ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২০, ০৭:৪৪ পিএম
৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বাবাই তার দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন। নরসিংদীর বাহেরচরে চাঞ্চল্যকর ইলমা হত্যাকান্ডের পলাতক আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেফতারের পর সোমবার সিআইডি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায়।

বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইলমা খুন হন ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ। এই ঘটনায় বাদি হয়ে ইলমার বাবা আবদুল মোতালেব নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক (সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছিল। নরসিংদীর বাহের চরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে শিশু হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর বিনিময়ে তিনি ইলমার বাবা আবদুল মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। টাকার লোভে ইলমার বাবা মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন। এ পর্যন্ত ইলমার বাবা চারলাখ টাকাও পেয়েছেন। হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি মাসুম মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। মাসুম শিশু ইলমার ফুপাতো ভাই।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার নেতৃত্বে একটি দল নরসিংদীর মাধবদী থেকে ইলমার বাবা আবদুল মোতালিব, ফুপাত ভাই মাসুম মিয়া, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, মা মঙ্গলী বেগম ও মো. বাতেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর মাসুম মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম বলেন, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই রাতে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তাতে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ইলমার বাবাকে সন্তানের বিনিময়ে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেওয়া হয়। ওতেই রাজি হয়ে যান তিনি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই বাবুল বাড়ির পাশে নূরার দোকান থেকে তাকে জিনিসপত্র কিনতে পাঠান। বাড়ি ফেরার পথে এই দুলাভাই বাবুল ও ফুপাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত-আট জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় ইলমার বাবা পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। সিআইডি বলছে, এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইলমার মা ও জানতেন। মাসুম আরও বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের বাদ দিয়ে বাবা মোতালিব বাদী হয়ে বিরোধী পক্ষ ‘বাচ্চু’ গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইলমার বাবা হত্যাকাণ্ডের আগে টাকা দাবি করেছিলেন। পরে ওই টাকা পুরো পাননি।

শুধুমাত্র মাসুম মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে সন্তান হত্যার দায় বাবা–মায়ের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক হচ্ছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমার বাবা–মা মূল আসামির নাম এজাহারে উল্লেখই করেননি। এমনকি তদন্ত করার সময় ইলমার বাবা একেকবার একেকজনের নাম এজাহারভুক্ত করার আবদার নিয়ে এসেছেন। সন্তান হত্যার বিচার না চেয়ে, তিনি বারবার আসামির নাম বদলানোর অনুরোধ নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছেন। এ ছাড়া ইলমার সুরতহাল প্রতিবেদনে যেখানে যেখানে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, মাসুম ঠিক সে জায়গাগুলোরই উল্লেখ করেছে।

তদন্তে জানা যায়, নরসিংদী থানার বাহেরচরে শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ও ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার জন্য তানিয়াকে তোলা হয়েছিল মাসুমের ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে। পরে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে এসে তানিয়াকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, তার ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করতে শাহজাহানের অনুসারীরা ইলমাকে খুনের পরিকল্পনা করে।

গো নিউজ২৪/আই

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন