ঢাকা রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬

বাবা ডজন খানেক বহুতল বাড়ির মালিক, ছেলে এতিমখানার ছাত্র


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২০, ১২:১২ পিএম
বাবা ডজন খানেক বহুতল বাড়ির মালিক, ছেলে এতিমখানার ছাত্র

কি নেই তার। রাজধানীতে রয়েছে নিজ নামে ডজন খানেক বহুতল বাড়ি। ঢাকার উপকন্ঠে রয়েছে জমিসহ অঢেল সম্পদ। প্রাচ্যুর্যে ভরপুর এ ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য রয়েছে একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স।

ওই সব লাইসেন্সের বিপরীতে রয়েছে আধুনিক সব অস্ত্র। এক সময়ে বিএনপির ডাকসাইটের নেতা এখন রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়। রয়েছেন সুযোগের অপেক্ষায়….। তবে এখনো ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ কামিয়ে নিচ্ছেন দু’হাতে।

সুবিধাবাদি এ ব্যক্তির নাম আবদুল মোতালেব হোসেন মাসুম। যাকে সবাই চেনেন মাসুম চেয়ারম্যান হিসেবে। অর্থ-সন্মান সবই রয়েছে তার। শুধু নেই নিজের আত্ম সন্মানবোধ। এত সব প্রাচুর্য্যরে মালিক হয়েও তিনি নিজের ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন এতিমখানায়।

এ নিয়ে অনেকে বিব্রত হলেও চেয়ারম্যান মাসুম ছেলেকে ফ্রি পড়াতে পেরে নিজেকে ধণ্য ভাবেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবদুল মোতালেব হোসেন মাসুম ঢাকার আর কে মিশন রোডের বাসিন্দা। ওই রোডেই রয়েছে তার তিনটি বাড়ি, ১৯-২৫ ও ২৪ নম্বর বাড়ির মালিক তিনি।

তবে নিজে বসবাস করেন থার্ড লেনের ৩৭ নম্বর বাড়িটিতে। ধূর্ত প্রকৃতির এ ব্যক্তি জাতীয় পরিচয় পত্রে উল্লেখ করেছেন কেরানিগঞ্জের দোলেশ^র গ্রামের ৩৬ নম্বর বাড়ির ঠিকানা। ৭৫ বছর বয়সি এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

এর মধ্যে নারী নির্যাতন মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন। বর্তমানে নারী নির্যাতন মামলাসহ একাধিক চলমান মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের (৫৭৭/১৮) মামলার সূত্রমতে, নাজিম চেয়ারম্যান তার দ্বিতীয় স্ত্রী সূবর্ণার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে বেদম মারপিট করেন।

মাসুম চেয়ারম্যান উক্ত স্ত্রীকে নিয়ে আরকে মিশন রোডের ২৫ নম্বর বাড়িতে বসবাস করতেন দীর্ঘ দিন। গত বছর ওই বাড়ি থেকে তাকে কৌশলে নিয়ে যান দক্ষিন কেরাণিগঞ্জ সুভাঢ্যা মধ্যপাড়া খানবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন মাসুম চেয়ারম্যানের বাড়িতে। কিছুদিন থাকার পর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চেয়ারম্যান নিজের স্ত্রীকে সন্ত্রাসী দিয়ে বাড়ি ছাড়াতে ভয় দেখান।

পরে চেয়ারম্যান নিজেই স্ত্রীকে মারধর করে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। তার স্ত্রী এখন নাবালক পুত্র সন্তানসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মামলার বাদিনি ভ’ক্তভোগী সুবর্ণা বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করায় তিনি বিপাকে রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রায়ই তাকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। সূবর্ণা বলেন, তার স্বামীর এত সম্পদ থাকা সত্বেও নাবালক ছেলেকে মতিঝিলের জামি’আ দারুল উলুম মতিঝিলের মাদ্রাসায় (অবদা মাদ্রাসা) ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখানে তথ্য গোপন করে এতিমখানার ছাত্র হিসেবে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। সত্যতা স্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরাও।

এদিকে সূবর্ণা বলেন, তিনি চেয়ারম্যানের ভয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাসুম চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। দৈনিক আমাদের কণ্ঠ

গোনিউজ২৪/এন

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন