ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫

ডাক্তারের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া, স্বামীকে কেটে শত টুকরো


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯, ০৬:১৯ পিএম আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯, ১২:১৯ পিএম
ডাক্তারের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া, স্বামীকে কেটে শত টুকরো

একজন চিকিৎসক খুব ঠান্ডা মাথায় শল্যচিকিৎসায় ব্যবহৃত চাকু দিয়ে কেটে ফেললেন তার গাড়িচালকের গলা। এরপর অপারেশনে ব্যবহৃত করাত দিয়ে দেহের বাকি অংশ কয়েক শত টুকরা করলেন। সেগুলো এসিড দিয়ে গলিয়ে ফেললেন। এ কাজ করতে গিয়ে বার বার তিনি বাসার ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ান। প্রতিবেশীরা তাকে দেখতে পায়। তারা দেখতে পায়, তিনি ঘামছেন। তার শরীরে রক্তের দাগ। তাদের সন্দেহ হয়।
তারা ফোন দেন পুলিশে। 

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গত সোমবার রাতে গ্রেফতার করে ওই ডাক্তারকে। তার নাম ডা. সুনীল মান্ত্রি। এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ভুপালে।

পুলিশ বলেছে, সুনীল মান্ত্রি একজন সরকারি ডাক্তার। তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইতারসি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে। গাড়িচালক বীরেন্দ্র পাচোরির সন্দেহ ছিল যে, তার স্ত্রীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক আছে ডা. সুনীল মান্ত্রির। এ জন্য ওই গাড়িচালক মাঝে মাঝেই তার সঙ্গে বিবাদে, মারাত্মক কলহ বাধিয়ে দিতো। সেই ক্ষোভ থেকেই গাড়িচালক বীরেন্দ্রকে হত্যা করেছেন ওই ডাক্তার।

তদন্তে দেখা গেছে, ডা. সুনীল মান্ত্রি খুব ঠান্ডা মাথায় ওই খুন করেছেন। এ জন্য তিনি ১০০ লিটার এসিড জড়ো করেছিলেন। বীরেন্দ্র পাচোরির গলা কাটার আগে ওষুধ প্রয়োগ করে তাকে অচেতন করে ফেলেন। বাথরুমে নিয়ে তার দেহকে টুকরো টুকরো করতে সময় লাগান তিন ঘন্টা। 
পুলিশ ওই বাসায় জমা করে রাখা এডিসসহ ড্রাম জব্দ করেছে। উদ্ধার করেছে গাড়িচালকের দেহের খন্ডিত কমপক্ষে দুই ডজন টুকরো। এর মধ্যে রয়েছে মাথাও। 

হোসাঙ্গাবাদের এসপি অরবিন্দ সাক্সেনা বলেন, ওই ড্রামের মধ্যে শরীরের এসব অংশ ভাসছিল। ডা. সুনীল মান্ত্রির স্ত্রী একটি বিউটি পার্লার চালান। সেখানে কাজ করেন বীরেন্দ্র পাচোরির স্ত্রী। 

ওদিকে ২০১৮ সালের এপ্রিলে মারা যান ডা. সুনীল মান্ত্রির স্ত্রী। ওই বিউটি পার্লারটি তিন মাসের বেশি অব্যাহতভাবে চালিয়ে নিতে থাকেন বীরেন্দ্রর স্ত্রী। 

ডা. সুনীল মান্ত্রি বলেন, তার গাড়িচালক বীরেন্দ্র তার সঙ্গে মাঝে মাঝেই ঝগড়ায় লিপ্ত হতো। সন্দেহ ছিল তার স্ত্রীর সঙ্গে আমার অবৈধ সম্পর্ক আছে। দু’জনের মধ্যে যখন এমন সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে তখন গত সোমবার দাঁতে ব্যথা নিয়ে ডা. সুনীল মান্ত্রির কাছে যান বীরেন্দ্র। এ সময় তাকে ডা. সুনীল মান্ত্রি বলেন যে, তাকে একটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে। এ কথা বলে তিনি বীরেন্দ্রকে একটি ইঞ্জেকশন দেন। এতে বীরেন্দ্র অচেতন হয়ে পড়েন। এরপরই অপারেশনে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে বীরেন্দ্রর গলা কাটেন ডা. সুনীল মান্ত্রি। মৃতদেহ টেনে নিয়ে যান দ্বিতীয় তলার বাথরুমে। সেখানে রাত ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত ওই দেহ কেটে টুকরো টুকরো করতে থাকেন।

ডা. সুনীল মান্ত্রির বাড়ি আনন্দনগরে ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায়। তিনি বীরেন্দ্রর দেহ যখন টুকরো টুকরো করেন তখন বার বার ব্যালকনিতে যান। এ সময় প্রতিবেশীরা তাকে বেশ বিপর্যস্ত দেখতে পান। তিনি ঘামছিলেন। ঘন ঘন বারান্দায় যাচ্ছিলেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ তার শরীরে রক্তের দাগ দেখতে পান। তারাই খবর দেন পুলিশে।

এসপি সাক্সেনা বলেন, খবর পেয়ে আমাদের টিম পাঠাই ঘটনাস্থলে। পুলিশ দেখে ভড়কে যান ডা. সুনীল মান্ত্রি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনিই আমাদের টিমকে ওই ড্রাম দেখিয়ে দেন। তা ভর্তি ছিল এসিড। আর তার ভিতর ছিল বীরেন্দ্রর কর্তিত দেহাংশ।

গো নিউজ২৪/আই

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
নটরডেমের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় তরুণী আটক

নটরডেমের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় তরুণী আটক

র‌্যাবের হাতে ধরা ভুয়া পুলিশ

র‌্যাবের হাতে ধরা ভুয়া পুলিশ

পৌরসভার সুইপারও কোটিপতি

পৌরসভার সুইপারও কোটিপতি

মিতুকে ফের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ

মিতুকে ফের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ

ব্রেকআপ না মানায় প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা করলো প্রেমিকা

ব্রেকআপ না মানায় প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা করলো প্রেমিকা

এবার পিডিবির সিবিএ সভাপতির কাছ থেকে অবৈধ গাড়ি জব্দ

এবার পিডিবির সিবিএ সভাপতির কাছ থেকে অবৈধ গাড়ি জব্দ