ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

এক রাস্তাতেই অভাগা চার সেতু


গো নিউজ২৪ | ময়মনসিংহ প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০, ০২:১৯ পিএম আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২০, ০২:২৩ পিএম
এক রাস্তাতেই অভাগা চার সেতু

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে একটি বিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে চারটি সেতু। সেতুগুলো ব্যবহার করার মতো রাস্তা না থাকায় নির্মাণের ১৫ বছরেও কাজে আসেনি এগুলো।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নড়াইল ইউনিয়নের শিবধরা বিল ও ধলিকুড়ি বিলের মাঝখানে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ইউএসএআইডি দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের অর্থায়নে এই চারটি সেতু তৈরি করা হয়। নির্মিত এসব সেতুর একটি প্রায় ৬৩ ফুট দীর্ঘ। বাকি তিনটির প্রতিটিই ৪৫ ফুট দীর্ঘ।

স্থানীয়রা জানান, নড়াইল ইউনিয়নের পূর্ব নড়াইল থেকে কাওয়ালিজান গ্রাম ও আশপাশের ৫ থেকে ৬টি গ্রামের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার জন্য এই ব্রিজগুলো তৈরি করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন সেতুগুলো নির্মাণ করলেও এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও রাস্তা নির্মাণ করার কথা ছিল ইউনিয়ন পরিষদের। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ আদৌ তা করেনি।

পূর্ব নড়াইল গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন ডালী বলেন, চারটি সেতু তৈরি করা হলেও কোনো রাস্তা না করায় সেগুলো দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। বর্ষাকালে ব্রিজগুলো তলিয়ে গেলেও খরার সময় সেগুলোতে মই ছাড়া ওঠার উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, ব্রিজ থাকতেও পরিবারের কেউ বর্ষাকালে অসুস্থ হলে নৌকায় করে আর শুকনা মৌসুমে কাঠের চাঙ্গারি বা খাটকি তৈরি করে দুজন মিলে কাঁধে নিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, চারটি সেতুর দুপাশে শিবধরা বিল, ধলিকুড়ি বিল, টেংরাকুড়ি বিল, নবীন্নাকুড়ি বিল, জাহুর বিল ও আওইরা বিলে বিভিন্ন ফিশারি গড়ে উঠেছে। এই এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণির মানুষ ওই রাস্তা ব্যবহার করেন। কিন্তু সেতু হলেও সড়ক না থাকায় মানুষ আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সুলতান মাহমুদ নামে স্থানীয় একজন বলেন, মাত্র দেড় থেকে দুই কিলোমিটার রাস্তার জন্য চারটি ব্রিজ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চেয়ারম্যান মেম্বারাও যদি গত ১৫ বছরে একটু একটু করে মাটি ফেলতেন তাহলে ব্রিজগুলো দিয়ে চলাচল করা যেত। এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে হালুয়াঘাট ও পাশের ফুলপুর উপজেলায় যেতে হয় আমাদের।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রায় ১৫ বছর আগে সেতুগুলো তৈরি করেছিল। তবে সেতুগুলো নির্মাণে নিয়ম ও ওয়াটার লেভেল মানা হয়নি। ফলে বন্যার সময় এগুলো তলিয়ে যায়।

ব্রিজের সঙ্গে সড়ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত বছরে যারা চেয়ারম্যান ছিলেন তারা অনেকবার রাস্তা বড় করতে মাটি দিয়েছেন কিন্তু বন্যার সময় আবার তা ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলে যে সাবমার্সিবল রাস্তা তৈরি করা হয় সেভাবে যদি এই রাস্তা তেরি করা যায় তাহলে হয়ত রাস্তা টিকবে।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ব্রিজগুলো কে বা কারা তৈরি করেছে কোনো ডকুমেন্ট আমাদের কাছে নেই। এছাড়া ব্রিজগুলো তৈরির সময় ওয়াটার লেভেল মেনটেইন করা হয়নি। ফলে বন্যার সময় এগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে ব্রিজগুলো মানুষের কাজে লাগানো যায়।

দেশজুড়ে বিভাগের আরো খবর
আজও চাঁদপুরের ১৫টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে

আজও চাঁদপুরের ১৫টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে

বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেকর্ড টোল আদায়

বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেকর্ড টোল আদায়

বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে ইউপি সদস্য নিহত

বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে ইউপি সদস্য নিহত

এক বোটায় ধরেছে ৭ লাউ!

এক বোটায় ধরেছে ৭ লাউ!

চলছে বিজিবির টহল, তবুও যাত্রী নিয়ে ছাড়লো ফেরি

চলছে বিজিবির টহল, তবুও যাত্রী নিয়ে ছাড়লো ফেরি

বাকির টাকা চাওয়ায় সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দোকানির

বাকির টাকা চাওয়ায় সংঘর্ষ, প্রাণ গেল দোকানির