ম

করোনার এই সংকটে সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

করোনার এই সংকটে সবাইকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে রেকর্ড

করোনার মধ্যেও প্রবাসী আয়ে রেকর্ড

লকডাউনেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেমে নেই

লকডাউনেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেমে নেই

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে