ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

পাঠাও চালকের হাত-পা চেপে ধরে দুজন, গলায় ছুরি চালায় অন্যজন


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ০৬:৩৫ পিএম আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ১২:৩৫ পিএম
পাঠাও চালকের হাত-পা চেপে ধরে দুজন, গলায় ছুরি চালায় অন্যজন

রাজধানীর আশুলিয়া থানার কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর পাঠাও রাইড চালক শামীম ব্যাপারীকে (২৮) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)।

সোমবার ভোরে মামুনুর রশিদ (২২), মো. মাহবুবুর রহমান (২০) ও মো. মোমিন মিয়া (২০) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

র‌্যাব জানায়, শামীমের মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটায় তারা। মামুন ও মোমিন হাত চেপে ধরে, শামীমের গলায় ছুরি চালায় মাহবুব।

র‍্যাব-১ অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে একটি আভিযানিক দল রাজধানীর আশুলিয়ার জামগড়াস্থ রুপায়ন মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার শামীম ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা থানায়। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। স্ত্রীসহ খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় তিনি বসবাস করতেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে নিজে একটি মোটরসাইকেল কিনে অ্যাপভিত্তিক রাউড শেয়ারের কাজ শুরু করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর রামপুরার ফরাজি হাসপাতালের সামনে থেকে যাত্রী নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হন শামীম। কিন্তু রাত গভীর হলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার মোবাইলে কল দেয়। রাত ১১টায় তারা টেলিভিশনের খবরে শামীমের নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিন আসামি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে। কিন্তু তারা টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি ছিনতাই করে না। শুধুমাত্র মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন ছিনতাই করে থাকে। এ জন্য তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। কখনো সাধারণ যাত্রীবেশে আবার কখনো বিয়ের জন্য গাড়ি ভাড়া করার কথা বলে ছিনতাই করে থাকে।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, এ চক্রের সদস্যরা দিনের বেলায় নামে মাত্র বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে তারা ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী হয়ে ওঠে। অধিকাংশ সময় ছিনতাই শেষে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা। যাতে করে তারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারে বা আক্রমণের শিকার না হয়।

গ্রেফতার মামুনুর রশিদ জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- প্রায় ৫ বছর ধরে সে পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ঘটনার আগের দিন রাতে শামীমের মোটরসাইকেলে করে গাবতলী থেকে আশুলিয়া যায় এবং তাকে টার্গেট করে। ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে শামীমের সঙ্গে যোগযোগ করে। তাকে গাবতলী হতে আশুলিয়ায় পৌঁছে দিতে বলে।

গাবতলী হতে আশুলিয়ার দিকে রওনা করে রাত ৯টায় সেখানে পৌঁছায় তারা। পরে সেখানে শামীমকে সিগারেট পান করার কথা বলে কৌশলে পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মাহবুব ও মোমিন আকস্মাৎ শামীমের ওপর আক্রমণ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মাহবুব জানিয়েছে, জামগড়া এলাকায় তার একটি চায়ের দোকান আছে। সেখানে বসেই সব পরিকল্পনা হয়। ঘটনার রাতে প্রথমে সে ছুরি দিয়ে শামীমকে আঘাত করে। পরে মামুন ও মোমিন হাত চেপে ধরলে শামীমের গলায় ছুরি চালায় সে।

গ্রেফতার আসামি মোমিন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ১১ বছর ধরে আশুলিয়া এলাকায় বসবাস করে সে, একজন গার্মেন্টসকর্মী। চক্রের সদস্য হিসেবে ছিনতাইয়ের গাড়ি বিক্রির কাজ করে সে। ছোট ছোট কাজের সুবিধার জন্য তারা তিন সদস্যই কাজ করে বলে জানিয়েছে মোমিন। শামীম হত্যায় তার দুই পা চেপে ধরে সহায়তা করে বলেও স্বীকার করেছে সে।

গো নিউজ২৪/আই

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

কালেমা পড়ে নে, তোকে এনকাউন্টার দেয়া হবে

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

স্বর্ণচুরি চক্রের মূল হোতা শ্রমিক লীগ নেত্রী মুক্তা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

অর্ধশত নারীকে ধর্ষণ ও কথিত স্ত্রীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

যেভাবে ৩ কোটি টাকা মেরে দিলেন ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন

ছাত্রদল নেত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে কম্পাস দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন