ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭

ধর্ষণের সময় রক্ত ক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, কে এই দিহান?


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২১, ১২:২৪ পিএম
ধর্ষণের সময় রক্ত ক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, কে এই দিহান?

রাজধানীর কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহান।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, ‘ধর্ষণের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয়েছে ওই শিক্ষার্থীর।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, দিহান ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মধ্যে পরিচয় ছিল দুই বছরের। তাদের পরিবারের মধ্যেও জানাশোনা রয়েছে। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) তদন্তে নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র বলছে, “দিহানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এই বন্ধুত্বের বিষয়ে তাদের দুই পরিবারের সদস্যরাও অবগত। মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলে পড়া ওই কিশোরীর সঙ্গে দিহানের পরিচয় হয় মেয়েটির এক বান্ধবীর মাধ্যমে। যা একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।”

ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউ মার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, “ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাসা রাজধানীর লেক সার্কাস এলাকায়। তার বাবা আব্দুর রব সরকার। তিন ভাইয়ের মধ্যে দিহান সবার ছোট। দিহান ও কিশোরীর মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। দিহান ওই কিশোরীর চেয়ে দুই বছরের বড়। গত বছর ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে 'ও' লেভেল শেষ করে দিহান। এখন সে জিইডি’র প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন (ডিসি) বলেন, ‘দিহান ও খুন হওয়া কিশোরীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে তাদের কিছু ছবি পোস্ট করা আছে। ওই কিশোরীর ও নিজের পরিবারের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করেছে দিহান।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের পোস্টগুলো দেখার পর, দিহানের সব কথা অবিশ্বাস করারও সুযোগ নেই।’

আদালতে পুলিশ হেফাজতে দিহান
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ‘ঘটনার দিন দুপুরে ধর্ষণের শিকার কিশোরীটি অচেতন হয়ে পড়লে দিহান প্রথমে কিশোরীর মাকে ফোন করে। তখন কিশোরীর মা তাকে দিহান বলেই সম্বোধন করেন। দিহান যখন কিশোরীর অচেতন হওয়ার কথা জানায়, তখন কিশোরীর মা জানতে চান তারা কোথায় আছে। দিহান উত্তরে নিজের বাসার কথা বললে কিশোরীর মা বলেন, ‘বাসায় আর কে কে আছেন?’ দিহানের উত্তরে তিনি আবার বলেন, ‘ফাঁকা বাসায় তোমরা দুজন কী করছো?’

ওই দিনই বিকালে দিহানের বাবা সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরীর পরিবার। কিন্তু ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে দিহানের পরিবারের কারোর সঙ্গেই তাদের যোগাযোগ হয়নি।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। অভিযুক্তের মা ও দুই ভাইয়ের উপস্থিতিতেই বাসা থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি।’ অন্যদিকে দুই পরিবারের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিবারের কেউ মন্তব্য করতে চাননি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিশোরীটির মৃত্যু হয়। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘ডিএনএ প্রোফাইলিং-এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কিনা, সেটা জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের জন্য সপ্তাহ দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে।’

মামলার এজাহারে যা আছে

মামলার এজাহারে মেয়েটির বাবা উল্লেখ করেছেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আমার স্ত্রী অফিসে এবং আমি সকাল সাড়ে ৯টায় ব্যবসার কাজে বের হয়ে যাই। পরে আমার মেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মাকে ফোন দিয়ে বলে সে কোচিংয়ের কাগজপত্র আনতে বাইরে যাচ্ছে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে দিহান আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলে আমার মেয়ে তার বাসায় গিয়েছিল। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়েছে। এ কথা শুনে আমার স্ত্রী দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে হাসপাতালে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে জানতে পারে আমাদের মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি দিহান আমার মেয়েকে প্রেমে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। দিহান ফাঁকা বাসায় আমার মেয়েকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে সে অচেতন হয়ে যায়। পরে ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দিহান চালাকি করে আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাতে কলাবাগান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় খুনসহ ধর্ষণ মামলা করেন মেয়েটির বাবা। এ আইনে বলা আছে, ‘যদি কোনও ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ধর্ষণ পরবর্তী অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে (ধর্ষণের শিকার) নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এর অতিরিক্ত কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।’ তথ্য সূত্র:বাংলা ট্রিবিউন

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
বার ও রেস্টুরেন্টে তরুণ-তরুণীদের যাতায়াতে কড়া নজরদারি

বার ও রেস্টুরেন্টে তরুণ-তরুণীদের যাতায়াতে কড়া নজরদারি

সরকারি চাকরিজীবীর ৭ লাখ টাকা যেভাবে হাতিয়ে নিলেন তামান্না

সরকারি চাকরিজীবীর ৭ লাখ টাকা যেভাবে হাতিয়ে নিলেন তামান্না

২১ টাকায় মোটরসাইকেল!

২১ টাকায় মোটরসাইকেল!

ধর্ষণের সময় রক্ত ক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, কে এই দিহান?

ধর্ষণের সময় রক্ত ক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, কে এই দিহান?

রাজধানীতে ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

রাজধানীতে ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

৩ নারীর অ্যাকাউন্টে শতশত কোটি টাকা

৩ নারীর অ্যাকাউন্টে শতশত কোটি টাকা