ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

হেলপারকে গাড়ি চালাতে দিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে ড্রাইভার 


গো নিউজ২৪ | নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত: মে ১১, ২০১৯, ০৪:০২ পিএম আপডেট: মে ১১, ২০১৯, ১০:০২ এএম
হেলপারকে গাড়ি চালাতে দিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে ড্রাইভার 

কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে স্বর্ণলতা বাসের ড্রাইভার নুরুজ্জামান ও হেলপার লালন মিয়া।

তাদের কথামতো স্বর্ণলতা পরিবহনের যে বাসটিতে ঘটনা ঘটে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪২৭৪) তা গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটির তিন জায়গায় ছোপ ছোপ রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।

প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে অন্য একটি বাসের কথা বলেছিল আসামিরা। সেই বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬২৮৫) আগেই আটক করেছিল পুলিশ। সেই বাসে ধর্ষণ বা হত্যার কোনও আলামত পায়নি তারা। এরপরই ড্রাইভার নুরুজ্জামান ও হেলপার লালনের কথায় পুলিশের সন্দেহ হয়। রিমান্ডের শুরুতে এলোমেলো কথা বলে আসামিরা। পরে তাদের আরও চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘুমাতে না দেওয়ার কৌশল কাজে লাগে। প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়ে তারা অপরাধ স্বীকার করতে শুরু করে। আসামিদের কথামতো উদ্ধার করা হয়েছে তানিয়ার ব্যাগের কাপড়-চোপড়, তানিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও তানিয়ার সঙ্গে থাকা টেলিভিশন।

চলন্ত বাসের দরজা জানালা লাগিয়ে তানিয়াকে ধর্ষণ করে তারা। হেলপারকে গাড়ি চালাতে দিয়ে প্রথমে ড্রাইভার তাকে ধর্ষণ করে। এরপর আরও দুই জন ধর্ষণ করে তাকে। তানিয়া নিজেকে বাঁচাতে সজোরে তাদের কিল ঘুষিও মারে। ধর্ষণের পর তানিয়াকে গলা টিপে বা অন্য কোনও উপায়ে হত্যা করতে চেয়েছিল ধর্ষণকারীরা। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা।

ধর্ষণ ও হত্যার পর ধর্ষণকারীরা বিষয়টি সড়ক দুর্ঘটনা প্রমান করতে নাটক সাজিয়েছিল। ধর্ষণের পর তানিয়াকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার পর ধর্ষকরা নিজেরাই আবার ঘটনাস্থলে যায়। 

সেখানে মেয়েটিকে পরে থাকতে দেখে অনেক স্থানীয় মানুষও এগিয়ে আসে। কিন্তু ধর্ষকরা স্থানীয়দের জানিয়েছিল এয়ার ফোনে গান শুনতে শুনতে মেয়েটি বাস থেকে পড়ে গেছে, আমরাই হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তাদের কথা বিশ্বাসও করেছিল স্থানীরা। পরে অচেতন অবস্থায় তানিয়াকে পিরিজপুর বাজারের সততা ফার্মেসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফার্মেসি থেকে মেয়েটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে স্বর্ণলতা বাসের স্টাফ আল আল আমিন ও রফিকে দিয়ে কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় তারা। এরপর তানিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার বর্ণনা দেয় ড্রাইভার ও হেলপার। হাসপাতালের আশপাশ থেকে রফিককে গ্রেফতার করলেও পালিয়ে যায় আল আমিন।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ময়নাতদন্তে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা ময়নাতদন্তের সময় সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখেছি। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। ধর্ষণের পর তার মাথার পেছনে প্রচণ্ডভাবে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। মাথার খুলির পেছনের অংশ দুই ভাগ হয়ে গেছে। মাথার ভেতর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এমন আঘাতের পর সঙ্গে সঙ্গে মারা যাওয়ার কথা। যদি সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু নিশ্চিত না হয় তবে সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ নামক বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর মাথার পেছনে আঘাত করে হত্যা করা হয়। তিনি কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তানিয়া ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের কল্যাণপুর ক্যাম্পাসে সেবিকা পদে কর্মরত ছিলেন। সোমবার (৬ মে) রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়া নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় তানিয়া ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন।


গো নিউজ২৪/আই

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
নবজাতক বিক্রির চেষ্টা, আটক ৪

নবজাতক বিক্রির চেষ্টা, আটক ৪

নার্স হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া      

নার্স হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া      

প্রেমের ফাঁদে পড়ে সেমন্তির আত্মহত্যা  

প্রেমের ফাঁদে পড়ে সেমন্তির আত্মহত্যা  

১৬ বছর ধরে ধর্ষণ করছে বাবা, পিল খাইয়েছে মা!

১৬ বছর ধরে ধর্ষণ করছে বাবা, পিল খাইয়েছে মা!

বিজিবি পরিচয়ে বিয়ে করতে এসে ধরা

বিজিবি পরিচয়ে বিয়ে করতে এসে ধরা

৯৯৯-এ কল দেওয়ায় যাত্রীকে রড দিয়ে পিটুনি

৯৯৯-এ কল দেওয়ায় যাত্রীকে রড দিয়ে পিটুনি