ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

মির্জাপুরে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, কেজি প্রতি ৩-৫ টাকা হারে ঘুষ


গো নিউজ২৪ | শামসুল ইসলাম সহিদ, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল )প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মে ২২, ২০১৯, ০৭:৪২ পিএম
মির্জাপুরে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, কেজি প্রতি ৩-৫ টাকা হারে ঘুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে চাতাল কলের মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাল সংগ্রহ করছেন। এজন্য গুদামের কর্মকর্তাদের কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা হারে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে চাতাল কল মালিকেরা জানিয়েছেন। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪৮২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার কথা। গত ৬ মে উপজেলার সাতজন চাতালকল মালিক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চুক্তিমতে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৩১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে। এজন্য সরকার মির্জাপুর থেকে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা চালের দাম বেধে দিয়েছে। 

সূত্রটি জানায়, গত ১৩ মে থেকে মির্জাপুরে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। নিয়মানুযায়ী চাতাল কল মালিকেরা স্থানীয়ভাবে নতুন চাল সংগ্রহ করে তা সরকারকে দিবেন। কিন্তু খাদ্য গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের দিয়ে জামালপুর, শেরপুর, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাকযোগে রাতের আধাঁরে চাল গুদামে ঢুকাচ্ছেন। আর কাগজে কলমে চুক্তিবদ্ধ মিলারদের নামে চাল সরবরাহ হচ্ছে বলে উল্লেখ করছেন। গুদামে তরিঘরি চাল ঢুকানোর কাজে কর্মরত শ্রমিকদের দায়িত্বে থাকা একটি সিন্ডকেট যুক্ত বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, মিলারদের সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চাল কোন জায়গায় থেকে আসে তার তদারকি করেন সাবইন্সপেক্টর কায়েস। তিনি মিলে গিয়ে চাল দেখে রিপোর্ট দিলে গুডাউনে চাল নেয়া হয়। চাল গুদামে মজুত করার কাজ হ্যান্ডেলিং করেন গুদামের ডিলারদের একটি অংশ। 

তিনি আরো বলেন, ২৩ তারিখের মধ্যে ৬৩১ টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এজন্য চাতালের মালিকেরা আগের ধান থাকলেও সেই ধান চাতালে শুকিয়ে চাল দিচ্ছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৭৭.২০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে খাদ্য পরিদর্শক জানান। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুরে এ পর্যন্ত ৪০ ভাগ বুরো ধান কাটা হয়েছে। কিন্তু খাদ্যগুদাম এরই মধ্যে লক্ষমাত্রার অর্ধেক চাল সংগ্রহ করে ফেলেছে। এটা কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন যাবত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের কর্মকান্ড চলে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুঠোফোনে কাজী রাইচ মিল নামক চাতালকল মালিক কাজী ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘আমারে প্রথমে ৯০ টন টার্গেট দিছিল। আমার চাল দেয়া হইছে। আমার মিলে থিক্যা দিলে সময় কোলাবো না। চাল ভাঙা বেরোবে। এজন্য আমি জামালপুর থেকে চাল আনছি। আর যে যেনে থিক্যা পারছে আনছে। কেউ কালীহাতি, কেউ বগুড়া। আর গুদামে চাল ঢুকাতে দুই তিন টাকা কইর্যা দিওন লাগছে।’

চাতালকল মালিকদের দেয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত গুদামে সংগৃহীত ৫৭৭.২০০ মেট্রিক টন চাল কেজি প্রতি ৩ টাকা হারে বাবদ ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র মতে কেজি প্রতি ৫ টাকা হারে ২৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে সহাকারি খাদ্য পরিদর্শক কায়েসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ চাল স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে। চাল না পেলে আবেদন দিলে কেনার সময় বাড়ানো হবে। তাছাড়া চাল সংগ্রহে কোন অনিয়ম হলে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

গো নিউজ২৪/আই

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা 

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা 

ভাড়াটিয়ার ছেলেকে লেদ মেশিনে ফেলে হত্যা

ভাড়াটিয়ার ছেলেকে লেদ মেশিনে ফেলে হত্যা

রেস্টুরেন্টে অসামাজিক কাজ, ৩ তরুণীসহ আটক ১১

রেস্টুরেন্টে অসামাজিক কাজ, ৩ তরুণীসহ আটক ১১

ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খালে, যাত্রীদের মাল নিয়ে যাচ্ছে চোর

ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে খালে, যাত্রীদের মাল নিয়ে যাচ্ছে চোর

মারা যাওয়ার পরেও হাসপাতালে রেখে বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

মারা যাওয়ার পরেও হাসপাতালে রেখে বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

দিনদুপুরে বন্দুকযুদ্ধ, বাঁশখালীতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

দিনদুপুরে বন্দুকযুদ্ধ, বাঁশখালীতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু