ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭

ব্যক্তিগত, গাড়ি, আবাসন ও শিক্ষা ঋণ সহজ হয়েছে


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২০, ০২:৫৪ পিএম আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২০, ০৮:৫৪ এএম
ব্যক্তিগত, গাড়ি, আবাসন ও শিক্ষা ঋণ সহজ হয়েছে

ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু ঋণ নেওয়ার লোক নেই’—এমন খবরে অনেকেরই অভিযোগ টাকা পড়ে থাকলেও ব্যাংক সাধারণ মানুষকে ঋণ দেয় না। শুধু বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তাকে ঋণ দেয়। কিন্তু এবার ব্যাংক সত্যি সত্যি আপনাকেও ঋণ দেবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই ঋণ পেতে পারেন, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নানা রকমের উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই মধ্যে ভোক্তা ঋণে নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে বড় ছাড় দিয়েছে।

এর ফলে ভোক্তা ঋণ বিশেষ করে ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি ঋণ, আবাসন ঋণ, শিক্ষা ঋণ পাওয়া সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে,  এখন ভোক্তা ঋণের চাহিদা মেটাতে ও ব্যাংকগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে সব ধরনের অশ্রেণিকৃত ভোক্তা ঋণে ২ শতাংশ নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হবে। যেখানে আগে রাখতে হতো ৫ শতাংশ।

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে  ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি বা গাড়ি কিনতে চান বা কোনও আসবাব বা অন্য কোনও প্রয়োজনীয় কিছু কিনতে চান ব্যাংক তাদের আগ্রহ সহকারে ঋণ দেবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)  ভোক্তা ঋণের বিপরীতে সাধারণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা ‘প্রভিশন’ সংরক্ষণের হার তিন শতাংশ কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

এখন থেকে ১০০ টাকা ভোক্তা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে দুই টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। এতদিন ১০০ টাকা ভোক্তা ঋণ দিলে এর বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাবদ ব্যাংকগুলোকে ৫ টাকা সংরক্ষণ করতে হতো।

আগে ব্যাংকগুলো সবধরনের ভোক্তা ঋণের বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতো। ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে করতো দুই শতাংশ। এখন থেকে ২ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। তবে বাড়ি নির্মাণ ঋণের বিপরীতে আগের মতোই এক শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আগে ৯ শতাংশ সুদহারের মধ্যে নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ৫ শতাংশ চলে যেতো।  পাশাপাশি পরিচালন খরচ রয়েছে। এর বাইরে আমানতের খরচও কমপক্ষে ৫ শতাংশ চলে যায়। ফলে ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল কম। এখন নিরাপত্তা সঞ্চিতি ২ শতাংশ করায় ৭ শতাংশ থাকবে। ৫ শতাংশ তহবিল খরচ ও ২ শতাংশ পরিচালন খরচ হলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস উল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো ভোক্তা ঋণ বিতরণে আগ্রহী হবে। এতে করে বেশি মানুষের ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যারা এতদিন মনে করতেন টাকা পড়ে থাকলেও ব্যাংক সাধারণ মানুষকে ঋণ দেয় না, এখন তারাও ঋণ পাবেন। মূলত ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে এই নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে কনজুমার ঋণ বাড়বে। ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে উদ্বুদ্ধ হবে। কনজুমার ঋণে ব্যাংকের আর আগের মতো লোকসান গুনতে হবে না।  তিনি বলেন, এতে একদিকে গ্রাহকেরা ঋণ পাবেন, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা চাঙা হয়ে উঠবে।  ব্যাংকগুলোরও ঋণ কার্যক্রমও চাঙা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলো এখন টাকায় ভরপুর।  অতিরিক্ত টাকার চাপে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে কোনও কোনও ব্যাংক। টাকা জমা রাখতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর খরচও বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিনিয়োগে যেতে হচ্ছে। ভোক্তা ঋণ বিতরণ বাড়াতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে প্রভিশনে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি  বিকল্প বিনিয়োগে মূলধন সংরক্ষণে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থাৎ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও বিকল্প বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যাংকের মূলধন সংরক্ষণে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, অপ্রচলিত বা নতুন ধারণার ব্যবসায় বিনিয়োগের ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে সম্পদের চেয়ে বুদ্ধিভিত্তিক বিনিয়োগে এটি বেশি হয়। এজন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোকে ১৫০ শতাংশ ঝুঁকিভার বা রিস্ক ওয়েট রাখতে হতো। সম্প্রতি এটি কমিয়ে ১০০ শতাংশে আনা হয়েছে। অর্থাৎ এতদিন বিকল্প বিনিয়োগে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে ঝুঁকিভার ১৫০ টাকা ধরে ১০ শতাংশ বা ১৫ টাকা মূলধন সংরক্ষণ করতে হতো। এখন ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার ঝুঁকিভার ১০০ টাকা ধরে ১০ শতাংশ বা ১০ টাকা মূলধন রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এ খাতে ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণের চাপ কমবে এবং বিকল্প বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলোতে আমানত আসার প্রবণতা বাড়লেও তারা সেভাবে বিনিয়োগ করতে পারছে না। যদিও আমানতের সুদহার ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। কিন্তু নিশ্চিত মুনাফা ও নিরাপদে টাকা ফেরতের আশায় সাধারণ মানুষ ব্যাংকগুলোতেই টাকা রাখছে। এছাড়া নতুন বিনিয়োগ না হওয়ার কারণে ব্যাংকের হাতে তারল্য বেড়ে গেছে।  এই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বেড়েছে। এই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নিয়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ নগদ টাকা ব্যাংকের হাতে এসেছে। এর বাইরে নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে তারল্য বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছে। যে কারণে করোনাকালে তারল্যের পরিমাণ বেড়ে গেছে রেকর্ড পরিমাণ। অথচ চাহিদামতো সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারছে না। এমনকি কল মানি ও অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত হিসেবেও রাখতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসের শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর হাতে নগদ আছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাকি টাকা বিনিয়োগ করেছে ট্রেজারি বিল-বন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রায়। 

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর
যে কৌশলে চার বছরেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ

যে কৌশলে চার বছরেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ

দেশের বাজারে কমে গেছে স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে কমে গেছে স্বর্ণের দাম

যেসব পরিদর্শনে ভাতা পাবেন না শিক্ষার মাঠ কর্মকর্তারা

যেসব পরিদর্শনে ভাতা পাবেন না শিক্ষার মাঠ কর্মকর্তারা

বাংলাদেশ ব্যাংকে দুই ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকে দুই ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন

আমদানি করা পেঁয়াজ ফেলে দেয়া হচ্ছে খালে-নদীতে

আমদানি করা পেঁয়াজ ফেলে দেয়া হচ্ছে খালে-নদীতে

২১৩ কোটি টাকা বাঁচিয়ে প্রকল্প শেষ করল জাপানি প্রতিষ্ঠান

২১৩ কোটি টাকা বাঁচিয়ে প্রকল্প শেষ করল জাপানি প্রতিষ্ঠান