ঢাকা রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১

মামা, মামি ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করলো ভাগনে


গো নিউজ২৪ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম
মামা, মামি ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করলো ভাগনে

ভাগনে রাজীব কুমার ভৌমিকের (৩৫) সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল মামা বিকাশ সরকারের (৪৫)। এর জের ধরেই শুরু হয় মনোমালিন্য। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মামার বাসায় যান ভাগনে রাজীব। এরপর একে একে মামাতো বোন, মামি ও মামাকে হত্যা করেন রাজীব।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস কনফারেন্সে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মন্ডল।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা থেকে বিকাশের ভাগনে রাজীব কুমার ভৌমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজীব সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ ও নিহত বিকাশের বড় বোন প্রমীলা রানির ছেলে। আগের দিন যখন বিকাশ এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের খোঁজ মিলছিল না তখন তার মাসতুতো ভাই ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রিপোর্ট করতে থানাতেও যান রাজীব।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজীব কুমার ভৌমিকের বাবা সরকারি চাকরি করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার পেনশনের টাকা দিয়ে ২০২১ সালে মামা বিকাশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে খাদ্যশস্য কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হন রাজীব। তখন বিকাশ চন্দ্র সরকার তার ভাগনে রাজীর কুমার ভৌমিককে ব্যবসার পুঁজি হিসেবে ২০ লাখ টাকা দেন। এরপর ব্যবসা চলমান থাকাকালীন রাজীব কুমার ভৌমিক তার মামাকে বিভিন্ন ধাপে ব্যবসার লভ্যাংশসহ প্রায় ২৬ লাখ টাকা ফেরত দিলেও চলতি বছর এসে রাজীবের কাছে তার মামা বিকাশ চন্দ্র সরকার আরও ৩৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ জানুয়ারি দাবিকৃত টাকা ৭-৮ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার জন্য ভাগনে রাজীবকে অনেক চাপ দেন বিকাশ চন্দ্র সরকার। এমনকি টাকার জন্য রাজীবের মাকেও ফোনে অনেক বকাবকি করেন বিকাশ। রাজীব টাকা ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং মামার বকাবকিতে মনঃকষ্ট পেয়ে তার মামাসহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

এরপর গত শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে মামাকে ফোন করে পাওনা টাকা নিয়ে বাসায় যেতে চান রাজীব। বিকাশ চন্দ্র সরকার তাড়াশ উপজেলার বাইরে থাকায় তার ভাগনেকে টাকা নিয়ে সরাসরি তার তাড়াশের বাসায় গিয়ে মামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাসাতেই থাকতে বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, রাজীব যখন বাসায় যান তখন তার মামি সন্ধ্যাপূজা করছিলেন। রাজীব বাসায় তার মামার অনুপস্থিতির সুযোগে তার মামি এবং মামাতো বোন পারমিতা সরকার তুষিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। একপর্যায়ে রাজীবকে কফি খাওয়ানোর জন্য তার মামি পূজা শেষে বাসার নিচে দোকানে কফির প্যাকেট কিনতে গেলে রাজীব ব্যাগে করে রাস্তা থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে কিনে আনা লোহার রড দিয়ে তার মামাতো বোনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তুষি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যে তার মামি কফি কিনে বাসায় প্রবেশ করলে মামিকেও একইভাবে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন রাজীব। মামি এবং মামাতো বোন তুষিকে মারধরের পর রাজীব চলে যেতে চান। কিন্তু এর মধ্যেই তার মামা বাসায় ঢুকলে মামাকেও প্রথমে রড দিয়ে আঘাত করেন রাজীব।

এরপর তার মামাকে গলাকেটে হত্যা নিশ্চিতের পর মরদেহ টেনে বেডরুমে নিয়ে যান। এর মধ্যে তার মামি ও মামাতো বোনের গোঙানির শব্দ পেলে তাদেরকেও গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে বাইরে তালা দিয়ে চলে যান রাজীব। যাওয়ার পথে তিনি একটি পুকুরে লোহার রড ফেলে দেন এবং রক্তমাখা হাসুয়াসহ ব্যাগটি নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমরা বিকাশের ফোনের একটি কল রেকর্ড থেকে প্রথম সূত্র পাই। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পর রাজীবকে গ্রেপ্তার করি। এরপর রাজীব আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তবে এটাই সত্য যে রাজীব একাই তিনজনকে হত্যা করে। এরপরও আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করছি। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রেস কনফারেন্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সামিউল আলম, উল্লাপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অমৃত কুমার সূত্রধর, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ওসি জুলহাজ উদ্দীন, তাড়াশ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাড়াশ পৌর শহরের বারোয়ারি বটতলা এলাকার কালিচরণ সরকারের ছেলে বিকাশ সরকার, তার স্ত্রী স্বর্ণা রানি সরকার (৪০) ও মেয়ে তাড়াশ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পারমিতা সরকার তুষির (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে স্বজনরা দুই দিন যাবত তাদের খোঁজ না পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘরের তালা ভেঙে মেঝেতে ও বিছানায় তাদের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত বিকাশ সরকার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তাড়াশ উপজেলা শাখার কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। বিকাশরা দুই ভাই ও পাঁচ বোন। বিকাশ সবার ছোট ছিলেন।

অপরাধ চিত্র বিভাগের আরো খবর
মামা, মামি ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করলো ভাগনে

মামা, মামি ও মামাতো বোনকে গলা কেটে হত্যা করলো ভাগনে

বিএনপির সমাবেশে সংবাদকর্মীরা হামলার শিকার

বিএনপির সমাবেশে সংবাদকর্মীরা হামলার শিকার

এমটিএফই প্রতারক মাসুদকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, নেওয়া হবে ইন্টারপোলের সহায়তা

এমটিএফই প্রতারক মাসুদকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, নেওয়া হবে ইন্টারপোলের সহায়তা

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশনের খসড়া প্রস্তুত’

‘বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের চিহ্নিত করতে কমিশনের খসড়া প্রস্তুত’

কিশোরী নির্যাতন করে যুব মহিলা লীগ নেত্রী মিশু তিন দিনের রিমান্ডে

কিশোরী নির্যাতন করে যুব মহিলা লীগ নেত্রী মিশু তিন দিনের রিমান্ডে

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই যুদ্ধাপরাধী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই যুদ্ধাপরাধী গ্রেপ্তার