ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক অফিস সহকারী


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২০, ০৭:০৭ পিএম
শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক অফিস সহকারী

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক মো. হানিফ এখন কোটিপতি। জেলা ও বিভাগীয় শহরে রয়েছে তার তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি। প্রায় আড়াই যুগ ধরে একই কর্মস্থল দোয়ারাবাজারে বহাল তবিয়তে অবস্থানের সুবাদে রাতারাতি বদলে যায় তার ভাগ্যের চাকা। গত বুধবার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী হানিফই মূলত দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান নিয়ন্ত্রক। অনেকের কাছে তিনিই হাসপাতালের ছায়া টিএইচও হিসেবে পরিচিত। হাসপাতালের স্টাফসহ উপজেলাজুড়ে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন-ভাতার বিল তৈরি থেকে শুরু করে সব আর্থিক লেনদেন তার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও সুনামগঞ্জ ও সিলেটে রয়েছে তার বিস্তর সম্পদ। জেলা শহর সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১৯/১, আ/এ, বনানীপাড়ায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। বিভাগীয় শহর সিলেটেও একটি বিলাসবহুল বাসভবন রয়েছে তার। ২০১৬ সালে সিলেট নগরীর টুকেরবাজার নয়া খুররম খলায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়িটি ক্রয় করেছেন তিনি।

এছাড়া সুনামগঞ্জ সরকারি হাঁস প্রজনন কেন্দ্রের পাশে ও সিলেট নগরীতে প্রায় ৬ একর এবং নিজ এলাকা দোয়ারাবাজারের আজমপুর ও লক্ষীপুরে প্রায় ২০ একর জমির মালিক তিনি। ২০১৯ সালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের খান প্যালেসে তার জ্যেষ্ঠকন্যার বিয়েতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

এর মাসছয়েক পরেই তার একমাত্র পুত্রকে পড়াশোনার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডনে পাঠান। হানিফের তিন সন্তানের সবাইকে পড়াশোনা করান ব্যয়বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে।

অভিযোগ রয়েছে- সুনামগঞ্জ ও সিলেট শহরে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নামে-বেনামে লাখ লাখ টাকা জমা আছে তার। সিলেটে ক্রয় করা বাড়িটি আয়কর রিটার্নে জমা না দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ-সিলেটের এসব সম্পত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যাংক লোন কিংবা জিপি ফান্ড থেকে কোনো ঋণও গ্রহণ করেননি তিনি। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হয়ে কীভাবে তিনি এত টাকার মালিক, তা নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা ও একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, হাসপাতালসহ হানিফের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক পিছপা হন। কারণ তার এক নিকটাত্মীয় সিনিয়র সাংবাদিক হওয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেই তিনি ওই সিনিয়র সাংবাদিকের নাম বিক্রি করে পার পেয়ে যান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ জানান, হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় অফিস সহকারী হানিফকে আমি খুব কাছে থেকেই দেখেছি। চাকরির শুরুর দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চকবাজার থেকে হেঁটে এসে অফিস করতেন তিনি। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে হাসপাতালে একটি অসাধু সিন্ডিকেট তৈরি করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন তিনি।

টিএইচও থেকে শুরু করে ডাক্তার, নার্স সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করেন ওই হানিফ। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর যাতে পত্রিকায় না হয় সেটিও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। ঊর্ধ্বতন প্রশাসন থেকে সাংবাদিক পর্যন্ত ম্যানেজ করতে পারেন তিনি।

দোয়ারাবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীরপ্রতীক জানান, একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও কীভাবে এত টাকার মালিক তা রহস্যজনক। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানের মাধ্যমে আসল রহস্য উন্মোচন হবে বলে আশা করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মো. হানিফ তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সরকারি চাকরিজীবী। পারিবারিক সূত্রে আমরা পূর্ব থেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল। আমার ভাই-ভাতিজারা প্রবাসে থাকে। আমার সব সম্পদের আয়-ব্যয়ের হিসাব আছে। সিলেট-সুনামগঞ্জের বাসার আয়কর রিটার্নে জমা দেয়া আছে।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা জানান, হাসপাতালের অফিস সহকারী হানিফের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট পাঠাতে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শামস উদ্দিন বলেন, আমি দুই দিন ঢাকায় ছিলাম। দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব।

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক অফিস সহকারী

শহরে তিনটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক অফিস সহকারী

এক কেরানি এত টাকার মালিক!

এক কেরানি এত টাকার মালিক!

৪ শিশু মিলে এক শিশুকে ধর্ষণ, অতঃপর…

৪ শিশু মিলে এক শিশুকে ধর্ষণ, অতঃপর…

বন্ধ হচ্ছে না চিংড়িতে পুশ!

বন্ধ হচ্ছে না চিংড়িতে পুশ!

নিজের দুর্বিষহ জীবন ও লজ্জা ঠেলে উঠে দাঁড়াতে চান সেই নারী

নিজের দুর্বিষহ জীবন ও লজ্জা ঠেলে উঠে দাঁড়াতে চান সেই নারী

ভুয়া এনজিও করে ঋণের নামে ঠান্ডা মাথায় প্রতারণা করতেন পারভীন

ভুয়া এনজিও করে ঋণের নামে ঠান্ডা মাথায় প্রতারণা করতেন পারভীন