ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

ছেলের মারধরে অতিষ্ঠ মা থাকেন দরজা আটকে ঘরবন্দি


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০, ১০:৪১ এএম
ছেলের মারধরে অতিষ্ঠ মা থাকেন দরজা আটকে ঘরবন্দি

বিশ্ব মা দিবসেও এক মা তার ছেলের ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে দরজা বন্ধ করে ঘরবন্দি জীবনযাপন করছেন। বখে যাওয়া ছেলের মারধরে আহত ওই মা উপায় না পেয়ে কলাবাগান থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলাও করেছেন। তবে ছেলেকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

রাজধানীর কলাবাগান থানার গ্রিনরোড এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা মেয়ের নামে বরাদ্দ একটি সরকারি ডরমেটরিতে ছেলেকে নিয়ে থাকেন নুরুন্নাহার রুনু (৫১)। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। স্বামী কয়েকবছর আগে মারা গেছেন। মেয়ে লেখাপড়া শিখে ভালো চাকরি করলেও দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে লেখাপড়া করেনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে ছেলে মিল্লাত হোসেন (২৫) জড়িয়ে পড়েছে অপরাধ জগতে। নিয়মিত মাদক সেবন করে। মাদকের টাকার জন্য মাকে মারধর ও ঘরে ভাঙচুর করে।

৭ মে মধ্যরাতে মা নুরুন্নাহার রুনুকে মারধরের করে মিল্লাত। পরদিন দুপুরে কলাবাগান থানায় ছেলের নামে মামলা করেন মা। তিনি মামলায় অভিযোগ করেন, মিল্লাত অষ্টম শ্রেণির পর থেকে লেখাপড়ে ছেড়ে দেয়। সে বখে যায়। পাড়ার বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে মিশে মাদক সেবন করে। সে মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই ঘরে ভাঙচুর ও আমাকে মারধর করে। তাকে ভালো করার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। রিহ্যাবে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে ভালো করা যায়নি।

তিনি মামলায় অভিযোগ করেন, ৭ মে মধ্যরাতে মাদক কেনার টাকার জন্য সে প্রথমে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর আমাকে কাঠের একটি লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমি মাথায় এবং কানে আঘাত পাই। আমি মেঝেতে পরে গেলে আমাকে লাথি মেরে ঘর থেকে জিনিসপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ভবিষ্যতে মাদকের টাকা না পেলে সে আমাকে আবার জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছে।

নুরুন্নাহার রুনু বলেন, ৭/৮ বছর ধরে মিল্লাত খারাপ লাইনে চলে গেছে। ওর বাবা ২০১৭ সালে মারা যাওয়া পর সে আরও বেশি খারাপ হয়েছে। আগে কেবল গালিগালাজ করতো। বর্তমানে প্রায়ই মারধর করে। আমি এতোদিন হজম করেছি। কিন্তু গত ৭ মে রাতে আমি ভাবছি আমাকে খুন করে ফেলবে। আমাকে দুই ঘণ্টা জিম্মি করে পেটাতে থাকে। আমাকে বাথরুমেও যেতে দেয়নি। রাত পৌনে ১টার দিকে যখন পাশের ফ্ল্যাটের লাইট বন্ধ করে, তখন আমাকে বাথরুমে যেতে দেয়। এরপর আমি বাথরুম থেকে বের হয়ে দৌড়ে নিচে যাই। নিচ তলার ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিং বেল দেই, তারা অনেকক্ষণ পর দরজা খোলে। আমি তাদের পা-হাত ধরে তাদের কাছে আশ্রয় চাই। এরপর তারা আমাকে আশ্রয় দেয়। পুলিশ ডাকে। পুলিশ গিয়ে ওকে বাসা থেকে বের করে দেয়। কিন্তু আমি বাসায় গিয়ে দেখি আমার পেছনে সে আবার এসেছে। আমি ভয় পেয়ে চিৎকার দেই। তখন অন্য ফ্ল্যাটের লোক এসে ওকে বের করে দেয়।

তিনি বলেন, আমি সেদিন রাতে দোয়া পড়েছি, আর কান্না করেছি, আমি ভাবছি আমাকে মেরেই ফেলবে। আমি মৃত্যুর আগেই আজরাইল দেখেছি। ছেলে তার মাকে এভাবে মারতে পারে তা আমার বিশ্বাস হয় না। আমার কী অপরাধ। আমার কাছে যতক্ষণ টাকা থাকে, আমি দেই। আমি আর কোথায় টাকা পাবো?

তিনি কান্না করে বলেন, ‘এই পৃথিবীতে আমার এক ছেলে ও একমেয়ে ছাড়া কেউ নেই। সম্পত্তি নাই, টাকা নাই। কিন্তু আমার সেই ছেলেই আমাকে খুন করতে চায়!’

এ বিষয়ে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র বলেন, আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোনিউজ২৪/এন

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তার ভাইয়ের নয় কোটি টাকা পাচারের চেষ্টা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তার ভাইয়ের নয় কোটি টাকা পাচারের চেষ্টা

মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস করে ৫০ কোটি টাকা আয়!

মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস করে ৫০ কোটি টাকা আয়!

ঢাবি ছাত্রী তুর্ণার প্রতারক হয়ে ওঠার গল্প

ঢাবি ছাত্রী তুর্ণার প্রতারক হয়ে ওঠার গল্প

পিয়নের চাকরির জন্য ২৪ লাখ টাকা ঘুষ

পিয়নের চাকরির জন্য ২৪ লাখ টাকা ঘুষ

নিজের বাবাকেও পেটাতেন সাহেদ

নিজের বাবাকেও পেটাতেন সাহেদ

এসএসসি পাস করেই এমবিবিএস ডাক্তার, ভিজিট ১ হাজার টাকা

এসএসসি পাস করেই এমবিবিএস ডাক্তার, ভিজিট ১ হাজার টাকা