ঢাকা রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬

শ্যালক-শ্যালিকা আর ছেলের বউকে নিয়ে ভুয়া ‘আশার আলো’


গো নিউজ২৪ | গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২০, ১১:৩৩ এএম
শ্যালক-শ্যালিকা আর ছেলের বউকে নিয়ে ভুয়া ‘আশার আলো’

নিজে চেয়ারম্যান, দুই ছেলে ও ছেলের বৌ নির্বাহী পরিচালক, স্ত্রী সহসভাপতি আর শ্যালক-শ্যালিকা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। এমনই কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা পাওয়া গেছে সেই ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজুর গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে অবস্থিত ‘আশার আলো প্রভাতি সংস্থা’য়।

অসহায় গরিব মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে কাউকে যেন কৈফিয়ত দিতে না হয় তাই একই পরিবারের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল সংস্থটি।

সমাজ সেবা অধিদফতর থেকে সংস্থাটি সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে সংস্থার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশের পর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে এমনই নতুন নতুন তথ্য। জাগো নিউজে এ সংস্থা নিয়ে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইতোমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু ও কর্মকতা-কর্মচারীরা। এর আগেও ‘মন্ত্রী, এমপি, ডিসি, এসপি সব আমার নিয়ন্ত্রণে চলে’ এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হন এই ব্যক্তি।

সরেজমিনে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে অবস্থিত ‘আশার আলো প্রভাতি সংস্থা’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ঘুড়িদহ গ্রামের বাসিন্দা গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকারের ছোট ভাই ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু।

আর এই সংস্থার নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তার ছেলে এএসএম আশরাফুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম সাগর ও ছেলের বৌ শারমিন হাফিজ সম্পা। সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্ত্রী আফরোজা বেগম। এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শ্যালক নূর মোহাম্মদ সিদ্দিক ও শ্যালিকা ডা. রুপসা সাম্মু।

সাঘাটা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আবু সুফিয়ান জানান, আশার আলো প্রভাতি সংস্থার কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা এই সংস্থার প্রতারণার বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন জানান, এ সংস্থার চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আশার আলো প্রভাতী সংস্থার চেয়ারম্যান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম সাজু জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এক লাখ অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ, চাল, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের নামে ভর্তি ফি বাবদ ৫২০ টাকা এবং মাসিক সঞ্চয় হিসেবে ৫০ টাকা কল্যাণী ভাতার জামানত ৬ হাজার টাকা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ভাতার কথা বলে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

সমিতিতে ভর্তি ও সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহে কয়েকশ কর্মী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করছে। প্রতি কর্মীকে মাসে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতনে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা উত্তোলনের টার্গেট দিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে আশার আলো প্রভাতী সংস্থার এক কর্মী সমাবেশে ডা. শফিকুল বলেন, ‘গাইবান্ধার ডিবি (পুলিশ) কন, ওসি কন, এসপি কন, ডিসিসহ যত কিছুই কন সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে। সাত উপজেলায় এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান যত কিছুই থাক না কেন আমার চেয়ে বড় মাইকেল কেউ নেই। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম কোনো এমপি-মন্ত্রী যদি আমার সঙ্গে টিকে থাকতে পারে তাহলে সংস্থা থেকে পদত্যাগ করব।’

তার এই বক্তব্য নিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর আলোচনায় আসে ডা. শফিকুল ইসলাম সাজু ও তার আশার আলো প্রভাতী সংস্থা। কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্তপূর্বক সমাজ সেবা থেকে সংস্থাটি সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এখন সংস্থার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

গোনিউজ২৪/এন

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন